ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা রব্বান মাতুব্বরের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে হামলা চালায়। তাদের দাবি, বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুলের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু স্থানীয় লোকজন নয়, পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও লোকজন এনে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। এতে অন্তত কয়েকটি বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অনেক পরিবার রাতেই নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেল মহড়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এ সময় গোয়ালপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “হামলার সময় পুরো গ্রামজুড়ে টর্চলাইটের আলো দেখা যায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংগঠিতভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। বহিরাগত লোকজনও এতে অংশ নেয়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম ও সামাদ মাতুব্বরের নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতা রব্বান মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার সময় আমি গ্রামের বাইরে ছিলাম। পরে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হাসিব লিঠু, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কাওসার মাতুব্বর, যুবদল নেতা রব্বান মাতুব্বর, বিএনপি নেতা আদেল মাতুব্বর, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আপনার মতামত লিখুন
Array