খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

বর্তমান যুগে স্মার্ট টিভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড টিভি, যা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করে, তা দর্শকদের বিনোদন এবং কাজের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এখন, সিনেমা দেখা, গেমিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রিয় শো উপভোগ করা—সবকিছুই সহজে সম্ভব।

তবে, বাংলাদেশে অনেকেই কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, যা একদিকে বাজেটের মধ্যে থাকবে, অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্সও দেবে।

এই নিবন্ধে আমরা কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি মডেল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করবো।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কী এবং কীভাবে কাজ করে?

অ্যান্ড্রয়েড টিভি হলো এমন একটি স্মার্ট টিভি, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

এটি সাধারণ টিভির মতো দেখতে হলেও, এর মধ্যে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ফিচার থাকে, যেমন ইন্টারনেট সংযোগ, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, এবং আরও অনেক কিছু।

এর মাধ্যমে আপনি শুধু টিভি দেখাই না, বরং গেম খেলতে, ভিডিও কল করতে, এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয় Wi-Fi বা ইথারনেটের মাধ্যমে। এতে থাকা প্রসেসর এবং অপারেটিং সিস্টেম কনটেন্ট লোড করে, স্ক্রিনে প্রদর্শন করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।

আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড টিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি এবং সাউন্ডের গুণমান উন্নত করা হয়, যেমন HDR, 4K বা 8K রেজোলিউশন এবং AI-ভিত্তিক ফিচার যা আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে যা জানা জরুরি-

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

স্ক্রিন সাইজ: আপনার ঘরের আকার এবং দেখার দূরত্ব অনুযায়ী টিভির সাইজ নির্বাচন করুন। ছোট ঘরের জন্য ৩২ ইঞ্চি এবং বড় ঘরের জন্য ৫০ ইঞ্চির বেশি সাইজ উত্তম।

রেজোলিউশন: ৪কে UHD রেজোলিউশন আজকাল জনপ্রিয়, তবে কিছু সাধারন ৪কে মডেল এবং Full HD মডেলও ভালো পারফর্ম করে। ৪কে রেজোলিউশন বড় স্ক্রিনে বেশি কার্যকর।

অপারেটিং সিস্টেম (OS): অ্যান্ড্রয়েড টিভি সাধারণত গুগল প্লে স্টোর এবং স্মার্টফোনের মতো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমও থাকে, যেমন Samsung-এর Tizen বা LG-এর WebOS।

কানেক্টিভিটি: Wi-Fi, Bluetooth, HDMI পোর্ট—এই কানেক্টিভিটি পোর্টগুলো নিশ্চিত করুন যাতে আপনি অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করতে পারেন।

ফিচার: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, Dolby Vision, HDR, বা গেমিং মোডের মতো কিছু আধুনিক ফিচারও আপনার অ্যান্ড্রয়েড টিভির পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা ব্র্যান্ড ও মডেলসমূহ

বাংলাদেশের বাজারে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভির জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় এবং উন্নত ব্র্যান্ডের মডেল পাওয়া যায়। নিচে সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং তাদের মডেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. হায়ার H32K85FX ৩২ ইঞ্চি HD গুগল টিভি
মূল্য: ২০,০০০ – ২৬,৯০০ টাকা

বিশেষত্ব:

Google TV অপারেটিং সিস্টেম: সহজ ও স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস, গুগল প্লে স্টোর সাপোর্ট।

৩২ ইঞ্চি HD ডিসপ্লে: ছোট ও মাঝারি রুমের জন্য উপযোগী।

Dolby Audio: পরিষ্কার ও শক্তিশালী সাউন্ড কোয়ালিটি।

Google Assistant ও Chromecast: ভয়েস কন্ট্রোল ও মোবাইল থেকে কনটেন্ট কাস্ট করার সুবিধা।

এই টিভিটি কম বাজেটে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড/গুগল টিভি অভিজ্ঞতা দেয়। যারা প্রথমবার স্মার্ট টিভি কিনতে চান বা বেডরুমের জন্য ভালো একটি টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন।

