খুঁজুন
, ,

গণঅভ্যুত্থানের পর কতটা স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
গণঅভ্যুত্থানের পর কতটা স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম?

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারকে উৎখাত করেনি—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং তথ্যপ্রবাহের কাঠামোকেও আমূল পরিবর্তন করেছে।

ছাত্র, শ্রমিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যেমন রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা করেছে, তেমনি সংবাদমাধ্যমও এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে—যেখানে ভয়, নীরবতা ও প্রচারযন্ত্রের জায়গা নিচ্ছে প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি।

এই প্রতিবেদনে আমরা তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেছি অভ্যুত্থানের আগে ও পরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বয়ান, টোন, কাভারেজ ও সেন্সরশিপের ধরন, এবং অনুসন্ধান করেছি—স্বাধীনতার পরিধি কতটা বেড়েছে, আবার কোন কোন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

১. অভ্যুত্থানের আগে: ভয়, নিয়ন্ত্রণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের যুগ

জুলাই ২০২৪-এর পূর্ববর্তী সময় ছিল বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি।

আইনি নিপীড়ন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) এবং পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হতো সাংবাদিক, লেখক ও নাগরিকদের দমন করতে।

সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ: বড় মিডিয়া হাউসগুলো রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ছিল, ফলে সরকারবিরোধী বক্তব্য বা দুর্নীতির খবর প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: অসংখ্য সাংবাদিক হয়রানি, গ্রেফতার বা মামলার মুখোমুখি হন; এর ফলে স্বতঃস্ফূর্ত আত্মনিয়ন্ত্রণই হয়ে ওঠে নিরাপত্তার একমাত্র কৌশল।

ফলে সংবাদমাধ্যম হয়ে পড়ে এক রঙের বয়ানমাধ্যম—যেখানে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা ছিল অপরাধের শামিল, আর নাগরিক প্রতিবাদগুলোকে উপস্থাপন করা হতো ‘অরাজকতা’ হিসেবে।

২. বাঁকবদল: জুলাই অভ্যুত্থান ও তথ্যনিয়ন্ত্রণের পতন

২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন ছাত্র-জনতার ঢেউ রাস্তায় নেমে এলো, তখন রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কাঠামো প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

ফেসবুক, ইউটিউব, ও টেলিগ্রাম হয়ে ওঠে নাগরিক সংবাদমাধ্যমের মূল মঞ্চ

মেইনস্ট্রিম টিভি ও পত্রিকা যখন নীরব, তখন হাজারো তরুণ সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন রাজপথ থেকে।

#StudentRevolution এবং #BangladeshUprising হ্যাশট্যাগে মিলিয়ন মানুষের ডিজিটাল উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় প্রচারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এই সময়েই শুরু হয় তথ্যের গণতন্ত্রীকরণ—যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে নাগরিকরাই হয়ে ওঠে তথ্যের মূল উৎস। তবে এর সাথে ছড়িয়ে পড়ে গুজব, বিভ্রান্তি ও একাধিক সত্যের সংঘাত, যা আজও বিদ্যমান।

৩. অভ্যুত্থানের পরের প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতা ফিরে এসেছে, তবে ভঙ্গুর

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি দেয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের।
এর ফলে কিছু বাস্তব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে—

ক. প্রত্যক্ষ সেন্সরশিপের হ্রাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি আইনি চাপ অনেক কমে গেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বাড়ছে, বিশেষ করে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ে।

খ. সম্পাদকীয় সাহসের প্রত্যাবর্তন

টকশো, সম্পাদকীয় ও মতামত কলামগুলোতে এখন মতের বৈচিত্র্য বেড়েছে। প্রধান সংবাদপত্রগুলো সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনাও প্রকাশ করছে উন্মুক্তভাবে।

গ. বিকল্প মিডিয়ার উত্থান

বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক নাগরিক সংবাদ উদ্যোগ, ইউটিউব টকশো ও স্বাধীন ডিজিটাল ম্যাগাজিন এখন নতুন আস্থার জায়গা তৈরি করছে।

তবে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও নীতিগত অস্পষ্টতা এখনো মিডিয়ার টেকসই স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা।

৪. স্থায়ী চ্যালেঞ্জ: অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোগত দুর্বলতা

নতুন স্বাধীনতার ভেতরেও কিছু গভীর সমস্যা রয়ে গেছে—

অর্থনৈতিক নির্ভরতা: অধিকাংশ মিডিয়া এখনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল।

আইনি সংস্কারের অভাব: কার্যকর তথ্য অধিকার আইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা না থাকায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সীমিত।

মেরুকৃত বয়ান: রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব মিডিয়া ন্যারেটিভ গড়ে ওঠায় যৌথ বাস্তবতা দুর্বল হচ্ছে।

ডিজিটাল হয়রানি: বিশেষত নারী সাংবাদিকরা এখনো অনলাইন হুমকি ও অপপ্রচারের মুখোমুখি।

অর্থাৎ, ভয় কমেছে ঠিকই, কিন্তু স্বাধীনতার মূল্য এখনো অনেক বেশি।

৫. প্রতিবাদ ও নাগরিক কণ্ঠের উপস্থাপন: আগে ও পরে

১২টি প্রধান বাংলা ও ইংরেজি মিডিয়ার (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর ২০২৪ বনাম আগস্ট–অক্টোবর ২০২৫) কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে—

সূচকঅভ্যুত্থানের আগেঅভ্যুত্থানের পরেপ্রতিবাদের খবরের হার৬%১৯%নাগরিক আন্দোলনের ইতিবাচক উপস্থাপন১৪%৬৩%সরকারি প্রেস রিলিজকে মূল উৎস হিসেবে ব্যবহার৪৮%২৩%স্বাধীন বিশেষজ্ঞ/একাডেমিক সূত্র ব্যবহার১২%৩৭%

এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বয়ানের বৈচিত্র্য বেড়েছে, যদিও তা এখনো প্রধানত শহরকেন্দ্রিক ও অভিজাতমুখী।

৬. ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ: মুক্তির পর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

গণঅভ্যুত্থানের পর সংবাদমাধ্যম একটি পুনর্গঠনের সময় অতিক্রম করছে।
এই স্বাধীনতাকে স্থায়ী করতে হলে প্রয়োজন—

একটি স্বাধীন প্রেস ফ্রিডম কমিশন, যা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবে।

মিডিয়া মালিকানার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

জনস্বার্থ তহবিল গঠন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত করা।

ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, যাতে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি মোকাবিলা করা যায়।

এভাবেই গণমাধ্যম স্বাধীনতা একক ঘটনা থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিতে পারে।

গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে—
ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু টেকসই হওয়ার জন্য এখনো সংগ্রাম করছে।

যেখানে আগে ছিল নীরবতা, এখন সেখানে প্রশ্ন আছে।
কিন্তু প্রশ্ন টিকে থাকার জন্য দরকার স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান, আর্থিক স্বচ্ছতা, এবং পেশাদার নৈতিকতার সংস্কৃতি।

স্বাধীনভাবে কথা বলাই যথেষ্ট নয় — এখন প্রয়োজন এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সত্য টিকে থাকতে পারে।

সূত্র : মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”