খুঁজুন
, ,

জামায়াতের বিরোধিতায় কেন হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনছে বিএনপি?

মরিয়ম সুলতানা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতের বিরোধিতায় কেন হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনছে বিএনপি?

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রচারণা চালানোর সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টানছেন; করছেন সমালোচনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। অপরদিকে, বিএনপি সবসময় বলে আসছে যে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল।

এদিকে, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াতে ইসলামী-ই হলো এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটা দীর্ঘ সময় ধরে দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান করার পরও বিএনপি এর আগে একাধিকবার জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেঁধে নির্বাচন করেছে, আন্দোলন করেছে, সরকার গঠন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের বিরোধিতা করার জন্য এখন মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনার পেছনে বিএনপি’র রাজনৈতিক কৌশল, ভোটের অঙ্ক ও বর্তমান বাস্তবতা – সবকিছুই কাজ করছে।

তবে এটি আদর্শগত পুনর্মূল্যায়ন, নাকি নির্বাচনের প্রয়োজনে অবস্থান বদল?

এর উত্তরে বিএনপি বলছে, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দলের “নীতিগত অবস্থান”। তবে জামায়াতের মতে, একটা “মীমাসিংত বিষয়” নিয়ে কথা বলাটা এখন অবান্তর।

নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে জোর

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত তিনটি রাজনৈতিক দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এর মাঝে এনসিপি এবার জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি’র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখন ভোটের মাঠে রয়ে যাচ্ছে দলটির এক সময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

কিন্তু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই দলের মাঝে বাগযুদ্ধ ও তিক্ততা তত বেড়ে চলেছে। যদিও এর আগে দুই দলের নেতারা বলেছিলেন যে, তারা দোষারোপের রাজনীতি করবেন না।

একদিকে জামায়াত যেমন অতীতে বিএনপির আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার বিষয়টি সামনে আনছে।

গত ২২শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হলে সেদিনই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটের এক নির্বাচনী সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে “মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।”

তিনি বলেছেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ একাত্তরে দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। একাত্তরে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”

ওইদিনের আগে-পরে তারেক রহমান তার বিভিন্ন বক্তব্যে এ প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন।

শুধু তিনি নন, বিএনপি’র শীর্ষ নেতাও একাত্তর ও জামায়াত প্রসঙ্গে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

বুধবার, ২৮শে জানুয়ারিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এই দলটা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। এই দলটা সেই দল, যারা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে নাই।”

”যারা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে কি দেশ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া যায়?” – ঠাকুরগাঁওয়ের ওই সভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেন।

জামায়াত ও বিএনপি’র দীর্ঘদিনের পথচলা

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের এই দীর্ঘ শাসনামলে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলই অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। এই সময়ের মাঝে বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য বিএনপি নেতারাও হামলা, মামলা, কারাবরণের শিকার হয়েছেন।

অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গোলাম আযমসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযুক্তদের তখন বিচার শুরু হয়। অনেক শীর্ষ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ডও হয়।

সুতরাং, সেই পরিস্থিতির কারণে এই পুরোটা সময়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে দুই দলকে পাশাপাশি দেখা গেছে। কিন্তু তার আগেও তাদের বন্ধুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো, তাদের পুনর্বাসন করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে তখন স্বাধীনতাবিরোধীদের সুযোগ দিয়েছিলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল, আওয়ামী লীগ বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, আওয়ামী লীগ বিরোধিতার দিক থেকে আদর্শিকভাবে এই দুই দল এক এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতকে পুনর্বাসন করার ক্ষেত্রে “প্রধান ক্রেডিট” বিএনপি’র।

মূলত, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল উপজীব্য ধর্ম; তাই বাংলাদেশে তখন তাদের অস্তিত্ব দৃশ্যত বিলীন হয়ে যায়।

কিন্তু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। তার মৃত্যুর পর ১৯৭৬ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

এরপর জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ করা ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু জামায়াত ইসলামী সাথে সাথে আত্মপ্রকাশ করেনি। তারা কিছুটা কৌশলী ভূমিকা অবলম্বন করে।

যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধচারণ তখনো সবার মনে টাটকা ছিল, সেজন্য দলটি তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াতে ইসলামী নামে আত্মপ্রকাশ করেনি।

এজন্য তারা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল বেছে নেয়। ১৯৭৬ সালের ২৪শে অগাস্ট জামায়াতে ইসলামী ও আরো কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করে।

জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এই দলটির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসেন। আই.ডি.এল’র ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেন।

সেবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে আসেন। এরপর থেকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশও করেছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক তৎপরতা প্রকাশ্যে ছিল।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে।

সেই নির্বাচনে বিএনপি বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের ছিল না। ফলে জামায়াতে ইসলামী’স সাথে জোট বেঁধে তখন সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ২০০১ সালেও বিএনপি-জামায়াত জোট বেঁধে নির্বাচন করেছিল ও সরকার গঠন করেছিল।

সেই সময়ের চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন তৎকালীন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।

এ দুজনকেই পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

‘জামায়াত সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে হয় জঙ্গী’

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি হঠাৎ করে যেভাবে সমালোচনা করছে, এটিকে জামায়াত বলছে – আর কোনোভাবে না পেরে বিএনপি এখন “ভোঁতা হাতিয়ার” ব্যবহার করছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, “জামায়াতে ইসলামীকে আদর্শিক, রাজনৈতিক, নৈতিক, চারিত্রিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এই ভোঁতা হাতিয়ারকে ব্যবহার করছে; যা এই জাতি এখন আর গ্রহণ করতে চায় না।”

তার মতে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের জীবদ্দশায় “যে বিষয়টি জাতীয় ঐক্যের আলোকে মীমাংসা করে গেছেন, সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ গড়ার উদাহরণ তৈরি করেছেন”, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র উত্তরসূরীরা পরবর্তীতে সেই মীমাংসিত ইস্যুকে “দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।”

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াত যুগপৎভাবে আন্দোলন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জোট বেঁধেছিল ছিলো শুধু বিএনপি’র সাথেই।

বিএনপি’র সাথে জামায়াতের এই দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রত্যেকের সঙ্গে জামায়াত যখন থাকে, তখন জামায়াত সঙ্গী হয়, আর যখন থাকে না, তখন জঙ্গী হয়। এটাই হলো তাদের ন্যারেটিভ। এটা ব্যাড পলিটিক্যাল মোটিফ।”

“১৯৯১ সালে বিএনপি কেন কেন জামায়াতের সাহায্য নিলো?” প্রশ্ন করে তিনি আরও জানতে চান, “তখন বেগম জিয়ার পক্ষে তার নেতৃবৃন্দ গোলাম আজমের কাছে সরকার গঠনে সাহায্যের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন…তখন কোন ব্যাখ্যায় তারা এলেন?”

এদিকে, এই জামায়াত নেতা যদিও বলছেন যে তাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা মীমাংসিত।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “মীমাংসিত হলে তো আর আলোচনা হতো না। আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তো এরকম আলোচনা নাই। এটাই প্রমাণ করে যে মীমাংসিত না, অমীমাংসিত ইস্যু।”

“এখানে গণহত্যার মতো বিষয় আছে। কিন্তু সেটা যদি কেউ ডিনায়ালের মাঝে থাকে আর বলে যে মীমাংসা হয়ে গেছে, সেখানে বিচার ও সত্যের বিষয় চলে আসে,” যোগ করেন তিনি।

‘কলঙ্ক মোছার দায়িত্ব তো আমরা নেই নাই তখন’

জামায়াতের সাথে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন করা এবং দলটির সাথে মিলে জোট সরকার গঠনের পর হঠাৎ করে বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াতের সমালোচনা করছে কেন?

জানতে চাইলে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সেসময় জামায়াত বাংলাদেশে লিগ্যাল পার্টি ছিল। জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগও আন্দোলন করছে। আর আমরা একটা স্ট্র্যাটেজিক ইলেকশন পার্টনার তৈরি করেছি।”

তিনি বলেন, ওই জোট করা হয়েছিলো শুধুমাত্র “নির্বাচনে ভোটের সমীকরণের জন্য।”

“এর অর্থ এই না যে তাদের (জামায়াত) কলঙ্ক মুছে গেছে। কলঙ্ক মোছার দায়িত্ব তো আমরা নেই নাই তখন। আমরা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার তৈরি করেছিলাম কেবল,” ফের বলেন তিনি।

নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বড় দল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “যারা দেশকেই বিশ্বাস করে নাই, তারা সেই দেশের শাসন ক্ষমতা হাতে নিবে? জাতিকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে তাদের ভূমিকা কী ছিল?”

তার ভাষ্য, বিএনপি মনে করে না ওই সময়ে নির্বাচনের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেঁধেছিলো বলে বিএনপি এখন তাদেরকে কিছু বলতে পারবে না।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতের সমালোচনা করতে বিএনপিকে আগে কখনো দেখা যায়নি কেন?

জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “এখনও আসতো না। যদি না তারা আস্ফালন করতো, মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেশনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতো, যদি তারা ক্ষমা চাইতো। তারা এগুলোর কিছুই করেনি। বরং, জামায়াতের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেশনকে চেঞ্জ করতে চায়। তাই, প্রতিবাদটা সরব রাখতে হবে, যাতে তারা যেন-তেনভাবে এই প্রজন্মকে বোঝাতে না পারে।”

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করাটা বিএনপি’র এবং মুক্তিযোদ্ধাদের “নীতিগত অবস্থান” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি’র উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক?

বিএনপি যদিও বলছে যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তাদের সাথে জামায়াতের আদর্শিক ভিন্নতা আছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি’র এই সমালোচনার মূল কারণ আসন্ন নির্বাচন। বিশেষ করে, বিএনপি চাইছে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো যেন তাদের পক্ষে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীনের ব্যাখ্যায়, “বাংলাদেশের অনেক মানুষের আবেগের জায়গা মুক্তিযুদ্ধ। বিএনপির অনেকেও মুক্তিযুদ্ধকে ধারণা করে। আর, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের অনেকে এবং অনেক আওয়ামীলীগ বিরোধীও মুক্তিযুদ্ধকে ধারণা করে। সুতরাং, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতকে আক্রমণ করাটাকে একটা কৌশল হিসেবে নিয়েছে বিএনপি।”

“শুধুমাত্র জামায়াতকে কেন্দ্র করে বিএনপি কিছু করছে না এখানে। আওয়ামী লীগ যেহেতু নাই এবং প্রতিপক্ষ জামায়াত, তাই বিএনপি’র সাথে এখন দু’টো অস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্ম। আর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের তো বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাই আওয়ামী লীগের ভোটার টানতে এটা করছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক সাব্বির আহমেদও এই ভোটব্যাংক প্রসঙ্গে একই কথা বলেন।

তবে তিনি এও বলেন, “জামায়াত বিএনপি থেকে আলাদা হয়ে গেছে, এটা বিএনপি মানতে পারছে না। এটা তারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। আর নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্ক হলো শত্রু-শত্রু। তখন এটা হবেই, কিছু করার নেই। প্রচারণায় জামায়াতের দুর্বলতা বিএনপি ব্যবহার করবে, আবার জামায়াত বিএনপির দুর্বলতাকে ব্যবহার করবে।”

যদিও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিএনপি’র জামায়াতের সমালোচনা নির্বাচনী প্রচারণার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

কারণ “এটা ইউনিভার্সাল, এটা চিরকাল থাকবে। জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই, বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করেছে, এটা আমরা বারেবারে বলবো,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকল্পের একজন গবেষক ছিলেন আফসান চৌধুরী। একাত্তরের ঘটনাবলী নিয়ে অনেকগুলো বইও লিখেছেন তিনি।

মি. চৌধুরীর মতে, “আমাদের দেশে আমরা ইতিহাসকে রাজনীতি বানিয়ে ফেলেছি। এটা শুধু (জামায়াতের সমালোচনা) নির্বাচনের বিষয় না। এটা সকল কালে হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা (সমালোচনা করছে) এবং নির্বাচনের পরেও এটা করবে।”

তবে অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, এখন এক দল আরেক দলকে বিষেদগার করলেও শেষমেশ এদের “জোটে ফাটল ধরার সম্ভাবনা কম। কারণ আগের মতো এখনও বাংলাদেশে জামায়াতের শক্ত অবস্থানের পেছনে বিএনপি’র ভূমিকা রয়েছে।”

পাঁচই অগাস্টের পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছাত্র শিবির বিশাল জয় পেয়েছে।

ফলে সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের অবর্তমানে জামায়াতকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। এ কারণেই দুই দলই তাদের বক্তব্যে নানাভাবে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরের সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে কারণ জানালেন অভিভাবকেরা

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে কারণ জানালেন অভিভাবকেরা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩০শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক মুন্নাফ শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করায় তিনি ও তাঁর ছেলে বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছেন। তাই বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।

আরেক অভিভাবক মো. আকল শেখ বলেন, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

অভিভাবক মাকসুদা বেগমও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করানোর জন্যই অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন ও স্থানীয় মাতুব্বরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, আমি অবসর গ্রহণে পর বিদ্যালয়েই যাই না। একটি মহল তাদের স্বার্থে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান জানান, আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সাথে জড়িত। তবে স্কুল বাদ দিয়ে না। স্কুল টাইমে আমি ক্লাসেই থাকি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাই।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার কথা চিন্তা করেই আমরা তাদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। আমরা চাই, আমাদের সন্তানসহ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।