২. তোশিবা 32V35KP ৩২ ইঞ্চি HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ২৬,৯৯০ – ২৯,২৮০ টাকা

বিশেষত্ব:

Android TV: নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, প্রাইম ভিডিও প্রি-ইনস্টল।

Dolby Digital সাউন্ড: উন্নত অডিও অভিজ্ঞতা।

Bluetooth 5.0 ও Wi-Fi 5: দ্রুত কানেক্টিভিটি।

অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি: ৩ বছরের পার্টস, প্যানেল ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাবেন রায়ান্সে।

তোশিবা একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্সের কারণে এটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য একটি স্মার্ট টিভি পছন্দ।

৩. হাইসেন্স 43A4F4 ৪৩ ইঞ্চি Full HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ৩২,০০০ – ৩৪,৭২০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪৩ ইঞ্চি Full HD ডিসপ্লে: বড় স্ক্রিনে পরিষ্কার ও শার্প ভিজ্যুয়াল।

Android TV: গুগল প্লে স্টোর ও জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপ সাপোর্ট।

Dolby Digital ও DTS Virtual X: শক্তিশালী সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স।

Game Mode ও Sports Mode: গেমিং ও স্পোর্টস দেখার জন্য উপযোগী।

যারা কম দামে বড় স্ক্রিনের অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য হাইসেন্স 43A4F4 একটি চমৎকার ভ্যালু-ফর-মানি অপশন।

৪. স্যামসাং BU8000 ৪৩ ইঞ্চি 4K স্মার্ট টিভি
মূল্য: ৩৫,০০০ – ৩৭,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD রেজোলিউশন: Crystal Clear ও ডিটেইলড ছবি।

Tizen OS: দ্রুত ও স্মুথ স্মার্ট টিভি পারফরম্যান্স।

HDR10+ ও Motion Xcelerator: উন্নত ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি।

Alexa, Google Assistant ও Bixby সাপোর্ট।

যদিও এটি অ্যান্ড্রয়েড টিভি নয়, তবে কম দামে ৪কে কোয়ালিটি ও প্রিমিয়াম স্মার্ট ফিচার চাওয়ার জন্য স্যামসাং BU8000 একটি শক্তিশালী অপশন।

৫. সনি ব্রাভিয়া KD-43X75K ৪৩ ইঞ্চি 4K অ্যান্ড্রয়েড টিভি (আনঅফিশিয়াল)
মূল্য: ৫১,৬০০ – ৬০,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD ডিসপ্লে ও X1 প্রসেসর: অসাধারণ ছবি ও কালার একুরেসি।

TRILUMINOS PRO: জীবন্ত ও প্রাকৃতিক রঙ।

Android TV: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও Chromecast বিল্ট-ইন।

Motionflow XR: স্মুথ ভিডিও ও স্পোর্টস ভিউইং।

সনি ব্রাভিয়া টিভি তার ছবি ও প্রসেসিং কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত। যারা প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড টিভি চান এবং বাজেট একটু বেশি, তাদের জন্য এটি আদর্শ। বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার বাজেট, স্ক্রিন সাইজ এবং ব্যবহার অনুযায়ী প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে।

বর্তমানে হায়ার, তোশিবা, হাইসেন্স, সনি এবং স্যামসাং—এই ব্র্যান্ডগুলো কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত ভালো মানের স্মার্ট ও অ্যান্ড্রয়েড টিভি অফার করছে। যারা কম বাজেটে স্মার্ট টিভি চান, তাদের জন্য Haier ও Toshiba ভালো অপশন। বড় স্ক্রিন ও ভ্যালু-ফর-মানি খুঁজলে Hisense একটি চমৎকার পছন্দ। আর উন্নত ছবি, স্মার্ট ফিচার ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য Sony Bravia এবং Samsung টিভি ব্যবহারকারীদের নিরাশ করবে না।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্ট টিভির আধুনিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই অনলাইন স্ট্রিমিং, গেমিং এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর