খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল হাসপাতাল কর্মীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম
ফরিদপুরে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল হাসপাতাল কর্মীর

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শব্দে আজাহারুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গি এলাকায় (সিঅ্যান্ডবি ঘাট সংলগ্ন মাঠে) এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত আজাহারুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তিনি ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহকর্মী কাওসার হোসেন জানান, “আজাহারুল ভাই ও আমি একই সঙ্গে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে কাজ করি। শুক্রবার বিকেলে তার ডিউটি ছিল। কিন্তু দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শব্দে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ করে আকাশ মেঘলা হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি। এমন পরিস্থিতিতে আজাহারুল ইসলাম মাঠে থাকা গরু আনতে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা মাঠে গিয়ে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার (ইনচার্জ) রাজকুমার বিশ্বাস বলেন, “ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তিনি গরু আনতে মাঠে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে মাঠে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বজ্রপাতের শব্দে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

এদিকে, আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, আজাহারুল ইসলাম অত্যন্ত ভদ্র ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল শনিবার ঈদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
চাঁদ দেখা গেছে, কাল শনিবার ঈদ

দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা জানায় প্রশাসন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এ জন্য শনিবার ঈদ। বলা হয়, শাওয়াল মাস গণনা অনুযায়ী পূর্ণ ৩০ রোজা শেষে শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের প্রতিটি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। মুসল্লিরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

এছাড়া গত ১৮ মার্চ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বৃহস্পতিবার পবিত্র রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে এবং শুক্রবার (২০ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়।

সূত্র : চ্যানেল২৪

বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম
বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

বছর ঘুরে আবার এলো ঈদ। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ ঢাকায় থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন, আবার কেউ যাবেন নিজ জেলায়, সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের ঈদে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠেয় এই জামাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর যমুনায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ যোগ দিতে পারেন।

সকালে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায়ের পর এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে জিয়ারত করবেন দলটির নেতারা। এরপর অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এদিকে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। কেউ ঢাকায় থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, আবার অনেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকবেন। তার সঙ্গে রাজধানীতে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান এবং সমাজল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় যাবেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে, আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ঈদ উদযাপন করবেন।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে থাকবেন এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকাতেই ঈদের সময় কাটাবেন।

তবে এবারের ঈদে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দেশে দেখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও দেশের বাইরে চিকিৎসার কারণে ঈদের সময় দেশে থাকছেন না।

রাজধানীতে আরও থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তারা ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলার নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লার মুরাদনগরে, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া সিলেটে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং লক্ষ্মীপুরে থাকবেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ ঢাকায় এবং অন্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

ফরিদপুরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
ফরিদপুরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মো. লুৎফর রহমান (৪৬) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মধ্য আড়পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফর রহমান আড়পাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন পরিশ্রমী কৃষক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন লুৎফর রহমান। আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। বজ্রাঘাতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামান বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লুৎফর রহমান একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির মো. তাইজুর রহমান বলেন, “বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর আমরা মৌখিকভাবে পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে খোলা মাঠে কাজ করার ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা পানির কাছে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা বেড়ে যায়, যা গ্রামীণ কৃষকদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।