খুঁজুন
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ এএম
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘মব কালচারের দিন শেষ’। কিন্তু দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের।

এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৫ সালে মব ভায়োলেন্স ‘ ডমিনেন্ট অ্যান্ড ডেডলি ট্রেন্ড বা প্রকট এবং প্রাণঘাতী ট্রেন্ড ‘ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে মনে করে অনেক মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে ৪৬০ জনকে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা অপরাধিদের উৎসাহ জুগিয়েছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুপ থেকেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

উল্টো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশেষ করে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো বিএনপি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামলানো “চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অসম্ভব নয়,” বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।

তবে বিচারের নামে কেবল ভিন্ন মত দমন, নিজ দলের সমর্থকদের সব দোষ মাফ কিংবা দলবদ্ধভাবে ভিন্ন মতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পুরনো সংস্কৃতি চলতে থাকলে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক।

কেন বেড়েছিল ‘মব ভায়োলেন্স’

বাংলাদেশে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার’ ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও ন্যায্য বা অন্যায্য দাবি আদায় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে এটি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিংয়ে ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসেবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুইশো।

‘মব ভায়োলেন্স’ কেন এভাবে বৃদ্ধি পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ি করেছেন বিশ্লেষকরা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্বৈরাচারের দোসর কিংবা এ ধরনের ‘তকমা’ দিয়ে মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

‘তৌহিদী জনতা’ বা এ ধরনের ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মব সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তির ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। অনেক সময় যেখানে কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে।

এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীলদের কারো করো মধ্যে দলবদ্ধ অপরাধকে কিছু ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা ছিল, যা এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, এটা যেমন ঠিক তেমনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পক্ষের সামনে সরকারের নমনীয়তা অপরাধীদের সুযোগ করে দিয়েছিল।

তিনি বলছেন, “দৃশ্যমান মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গত সরকারের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল, যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে এটার প্রেক্ষাপটটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।”

এছাড়া একটি পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করেন মি. লিটন।

এই অপরাধ কী থামবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

অর্থাৎ এটি বলা যায় যে, দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার উদাহরণ সঙ্গী করেই, পট পরিবর্তনের দেড় বছর পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে রাজনৈতিক সরকার।

এসব কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যেখানে ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মি. আহমদ বলেন, “মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিশ্লেষকরা।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবে, সে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, মব সহিংসতার পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা- এই দুটি বিষয়ের ওপর।

মি. লিটন বলছেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন। অতীতে এই ধরনের সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।”

তবে বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকৃত দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি তার আগের স্ট্যাটাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু তার পোস্টে বলেন, তিনি আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোরে, লোকচক্ষুর আড়ালে ফুল দিয়ে যায় এবং পরে সেটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। তার দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিভিন্ন হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত ১৭ বছরে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি নবীনবরণসহ নানা আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং রক্ত ঝরেছে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, অতীতে একাধিকবার তাকে রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তবুও প্রতিটি হামলার জবাব তারা প্রতিরোধের মাধ্যমে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ‘ভয়ভীতির পরিবেশ’ তৈরি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রকৃত আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দলটি গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা চান না।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ফরিদপুরকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ এএম
রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

রমজান মাসে বদহজম বা হজমের সমস্যা খুব সাধারণ। এ সময় দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর ইফতার ও রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার কারণে পেট ভারি মনে হতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি বা ভারী খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস, বুকজ্বালা— এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বদহজম ঠেকাতে কিছু খাবার এবং অভ্যাস মেনে চলা উচিত।

বদহজম এড়াতে খাবার—

সহজ হজমযোগ্য খাবার

ভাত, রুটি, সেদ্ধ আলু, ওটস, ডাল

সবজি (হালকা ভাজা বা সিদ্ধ)

মাছ বা হালকা মাংস

প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত খাবার-

শসা, গাজর, কুমড়া, লাউ

ফল যেমন কলা, আপেল (চামড়া ছাড়িয়ে)

গুটখোলা বাদাম ও বীজ (যদি পেট সহ্য করে)

দুগ্ধজাত ও হালকা প্রোটিন-

দই, ছানা, লো-ফ্যাট দুধ

পর্যাপ্ত পানি-

ইফতার ও সাহরির মধ্যে প্রচুর পানি পান করা।

খুব ঠান্ডা পানি হঠাৎ খাওয়া এড়াতে হবে।

যা এড়ানো ভালো-

তেলতেলে, ভাজাপোড়া ও মশলাদার খাবার

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনির খাবার

অনেক কফি বা চা

অভ্যাস-

ছোট ছোট পরিমাণে খাওয়া, হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়া এড়ানো

ধীরে ধীরে খাওয়া, ভালোভাবে চিবানো

খাবারের পরে হালকা হাঁটা বা বসে বিশ্রাম নেওয়া

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে নবনির্মিত আধুনিক রেস্টুরেন্ট ‘কাচ্চি বাড়ি’র উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরিয়ান ইউসুফ। এসময় তিনি বলেন, “ফরিদপুরবাসীর জন্য উন্নতমানের খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই এই রেস্টুরেন্টটি শহরের একটি নির্ভরযোগ্য খাবারের ঠিকানা হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, রেজাউল করিম এবং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রেস্টুরেন্টের সার্বিক উন্নতি, সফলতা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ময়েজ মসজিদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কবির আহমেদ।

রেস্টুরেন্টটির আধুনিক ও মনোরম পরিবেশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ‘কাচ্চি বাড়ি’তে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি কাচ্চি, বিরিয়ানি, কাবাব, নান-রুটি ও বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক আইটেম পরিবেশন করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এখানে রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের সার্ভিস।

উদ্বোধনের দিন থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, ‘কাচ্চি বাড়ি’ খুব দ্রুতই ফরিদপুরের জনপ্রিয় খাবারের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পাবে।