খুঁজুন
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩

সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকের দায়িত্বও বেড়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়।

আবার অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় খাতে টাকা খরচ হয়ে যায়। খুব প্রয়োজনের সময় দেখা যায়, হাতে কোনো টাকা নেই।

তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই অল্প অল্প করে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আসুন, জেনে নিই অপচয় কমানোর কয়েকটি উপায়।

খরচ নির্ধারণ করুন
দিনের খরচের হিসাব আপনি মোবাইল ফোনেই রাখতে পারেন। শুধু খরচের হিসাব রাখার একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলেই হবে।

আপনি যদি তা না পারেন, তাহলে লিখে রাখার অভ্যাস করুন। আপনি যত বেশি লিখে রাখবেন, আপনার খরচের তালিকা থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তত বেশি বাদ পড়বে।
মাসিক হিসাব রাখুন
আমরা খুব কমজনই মাস শেষে খরচের হিসাব নিয়ে বসি। এক ঘণ্টা সময় বের করে বসুন। কোথায় কত খরচ হলো, কীভাবে হলো-খেয়াল করুন। কিসে বেশি খরচ হলো কিংবা আগামী মাসে কোন খরচটা কম লাগবে, এসব নোট করে রাখুন।

পরিবর্তন অসম্ভব নয়
আপনি হঠাৎ ৫০০ টাকা খুঁজে পেলেন, যা আপনি ভুলে গিয়েছিলেন। খুশিমনে সেটি খরচ করে ফেলবেন না। এটি এখনও আপনার টাকা, উপহার নয়। তাই জমা রেখে দিন।

হাত খুলে খরচ বন্ধ করুন
আপনি যখন পার্টিতে যাবেন, তখন একটি নির্দিষ্ট বাজেট রাখুন। বাজেটের বেশি যেন খরচ না হয়, তা খেয়াল রাখুন। বেশি খরচ হলে পরের পার্টির বাজেট কমিয়ে দিন। আনন্দ উদযাপন করবেন মানে এই নয় যে, আপনার বাজেটের দিকে কোনো খেয়াল থাকবে না।

বড় কেনাকাটায় সময় নিন
আপনার নতুন আসবাবপত্র দরকার। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যেদিন আপনার নতুন আসবাবের কথা মনে হলো, সেদিনই সেটা কিনে ফেলবেন। দু-একটি দোকান ঘুরে দেখুন, অনলাইনে খুঁজুন, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিন। এতে সময় একটু বেশি লাগবে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে আপনার খরচ বাঁচাবে।

ফিক্সড ডিপোজিট করুন
কি পরিমাণ অর্থ আপনি রাখছেন, সেটা বড় বিষয় নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিয়মিত সঞ্চয় করছেন। আপনার প্রয়োজনের সময় এটি অনেক কাজে দেবে।

ধার দেওয়ার আগে ভাবুন
সব বন্ধুকে ধার দিতে যাবেন না। অনেকেই এমনটি করেন এবং এর শেষটা ভালো হয় না। আপনার বন্ধুর জরুরি প্রয়োজনে আপনি সাহায্য করবেন, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিচক্ষণ হোন। আগে নিজেকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করুন, তারপর অন্যকে সাহায্য করুন।

১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

১৬ বছর পর পুনঃসম্প্রচারে এসেছে চ্যানেল ওয়ান। আবারও ফেরার প্রস্তুতি চলছে বন্ধ হওয়া বাকি তিন চ্যানেল- সিএসবি নিউজ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির। এর মধ্যে প্রস্তুতিতে সবচেয়ে এগিয়ে ইসলামিক টিভি। তবে, তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই শিগগির ফেরার আশা।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে মধ্যরাতে অ্যাকশনে যায় প্রশাসন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে এতে নিহত হন অন্তত ৬১ জন। আর ২০২৫ সালের ৪ মে ৯৩ জনের তালিকা দেয় হেফাজতে ইসলাম।

