খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

আমাদের দেশের শীতকাল একদম জাদুর মতো। গরম বা আর্দ্র দিন শেষে ঠান্ডা, সতেজ বাতাস যেন সবাইকে আলিঙ্গন করে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সকালগুলো একদম সতেজ, সন্ধ্যাগুলো শান্ত এবং আউটডোর ভ্রমণ আনন্দময়।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শীতকাল মানে হলো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক আদর্শ সময়।

বাংলাদেশ তার ব্যস্ত শহর ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত হলেও, শীতকাল দেশের নরম, শান্ত এবং সুন্দর দিকটি দেখায়। কল্পনা করুন, অপরিসীম বালুকাময় সৈকতে হেঁটে যাচ্ছেন, নীল জলরাশি ঘিরে থাকা ছোট দ্বীপে বসে সূর্যাস্ত দেখছেন, বা টিলা ও সবুজ চা বাগান ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শীতকালে বাংলাদেশ তার সব সুন্দরত্ব প্রদর্শন করে, যা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসুর মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

আপনি চাইলে সমুদ্রের কাছে বিশ্রাম নেবেন, শান্ত দ্বীপের সফর করবেন, পাহাড়ি এলাকা ঘুরবেন বা প্রকৃতির মাঝে কিছু অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করবেন—সবই সম্ভব। চলুন দেখা যাক শীতকালে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের ৫টি সেরা জায়গা।

কক্সবাজার – বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে হেঁটে চলা
কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত হেঁটে বেড়ানোর জন্য একেবারেই উপযুক্ত।

শীতকালে এখানে ভ্রমণ করা দারুণ, কারণ গরম এবং আর্দ্রতা কমে যায়। সকালে হেঁটে বেড়ানো, সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা, আর সমুদ্রের হাওয়ায় বসে থাকা দারুণ আনন্দদায়ক। কক্সবাজারে শুধু সৈকত নয়, দেখার মতো আছে হিমচরি ন্যাশনাল পার্ক, লাবনী পয়েন্ট, এবং ইনানী সৈকত।

সফরের সাথে সঙ্গে স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার খাওয়াও মিস করা যাবে না। পরিবার, বন্ধু বা একা ভ্রমণকারী—সবাই এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে।

সেন্টমার্টিন – শান্ত দ্বীপে বিশ্রাম
যদি কক্সবাজার ব্যস্ত মনে হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপ হল শান্ত, স্বপ্নময় স্থান। ছোট্ট এই দ্বীপে নীল জলরাশি, বালুকাময় সৈকত এবং নারকেল গাছ দেখা যায়।

শীতকালে এখানে যাওয়া আরও আনন্দদায়ক হয়। সমুদ্র শান্ত থাকে, আবহাওয়া নরম হয়, আর বাইরে ঘোরার জন্য উপযুক্ত। এখানে জীবন একদম ধীরগতি। সাঁতার কাটতে পারেন, সৈকতে বসে পড়তে পারেন, বা শুধু সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।

এখানকার স্থানীয় জীবনও উপভোগ করতে পারেন। মাছ ধরার কাজ করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা, ছোট দোকানগুলোতে হস্তশিল্পের সামগ্রী পাওয়া যায়, আর প্রতিটি সূর্যাস্ত মনে হবে অনন্য। যারা শহরের হট্টগোল থেকে দূরে শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন একদম আদর্শ।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গল – চা বাগান ও সবুজ টিলা
উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল, তার চা বাগান, পাহাড় ও নদীর জন্য বিখ্যাত। শীতকালে ঘুরে বেড়ানো আরও আনন্দদায়ক হয়। সকালবেলার কুয়াশা চা বাগানকে স্বপ্নের মতো করে তোলে।

শ্রীমঙ্গল-এ, যা ‘দুই পাতা এবং একটি কুঁড়ি’ অঞ্চলের নামে পরিচিত, চা বাগান ঘুরতে পারেন, পাতা তোলা দেখার সুযোগ পাবেন এবং সরাসরি চা চেখে দেখতে পারবেন। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ। এ ছাড়াও লালকল নদী ও জাফলং নদী ও পাহাড়ের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

শীতকালে স্থানীয় খাবারও উপভোগ করতে পারেন। সিলেটের বাজারে তাজা ফল, মিষ্টি এবং স্বাদযুক্ত খাবার পাওয়া যায়। যারা প্রকৃতি, ছবি বা শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সিলেট ও শ্রীমঙ্গল একদম নিখুঁত।

সুন্দরবন – ম্যানগ্রোভ বন অভিযান
সুন্দরবন বাংলাদেশের সবচেয়ে অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী, খাল এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বন দিয়ে গঠিত। এটি বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণ সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ আবহাওয়া নরম এবং বোটে ভ্রমণ করা সহজ হয়।

সুন্দরবনে ভ্রমণ মানে এক নতুন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার। ছোট নৌকায় নদী ভ্রমণ, পাশে দাঁড়ানো পাখি দেখা, আর জলজ বৃক্ষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম।

যারা অ্যাডভেঞ্চার, বন্যপ্রাণী বা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য সুন্দরবন শীতকালের অসাধারণ গন্তব্য।

রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালি – পাহাড়, হ্রদ ও উপত্যকা
যদি পাহাড়ি এলাকা ঘুরতে চান, রাঙামাটি এবং সাজেক ভ্যালি আদর্শ। পাহাড়, উপত্যকা ও হ্রদে ঘেরা এই অঞ্চল শীতকালে আরও সুন্দর হয়।

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক। হ্রদের শান্ত জল পাহাড় ও বনকে প্রতিফলিত করে, যা চমৎকার ছবি তোলার সুযোগ দেয়। সাজেক ভ্যালি-তে ধোঁয়াটে পাহাড়ি দৃশ্য, বাঁকা রাস্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হস্তশিল্প উপভোগ করতে পারেন। শীতকালে সকালে হাওয়া ঠান্ডা ও সতেজ থাকে, যা হাইকিং বা দর্শনীয় স্থানে ঘোরার জন্য একদম উপযুক্ত।

শীতকালের ভ্রমণ
ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি

পরিবহন: ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা উড়োজাহাজে যাতায়াত সহজ

প্যাকিং: হালকা জ্যাকেট, হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো, সৈকতের জন্য সানস্ক্রিন

স্থানীয় সংস্কৃতি: উপজাতি এলাকা বা ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের সময় শিষ্টাচার মেনে চলা

শীতকালে বাংলাদেশে ভ্রমণ মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, স্থানীয় সংস্কৃতি জানা, আর স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা। কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকত হোক বা শ্রীমঙ্গল-এর সবুজ চা বাগান, সেন্টমার্টিনের শান্ত দ্বীপ হোক বা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, রাঙামাটি ও সাজেকের পাহাড় হোক—বাংলাদেশের শীতকাল আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাই ব্যাগ বানান, ক্যামেরা নিন, এবং বাংলাদেশের শীতকালীন সৌন্দর্য আবিষ্কার করুন।

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।