খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনভর চালানো এই অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অভিযানে ১৫ জনকে আটকের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

যদিও পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া গেছে যে, ব্যাপক আয়োজনে চালানো এই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

“আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি৷ আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব,” সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

অভিযানে যা যা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, লিংক রোডের উত্তর পাশে বিস্তৃত তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুর নামক এলাকাটি অবস্থিত।

পাহাড় কেটে বানানো এই খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাটি কার্যত ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ বাস করলেও তাদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র।

মূলত নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষরা কম খরচে বসবাসের জন্য এই এলাকায় বাস করেন। এর বাইরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি।

আজ ভোরেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাবের গাড়ি বহরের সাথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ভেতরে ছোটো কালভার্ট ভেঙ্গে রাখার পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাক আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক স্পিড ব্রেকার দিয়ে রাখা হয়েছে।

“এগুলো সরিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

এর আগে যৌথ বাহিনীর সদস্য একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে ভোরে অভিযান শুরু করেন। একই সাথে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় চেকপোস্ট।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার উদাহরণ থাকায় এবার সার্বক্ষণিক ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারির জন্য।

কিন্তু অভিযানে ওই এলাকায় সন্ত্রাসের জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল, তাদের কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেছে কি-না সে সম্পর্কে পুলিশের দিক থেকে কিছু জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জঙ্গল সলিমপুর আলোচনায় কেন

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া এলাকাটিতে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গত উনিশে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর দুশো জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও র‍্যাব তখন বলেছিল, এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ কিংবা রিদোয়ান গ্রুপ।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান তখন র‍্যাবের ওপর হামলার জন্য ইয়াসিন গ্রুপকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর-গফুর গ্রুপের হাতে এবং এরপর তা চলে যায় রোকন গ্রুপের হাতে।

অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করতো ইয়াসিন গ্রুপ। কিন্তু এই ইয়াসিন গ্রুপ সম্প্রতি রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‍্যাবের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলি হয় এবং ওই বছরই সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়। একই বছর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে আলীনগরের ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ওই বছরই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‍্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা বাঁওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এবং ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং জাতের মাছের পোনা টিটা বাঁওড়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা কারণে এসব মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। টিটা বাঁওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী রিফাত মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোটে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা এক যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যায়। নদীপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এ ঘটনা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বালুরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও এর চালককে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া চালক সঞ্জিব (২২) সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

স্পিডবোট চালক সঞ্জিব জানান, সন্ধ্যার আগে তিনি গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে যান। পরে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পদ্মার বালুরটেক এলাকায় মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন লোক বহনকারী একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত একটি চরে স্পিডবোট ভিড়িয়ে যাত্রীকে রেখে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোটটি দখলে নিয়ে যাত্রীর ওপর হামলা চালায়।

আহত যাত্রী মো. লিটন (৩৫) জানান, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গোপালপুর ঘাট থেকে একটি ফিরতি স্পিডবোটে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে। চালক নেমে যাওয়ার পর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তার কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। হামলায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। পরে ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে দেয়। সেখান থেকে তিনি মৈনট ঘাটে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

তবে এ ঘটনায় তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর পদ্মা নদীতে ডাকাতির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

ফরিদপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহাম্মেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০।

বুধবার (১০ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত গভীর রাতে মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) ও আমির হোসেন (২৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে আরো সাড়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনই একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিভিন্ন মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের কারণে বড় বড় চালান জব্দ হচ্ছে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এটি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। মাদক নির্মূলে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের বুধবার (১০ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানা।