খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হযরত শাহসূফী আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের (রহ.) ৪৮তম বাৎসরিক ওরশ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামে অবস্থিত ডক সাহেবের কেন্দ্রীয় দরবার শরীফে গিয়ে পুলিশ ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই দরবার শরীফের নিয়ন্ত্রণ ও ওরশ পরিচালনা নিয়ে তার দুই পুত্র ওবায়দুর রহমান মুন্সী ও সিরাজুল ইসলাম মুন্সীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ওবায়দুর রহমান মুন্সীর মৃত্যুতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ​

এ বছর ওবায়দুর রহমানের পুত্র ও দরবার শরীফের বর্তমান পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) ওরশ আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে তার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি ৫ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ওরশের ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া​ চলতি বছর ওরশের নির্ধারিত সময়ে পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীও রোজা রেখে ওরশ না করার পক্ষে মতামত দেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ওরশের অনুমতি প্রদান করেনি।

​​দরবার শরীফের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) অভিযোগ করেন, ‘আমার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি অবৈধ ও দখলদারি কায়দায় নিজেকে পরিচালক দাবি করে এই আয়োজন করেছিলেন। তাকে এই কাজে সহায়তা করছেন চাচাতো ভাই রিয়াজ মুন্সি ও দরবার শরীফের খাদেম ওমর মৃধা। আমার পিতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, মামলা চলছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কমিটির কোনো রেজুলেশন ছাড়াই তাদের এই আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ।’

​অন্যদিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল হক মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আমরা ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এসে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।’

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ​’প্রশাসনের কোনো পূর্বানুমতি না থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৩ এএম
ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ও মুকিম তথা নিজ বাড়িতে অবস্থানকারী প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রোজার বিধান সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)।

অন্য এক আয়াতে এসেছে, ‘অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময়ে পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

এ মাসে রোজা রাখলে যেমন অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে, তদ্রূপ রোজা না রাখলেও রয়েছে ভয়াবহ শাস্তির আশঙ্কা। রমজান মাসে রোজা পরিত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। রমজান মাসে রোজার প্রতিদান বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই দশগুণ থেকে সাতশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজা ছাড়া। কেননা তা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য কামাচার ও পানাহার পরিত্যাগ করে। রোজা পালনকারীর জন্য রয়েছে দুটি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন রোজার বিনিময়ে আনন্দিত হবে। রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪)। তিনি আরও বলেছেন যে, প্রত্যেক আমলেরই কাফফারা আছে। রোজা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি: ৭৫৩৮)।

রোজার বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।’ (ইবন খুজাইমা: ১৮৮৭)। আরেক হাদিসে এসেছে, রোজা ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভেঙে না ফেলে।’ (নাসাঈ: ২২৩৫, মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯০)। এখানেই শেষ নয়, রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)। তিরমিজি শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (তন্মধ্যে একজন হলো) রোজা পালনকারী ব্যক্তি, যতক্ষণ না ইফতার করে।’ (তিরমিজি: ৩৪৯৮)।

এ তো গেল অধিক ফজিলতের বর্ণনা। রমজান মাসে রোজা না রাখার ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুজন ব্যক্তি এসে আমার দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে যায়, যাদের পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এরা কারা?’ তারা বললেন, ‘এরা এমন রোজাদার, যারা (অকারণে রমজান মাসের) রোজা শেষ না করেই ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৫০৯)। অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও রোগ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলল, তার সারা জীবনের রোজা দ্বারাও এ কাজা আদায় হবে না, যদিও সে সারা জীবন রোজা পালন করে।’ (তিরমিজি: ৭২৩)।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রোজা রাখার তওফিক দান করুন।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

 

পবিত্র রমজানে পাপে জড়ালে কী ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলে

মাওলানা আবদুল হাকিম
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ এএম
পবিত্র রমজানে পাপে জড়ালে কী ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলে

জীবনের সব ধরনের পাপ থেকে পরিশুদ্ধতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ রমজান। পবিত্র এ মাসে মহান রবের ইবাদত-উপাসনায় আলোকিত হয় মুমিনের জীবন। সফল তো তারাই, যারা অতীতের পাপমোচন করাতে পারে অবারিত রহমত অর্জনের এ মাসে। তবে ব্যর্থ তারা, যারা রমজান মাস পেয়েও নিজের পাপমোচন করাতে পারে না।

