খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

সানজানা চৌধুরী
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশই তরুণ। জয়-পরাজয়ে তাদের ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীরও নজর তরুণদের ভোটে। সেই ভোট নিজেদের বাক্সে ফেলতে নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে দলগুলো।

নতুন এই ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই, তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

দশ বছর আগে ভোটার হয়েছেন তুনাজ্জিনা জাহান। ভোটার হওয়ার পর আওয়মী লীগের শাসনে দুটি একতরফা, বিতর্কিত নির্বাচন দেখেছেন মিজ জাহান; ভোটকেন্দ্রেই যাননি তিনি।

এখন এই তরুণীর বয়স আঠাশ বছর। বয়স অনেকটা এগিয়ে গেলেও এবার নতুন ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।

প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার অপেক্ষায় এখন তুনাজ্জিনা জাহান।

তিনি বলছিলেন, যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিবে, তাদের বাক্সেই ব্যালট ফেলবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বিএনপি ও তাদের পুরোনো জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিও রয়েছে ভোটের মাঠে। তারা অবশ্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে শরিক হয়েছে।

রাজনীতির নতুন বিন্যাসে তরুণদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটা আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে না বলে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে তাদের ধারণা, তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত জয়-পরাজয়ের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।

কোন বাক্সে তরুণ ভোট

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, বড় একটি অংশের তরুণ ভোটার গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।

ফলে অনেক তরুণের কাছেই এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের দৃশ্যমান ভূমিকা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় তরুণ ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সেইসাথে তারা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। এছাড়া তারা দ্রুত মত বদলাতে সক্ষম এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

তাই এই তরুণরা কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও আগেভাগে বলা যাচ্ছে না। তাদের মন বোঝা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র বা ইতিহাসের ভূমিকা অস্বীকার না করলেও তরুণদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আগামীতে তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঋদ্ধি দাস জানান, “আমি অতীত দেখলে প্রার্থীর অতীত দেখবো। তারা আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো পূরণ করেছে কিনা। কথার সাথে কাজের মিল আছে কিনা। ভবিষ্যতে তারা আমাদের জন্য কী করবে সেটাকেই আমি প্রাধান্য দিব।”

মূলত, কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে, শিক্ষা কতটা কর্মমুখী হবে, দক্ষতা কিভাবে বাড়বে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা জবাবদিহিমূলক হবে, মতপ্রকাশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেইসাথে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান- এই বিষয়গুলো তরুণদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থান, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখার দিকেই তরুণদের নজর থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “তরুণদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। এর বাইরে যে তরুণ জনগোষ্ঠী আছে তারাও হাওয়া বদলে দিতে পারে। তাই বলা মুশকিল তরুণরা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে”।

শহর ও গ্রামের তরুণদের চালচিত্র

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে তরুণরা দল ও প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, মতামত জানাচ্ছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এবারে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আগ্রহী তুনাজ্জিনা জাহান বলেন, “আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একজন প্র্থীর সবটা জানতে পারছি। তার পারসোনাল লাইফে কেমন, তার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় কিনা। যে প্র্থী তরুণদের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেবে, যার ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লিন আমি তাকেই ভোট দেবো। সে যে দলেরই হোক।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ ভোটারদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত এখনও ভিন্ন বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সেখানকার তরুণ তরুণীদের বড় অংশ পরিবারের প্রবীণ সদস্য, স্বামী, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তের পথেই চলেন।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ২০ বছর বয়সী শারমিন আক্তার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। কিন্তু কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

তিনি বলেন, “ভোট কিভাবে দিতে হয়, আমি তো জানি না। কাকে ভোট দেয়া লাগবে বলতে পারি না। দেখি আমার বাবা মা কি বলে। দশজন যাকে ভোট দিবে আমি তাকেই দিবো।”

তরুণদের নিয়ে বিএনপির কৌশল

দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে ফিরেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি এবার গুরুত্ব দিচ্ছে ইতিবাচক রাজনীতি ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিশ্রুতির ওপর।

গত ২৫ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক আচরণে একটি ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং করে জনভোগান্তি না বাড়ানো, প্রতিশোধ ও কটূক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করার কথা বলছে দলটি।

তরুণ ভোটারদের টানতে বিএনপি স্লোগানও ঠিক করেছে, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক।” এই লক্ষ্য সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতারাও তরুণদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি বিএনপি, তবে দলটি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর কথা জানিয়েছে।

পাশাপাশি আইটি পার্ক ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিস স্পেস বরাদ্দ, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে বিএনপি।

তরুণদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দলটি তাদের ভ্যারিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত থিম সং, ফটো কার্ড, ভিডিও ও রিলস প্রকাশ করছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন কোনোভাবেই অপপ্রচার, গুজব বা ‘অপরাজনীতির’ হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েই দলের মূল নজর বলে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি কোনো অপতথ্য, অপপ্রচার বা চরিত্রহননের সঙ্গে থাকবে না। আমরা দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। দলের ভালো দিক, নীতি ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরাই বিএনপির লক্ষ্য। তরুণদের কাছে আমাদের বার্তা, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বাস্তবসম্মত সংস্কার চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাসও তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে দলটির দিকে আকৃষ্ট করতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

সাম্প্রতিক বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক চাপে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

ভোটের প্রচারে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাধান্য দেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে।

দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি তাদের পলিসি ডায়ালগে তরুণদের জন্য দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ, ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ গঠন, জেলা পর্যায়ে জব ইয়ুথ ব্যাংক গঠন, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা।

জামায়াতে ইসলাম মূলত কল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে দলটির নারী নীতি এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভীতি ও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এনসিপির বড় ভরসা তরুণদের ভোটে

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের অংশ নিতে যাচ্ছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের বড় অংশই তরুণ। ফলে তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণদের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও লাইভ কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি।

র‍্যাপ, ফোক ও আধুনিক সুরের মিশ্রণে থিম সং, শর্ট ভিডিও ও লাইভ কনটেন্ট ও রিলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেন–জি প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, “আমরা গণভোটে হ্যা এর পক্ষে আর শাপলা কলি নিয়ে দুটো থিম সং করেছি। এই দুটো গান নিয়ে রিলস কম্পিটিশন করা হবে যেন তরুণদের মুখে মুখে গানটা থাকে। আর ৩০টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা ভিডিও করে সোশ্যার মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেন তরুণরা ‌আমাদের বিষয়ে জানতে পারে।”

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, ইশতেহারে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কর্মমূখী শিক্ষা, বেকার ভাতা, নিরাপত্তা এমন নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা আর শুধু একটি ভোটব্যাংক নয়। তারা রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা