খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ: টিকে থাকবে নাকি বাতিল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ: টিকে থাকবে নাকি বাতিল?

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে জারি করা স্পর্শকাতর বেশকিছু অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিএনপি সরকারের।

তবে নবনির্বাচিত এই সরকার দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বহাল রেখে এর আইনি ভিত্তি দিতে পারে।

তাদের আপত্তি আছে, আলোচিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশসহ বেশ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তির ভবিষ্যত নিয়ে। এগুলোর ভাগ্যে কী রয়েছে- চলছে এমন আলোচনা।

আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক বলছেন, অল্প সময়ে এত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে; সেক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যাদেশের জন্য গড়ে পাঁচ দিনের কম সময় লেগেছে।

এখন নতুন বা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ১২ই মার্চ।

শাহদীন মালিক উল্লেখ করেন, সংসদ বসা থেকে ৩০ দিনের মধ্যে যে অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মৃত’ বা বাতিল হয়ে যাবে।

যদিও বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো তারা যাচাই-বাছাই করছে।

কিন্তু কতটি বা কোন অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি দেবে তারা, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।

অস্পষ্টতা বা অনিশ্চয়তার প্রশ্ন কেন আসছে?

জুলাই গণ-অভ্যত্থানে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের তিনদিন পর গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

এই সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সে সময় সক্রিয় সব রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বড় রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া সেই সরকার যখন কিছু আদেশ এবং একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করেছে, তখনই স্পর্শকাতর কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির আপত্তি ছিল।

বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য আদেশ জারি করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি এমন আদেশ জারির এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের পরও ওই ইস্যুতে পুরোনো অবস্থানেই রয়েছে বলে মনে হয়েছে।

তাদের সেই অবস্থানের প্রকাশও দেখা গেছে, বিএনপি এবং এর মিত্র দলগুলো মিলে ২১২জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

যদিও জামায়াত ও এনসিপির জোটের নির্বাচিতরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রশ্নে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন এখনো হয়নি। তাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা করবেন।

আইনজ্ঞদের অনেকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোট হয়েছে। তাতে হ্যাঁ বিজয়ী হয়েছে। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশ নিয়েই যেহেতু বিএনপির আপত্তি, ফলে এ সম্পর্কিত আদেশ ও অধ্যাদেশের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

এই আইনজীবীর বক্তব্যও বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বলেন, “অধ্যাদেশ জারি করে সংবিধানের কোনো অংশ বাতিল বা পরিবর্তন করা যায় না। সেখানে বেশকিছু অধ্যাদেশ করা হয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক”।

এদিকে, বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, গণভোট, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর করা, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাসহ স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে অধ্যাদেশের ব্যাপারে তাদের সরকার এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এটুকুই বলেছেন, তারা সব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেবে না বর্তমান সরকার। তারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং একেবারে প্রয়োজনীয় কিছু অধ্যাদেশ বাছাই করছেন। সেগুলোই সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করা হবে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি সরকার যেহেতু এখনো স্পষ্ট করছে না তাদের অবস্থান, যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলছে- ফলে শেষপর্যন্ত কতটা অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি তারা দেবে, এমন কথা যেমন উঠছে, আলোচনায় আসছে অনিশ্চয়তার প্রশ্ন।

দায়মুক্তিতে আপত্তি নেই বিএনপির

যে অধ্যাদেশ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, আপত্তি তুলেছিলেন মানবাধিকার সংগঠক ও আইনজীবীদের অনেকে- সেটি হচ্ছে দায়মুক্তির অধ্যাদেশ।

জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সপ্তাহ তিনেক আগে ২৫ শে জানুয়ারি জারি করা হয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনত বাধা (বারিত) হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধও সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু অধ্যাদেশের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি।

তাদের এমন অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন জুলাই আন্দোলনকারীরা।

যদিও অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সে সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ চাইলে সরকারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন। তবে এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মানবাধিকার সংগঠকেরা।

কিন্তু আলোচিত এই দায়মুক্তির অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেবে বিএনপি সরকার, এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, দায়মুক্তির এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়ার চিন্তা তাদের রয়েছে।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যত্থানে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ১৪০০ প্রাণহানি ও অনেকে আহত হয়েছেন। ফলে এখানে আবেগ-অনুভূতির বিষয় আছে। সেটি বিবেচনায় নিচ্ছে বিএনপি সরকার।