রোজা রেখেও পাপে জড়ানোর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এদের ব্যাপারে স্বয়ং জিবরাইল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী কারিম (সা.) রাহমাতুল্লিল আলামিন হয়েও ‘আমিন’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববীর মিম্বারের একেকটি সিঁড়িতে পা রাখার সময় ‘আমিন আমিন আমিন’ তিনবার বলেছিলেন। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আজকে এমন একটি কাজ আপনি করলেন, যা কখনো করতে দেখিনি। এর কারণটা কী? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, কী বিষয়ে? সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি ‘আমিন আমিন আমিন’ তিনবার বললেন। তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, আমি যখন মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেয়েও (তাদের খেদমত করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি তাকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’ (হে আল্লাহ কবুল করো)। অতঃপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি তাকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’। হজরত জিবরাইল (আ.) আবারও বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার কাছে আমার নাম আলোচিত হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়ল না। আমি তার বক্তব্যকে সমর্থন করে বললাম ‘আমিন’। (ইবনে হিব্বান: ৯০৮; আল-আদাবুল মুফরাদ: হাদিস ৬৪৬)

অথচ আমাদের যেন বিকার নেই। ভাবনা নেই। রমজান মাস পেয়েও লাগামহীন পাপে বিভোর অনেকে। বড় আক্ষেপের বিষয়, এ পবিত্র মাসেও ভেসে আসে গান-বাজনার আওয়াজ। কেউ কেউ প্রকাশ্যে পানাহার করে বেড়ায়। নামাজ-রোজার কথা ভুলে গিয়ে চলে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা। অবসরতা কাটাতে কোথাও জমে ওঠে জুয়া ও আড্ডার আসর। এসব রমজানের পবিত্রতা ও মহত্ত্বকে ধ্বংস করে। কেউ দিনভর রোজা রাখে, আবার গিবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা কথাসহ বিভিন্ন পাপ কাজেও লিপ্ত থাকে। এমন ব্যক্তির ভাগ্যে শুধু ক্ষুধাই জোটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কত রোজাদার আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।’ (ইবনে মাজা: ১৬৯০)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদানুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি: ১৯০৩)

পাপের উপসর্গ নিয়ে বেড়ে উঠেছে যার জীবন, অন্যায়ের প্রবণতা মিশে আছে রক্ত কণিকায়, পবিত্র রমজান মাসেও যে ব্যক্তি পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারছে না—তার উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনায় মনোনিবেশ করা। কেননা দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার। যেভাবে আল্লাহ শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ করেন, সেভাবেই তিনি আত্মার ব্যাধির প্রতিকার করেন। আল্লাহর দরবারে ঝরা অশ্রু, বৃথা যায় না কখনো। পাপের ভারে ন্যুব্জ বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন তিনি সাড়া দেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ডাকো আমায়, সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘কে তিনি যিনি আর্তের ডাক শোনেন, যখন সে তাকে ডাকে এবং কে তার দুঃখ দূর করেন!’ (সুরা নামল: ৬২)। পাপের আঁধারে নিমজ্জিত ব্যক্তির পক্ষে রাতারাতি পাপমুক্ত হওয়া দুষ্কর, এর জন্য চাই ধৈর্য ও অবিরাম চেষ্টা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে, আল্লাহ তার পথ খুলে দেন। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত: ৬৯)

পাপের আনন্দ শেষ হয়ে থেকে যায় এর অশুভ পরিণাম। ইবাদতের কষ্ট শেষ হয়ে থেকে যায় এর শুভ পরিণাম। তাই পাপের শাস্তি ও এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে চিন্তার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়া সহজ। আখেরাতের অপেক্ষমাণ কঠিন আজাব ছাড়াও এ পৃথিবীতে পাপের নগদ শাস্তি হলো—দুঃখ, দুর্দশা, অশান্তি, অস্থিরতা ও হতাশা। এ ছাড়া পাপের কারণে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার দূরত্ব তৈরি হয়; পাপী ব্যক্তি থেকে তার রহমতের দৃষ্টি উঠে যায়। তারা বিপদাপদ ও বিপর্যয়ে আপতিত হয়, দুরারোগ্য রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং রুজিরোজগারের সংকটে জর্জরিত হয়। গুনাহ যেমনভাবে মানুষের শারীরিক কষ্ট ও শাস্তির কারণ, তেমনিভাবে তা আত্মিক রোগব্যাধিরও কারণ। কারও থেকে একটি গুনাহ সংঘটিত হলে সেটি আরেকটি গুনাহতে লিপ্ত হওয়ার কারণ হয়। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, গুনাহের একটি নগদ শাস্তি হলো, এর দ্বারা সে আরেকটি গুনাহের শিকার হয়। অনুরূপভাবে নেক কাজের একটি নগদ পুরস্কার হলো, একটি নেক কাজ আরেকটি নেক কাজের দিকে টেনে নেয়। (মায়ারেফুল কোরআন: ৭/৭০১)।

