খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘাস মারা বিষপান করা এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

মৃত যুবকের নাম রুবেল ফকির (২০)। তিনি উপজেলার বোড়ইপাড়া গ্রামের নুরু ফকিরের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় বাবা নুরু ফকির ছেলেকে বকাঝকা করেন। বিষয়টি নিয়ে অভিমান করে রুবেল বাড়িতে থাকা কৃষি জমিতে ব্যবহৃত ঘাস মারা বিষ পান করেন।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

পরে একই দিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রুবেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিষক্রিয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ হাসপাতাল মর্গে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

হোটেলকক্ষে গোপন ক্যামেরা? মোবাইল দিয়ে শনাক্ত করবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
হোটেলকক্ষে গোপন ক্যামেরা? মোবাইল দিয়ে শনাক্ত করবেন যেভাবে

ভ্রমণে বের হলে হোটেলে থাকা অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু হোটেলকক্ষে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখা যে কতটা জরুরি, তা সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন দেশে এমনকি আমাদের দেশেও হোটেল রুমে লুকানো গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণের ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু গোপনীয়তা নয়, এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভ্রমণে নিশ্চিন্তে থাকার আগে সতর্ক থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

অনেকে মনে করেন, এসব গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে স্মার্টফোনই হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। হাতে থাকা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট, ক্যামেরা বা বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করেই সহজে গোপন ক্যামেরা চিহ্নিত করা সম্ভব। এমনকি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও অনেক সময় লুকানো ক্যামেরার খোঁজ পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে বের হলে সামান্য কিছু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে গোপন ক্যামেরার লেন্স খুঁজে পাওয়া সম্ভব। লুকানো ক্যামেরার লেন্স থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। এজন্য কক্ষের সব আলো বন্ধ করে ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর এয়ার ভেন্ট, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ঘড়ি বা আয়নার মতো জায়গায় আলো ফেলতে হবে। আলোয় যদি ক্ষুদ্র প্রতিফলন বা লেন্সের মতো কিছু দেখা যায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

ক্যামেরার মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত

গোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত অতি লাল বা ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। এজন্য কক্ষের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা চালু করে সন্দেহজনক স্থানগুলো স্ক্যান করতে হবে। ক্যামেরার স্ক্রিনে ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু বা ঝলক দেখা গেলে সেটি ইনফ্রারেড আলো হতে পারে, যা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ক্যামেরা শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার

বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা সম্ভব। এসব অ্যাপ ইনফ্রারেড আলো, চৌম্বকক্ষেত্র বা অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রুমের সন্দেহজনক স্থানে পরীক্ষা করলেই সম্ভাব্য লুকানো ক্যামেরা ধরা পড়তে পারে।

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্ত

অনেক গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। স্মার্টফোন দিয়ে রুমের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্রগুলোর তালিকা দেখতে হবে। তালিকায় যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক নামের ডিভাইস যেমন আইপি ক্যামেরা বা ক্যামেরা দেখা যায়, সেটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভ্রমণের সময় হোটেলে ওঠার পর শুধু আরামের কথা না ভেবে নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য সচেতনতা আপনাকে অস্বস্তিকর এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকেও রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা, ‘আগমনী বার্তা’র ১ লাখ ফলোয়ার উদযাপন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা, ‘আগমনী বার্তা’র ১ লাখ ফলোয়ার উদযাপন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জনপ্রিয় ফেসবুকভিত্তিক সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘আগমনী বার্তা’ এক লাখ ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করায় পেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন সোহাগ মাতুব্বরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন উপজেলার কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভাঙ্গায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাফেজ মাহমুদ, সোহেল রানা, তুহিন মুন্সী, সাগর মাহমুদ ও রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম, রেজাউল শেখ, সোহাগ মোল্লা, জিয়া শিকদার, ফারুক তালুকদার, হারুন-অর-রশীদ তালুকদার, সুমন মোল্লাসহ উপজেলার বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তথ্যপ্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে সমাজকল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা গ্রহণকালে ‘আগমনী বার্তা’ পেজের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন সোহাগ মাতুব্বর বলেন, “এক লাখ ফলোয়ার অর্জন আমার একার সাফল্য নয়। এটি আমার সকল দর্শক, ফলোয়ার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সহকর্মীদের ভালোবাসা ও আস্থার ফল। ভবিষ্যতেও ভাঙ্গার মানুষের কথা, স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ইতিবাচক সংবাদ তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের শেষে সংবর্ধনা স্মারক প্রদান, কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

আন্তর্জাতিক ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির দীর্ঘ কয়েক মাসের সফর শেষে এবার নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট থেকে লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উজবেকিস্তানের বুখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। উজবেকিস্তানে পৌঁছানোর পর, তিনি পবিত্র বুখারী শরীফের রচয়িতা হযরত ইমাম বুখারী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সমরকন্দে গমন করবেন। উজবেকিস্তানে তিন দিন অবস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

​উজবেকিস্তান সফর শেষে তিনি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাত্রা করবেন। এই সফরের একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে—ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আবি আহমেদের পিতা, মরহুম আলী আহমেদের কবর জিয়ারত করা।

উল্লেখ্য, মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বিরের জীবনে মরহুম আলী আহমেদের অবদান অপরিসীম; তিনি এক সময় নিজের জীবন বাজি রেখে মাওলানা করিম ইবনে মছব্বিরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকার করেছিলেন। এই কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে যাচ্ছেন।

​মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।