বিএনপি এই অধ্যাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো দায়মুক্তির অধ্যাদেশের পক্ষেই রয়েছে। বিএনপিও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি পাওয়ার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কম।

তবে সরকারের একাধিক সূত্র এ-ও বলেছে, গণ-অভ্যত্থানের সময় পুলিশ হত্যার ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করার চিন্তাও রয়েছে বিএনপি সরকারে।

এদিকে, আইনজীবী শাহদীন মালিক বলছেন, “দায়মুক্তির অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করা হলেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে”।

গণভোট প্রশ্নে কী করবে বিএনপি

সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে গণভোট নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট ছিল না, এমন অভিযোগ তুলেছিল জামায়াতসহ অন্য দলগুলো।

অবশ্য নির্বাচনী প্রচারণার এক পর্যায়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন।

এখন বিএনপির সরকার গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশের ব্যাপারে কী অবস্থান নেবে, তাও স্পষ্ট করছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা বলছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার আগেই উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে তারা বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হয়েছে। ফলে এ সর্ম্পকিত অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং সংস্কারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের ‘স্পিরিটের’ বিপক্ষে বিএনপি যেতে পারবে না। এমন বাস্তবতায় স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতেও বিএনপিকে পক্ষে অবস্থান নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চাকরিতে ঢোকার বয়সের সীমা বৃদ্ধি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশ যখন জারি করা হয়, তখন বিএনপি, জামায়াতসহ কোনো দলই আপত্তি করেনি।

দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সক্রিয় সব দলেরই ওই অধ্যাদেশের ব্যাপারে এক ধরনের সায় ছিল বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

তবে বিএনপির রাজনৈতিক সরকার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে কতটা জায়গা দেবে, সে ব্যাপারে আলোচনা আছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রথম সংবাদসম্মেলনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারা না পারা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তারেক রহমান বলেছেন, আইন অনুযায়ী হবে।

তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ওই অধ্যাদেশের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেনি বিএনপি। ফলে এ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩২ বছর করা হয়েছে যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে, সেই অধ্যাদেশকেও স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করছে বিএনপি সরকার। এ অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে তারা।

তবে এই অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে তরুণদের ভেতরে বিএনপির প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ফলে বিএনপি সরকারকে এই বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

আইনজীবী শাহদীন মালিক যেমনটা বলছিলেন যে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনেক অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো নিয়ে উচ্চআদালতে চ্যালেঞ্জ করা সুযোগ আছে। অনেক অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। ফলে এগুলোর ভাগ্য নির্ধারণের পথে জটিলতা আছে।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্টরাও জটিলতার কথা বলছেন।

তবে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রেক্ষাপট, বাস্তবতা ও সর্বোপরি আইনগত দিক বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ নয়, নির্দিষ্ট সংখ্যক অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যে সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে না, সে সব অধ্যাদেশের অধীনে যে কর্মকাণ্ড হয়েছে-তার বৈধতা হারাবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক ও সিআইডি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

লন্ডনের মাটিতে লাল-সবুজের আরও একটি গর্বের পতাকা উড়ল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের মেইজব্রুক ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃতী সন্তান এম. এম. শামসুল আজম। বৃটেনের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ২০০৩ সালে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামসুল আজম। পড়াশোনা শেষ করার পর লন্ডনেই চাকরি আর ব্যবসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবামূলক কাজে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন। এবার মেইজব্রুকের বাসিন্দারা ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর সেই সেবার প্রতিদান দিলেন।

নির্বাচনে জয়লাভের পর শামসুল আজম বলেন, ‘এই বিজয় আমার একার নয়, এটি মেইজব্রুকের সকল বাসিন্দার বিজয়। আমি আপনাদের সেবা করতে এবং এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিদেশের মাটিতে বড় এই সাফল্যের পরও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি নবনির্বাচিত এই কাউন্সিলর। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শামসুল আজম বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি—বোয়ালমারী, ফরিদপুর—সেই মাটির প্রতি আমার গভীর মমতা রয়েছে। প্রবাসে থেকেও আমি বাংলাদেশের মান-সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাব।’

শামসুল আজমের এই সাফল্যে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তায় ভাসছেন তিনি। এদিকে তাঁর এই বড় অর্জনের খবর বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে পৌঁছালে সেখানেও মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। দূর পরবাসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করায় তাঁকে নিয়ে গর্ব করছেন এলাকাবাসী।

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।