রমজানে অভিশাপ্ত শয়তানকে বন্দি করে রাখা হলেও প্রত্যেকের সঙ্গে ‘নফসে আম্মারা’ কিন্তু ঠিকই রয়েছে, যা মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতি আহ্বান করে। তাই সব ধরনের গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে, বিশেষত দৃষ্টি হেফাজত করতে হবে।

রমজান সংযমের মাস, সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। কিন্তু আমরা রমজানের এ বার্তাকে ভুলে গিয়ে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ পরিহার করে সেহরি ও ইফতারে এতটাই ভোজনবিলাসী হয়ে উঠি—যা রমজানের সংযম, সাধনা ও ত্যাগের বার্তাকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কুপ্রবৃত্তি দুর্বল না হয়ে আরও হিংস্র ও পাশবিক হয়ে ওঠে। কাম, লিপ্সা, মোহ আরও বেড়ে যায়। সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত না হয়ে আরও নিস্তেজ হয়ে যায়।

রমজানে গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে সৎ সঙ্গ গ্রহণ করতে হবে। কেননা মানুষ পাপ কাজে অসৎ সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকতে সৎ ও ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। মহানবী (সা.) ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তুমি মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোকে খায়।’ (আবু দাউদ: ৪৮৩২)।

আমাদের সবার মনে সর্বদা এ চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে—প্রতিমুহূর্তে আমরা যা করছি আল্লাহতায়ালা তা দেখছেন। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখেন।’ (সুরা হুজরাত: ১৮)। আর এভাবে আল্লাহর ধ্যান দিলে জাগরূক রাখতে পারলেই পাপমুক্ত জীবনযাপন সম্ভব। তখন কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না, একে অন্যের হক নষ্ট করবে না। আল্লাহতায়ালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করবে না এবং যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্ত হবে না। এরই নাম তাকওয়া। রহমতের এ বসন্তকালে আসুন আমরা খোদাভীতি অর্জন করি এবং নিজেদের পাপকর্মের জন্য খাঁটি মনে তওবা করে ভবিষ্যতেও যাবতীয় পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করে একটি পুণ্যময় রমজান কাটাই। তবেই অনিন্দ্য সুন্দর হবে আমাদের ইহকাল-পরকাল।

লেখক: ইমাম ও খতিব

 

ফাল্গুনেও শীতের ছোঁয়া, ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৬ এএম
ফাল্গুনেও শীতের ছোঁয়া, ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

ফাল্গুন মাসের শেষভাগে এসেও আবারও শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জেলার চারপাশের প্রকৃতি।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো ছিল পুরো ফরিদপুর, ফলে সকালবেলার পরিবেশে নেমে আসে এক ধরনের শীতল আবহ।

ভোর থেকে আকাশ ও প্রকৃতি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মাঠ, নদী, গাছপালা এবং ঘরবাড়ি সবকিছু যেন সাদা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। টুপটাপ করে পড়তে থাকে শিশির। কুয়াশা ও শিশিরে ভেজা ঘাস আর গাছের পাতায় তৈরি হয় মনোরম দৃশ্য। অনেকেই বলছেন, দৃশ্যটি যেন নতুন করে শীত ফিরে আসারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সকাল ৭টা পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ফলে সড়কপথে চলাচল করা যানবাহনের চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

এদিকে কুয়াশার কারণে ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন। কৃষক ও দিনমজুরদেরও কাজে বের হতে দেরি করতে দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ থাকলেও হঠাৎ করে এমন কুয়াশা তৈরি হওয়ায় আবারও শীতের অনুভূতি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফাল্গুন মাসে এমন কুয়াশা খুব বেশি দেখা যায় না। তবে গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে মাঝে মাঝেই সকালে কুয়াশা পড়ছে।

এর আগে ১৮ ফাল্গুন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালেও একইভাবে কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল ফরিদপুরের প্রকৃতি। সেদিনও সকালবেলা ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে কিছুটা ধীরগতি দেখা গিয়েছিল।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্য ও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে ভোরবেলায় কুয়াশা তৈরি হতে পারে। তবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে গিয়ে স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরে আসে।

ফরিদপুরে ফাল্গুনের এমন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল অনেকের কাছেই প্রকৃতির ভিন্ন এক সৌন্দর্য নিয়ে এলেও, সড়কপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।