ওই রাতে একসঙ্গে দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় শেখ হাসিনার সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েন হাজারও কর্মী, যাদের অনেকেই আর কোথাও চাকরি পাননি।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আমার চৌকশ ক্যামেরা ম্যান আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে, স্যার কোথাও চাকরি তো হলো না, তাই কারওয়ান বাজার থেকে কলা কিনে ফুটপাতে বিক্রি করছি।’

তারও আগে ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রথম সংবাদ ভিত্তিক টিভি সিএসবি নিউজ বন্ধ করে দেয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার বন্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকার।

তবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ চ্যানেল চারটির স্থগিতাদেশ তুলে নেয় ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যেই তারিখে বন্ধ হয়েছিল চ্যানেল ওয়ান, সেই ২৭ এপ্রিলেই ফেরত আসে তারা।

চ্যানেল ওয়ান নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘ছাইভস্ম থেকে আবার তৈরি করতে হয়েছে। চেষ্টা করেছি, কষ্ট হয়েছে। সবকিছু মিলে সবচেয়ে বড় অবদান হলো আমাদের টিমের। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরে কখনই এমন খড়গ চালানো উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই প্রচুর মানুষ জড়িয়ে থাকে।’

সিএসবি নিউজের কর্ণধার ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী জানান, তারাও সম্প্রচার বন্ধের দিনই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থাৎ, ৬ সেপ্টেম্বরকে টার্গেট করে এগুচ্ছেন তারা।

ইসলামিক টিভির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনঃসম্প্রচারের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘গত রমজানে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রমজানে আমরা সফট লঞ্জে অন এয়ারে চলে এসেছি। আমাদের ডিস্ট্রিবিউশনটা খুব একটা স্ট্রংভাবে করা হয়নি। তারপরেও অলমোস্ট বাংলাদেশের ৪০-৪৫% জায়গায় এখন ইসলামি টিভি দেখা যায়। আমরা এখন খুব বেশি মনোযোগ দিচ্ছি আমাদের কনটেন্টে।’

আগামী ৬ মাসের মধ্যে দিগন্ত টিভি পুনঃসম্প্রচার আসছে, এই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমি বলবো না যে এটা বন্ধ আছে, খুলবে না। আবার বলতে পারিনা যে কালকে খুলবে। তবে ইন প্রসেস। সবাই চায় এটা ওপেন হোক।’

যদিও এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দিগন্তের নীতিনির্ধারকদের মাঝে এখনও বেশকিছু জটিলতা রয়ে গেছে।

সূত্র : স্টার নিউজ

“মা নেই জন্মের পর থেকেই, গুজবে হারালো বাবাও—নিঃস্ব শিশু মুসলিমা”

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
“মা নেই জন্মের পর থেকেই, গুজবে হারালো বাবাও—নিঃস্ব শিশু মুসলিমা”

জন্মের মাত্র ২১ দিনের মাথায় মা হারানো, আর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বাবাকেও হারাতে হলো—নির্মম জনতার পিটুনিতে। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি এখন ফরিদপুরের ছোট্ট শিশু মুসলিমা ইসলাম (২৫ মাস)। মা-বাবাহীন এই শিশুটির আশ্রয় এখন শুধু বৃদ্ধ দাদা-দাদী, যাদের চোখে শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা।

রবিবার (০৩ মে) বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর গ্রামে নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না আর ভিড়ের মাঝেই কিছু না বুঝে কখনো দাদীর কোলে, কখনো অন্যের কোলে ঘুরছে ছোট্ট মুসলিমা। কখনো ফিডারে দুধ খাচ্ছে, আবার হঠাৎ অঝোরে কেঁদে উঠছে—যেন তার অজান্তেই জীবনের নির্মমতা তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুসলিমার মা আরিফা বেগম তার জন্মের ২১ দিনের মাথায় স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই দাদা শাহিদ শেখ ও দাদী নার্গিস বেগমের স্নেহেই বড় হচ্ছিল শিশুটি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই আশ্রয়ের বড় ভরসাটুকুও হারিয়ে গেল।

দাদী নার্গিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“মা জন্মের ২১ দিনেই চলে গেছে, এখন বাবাও নাই। এই বাচ্চাটার আর কেউ রইল না। আমি মরে গেলে ওর কী হবে?”

নিহতের বাবা শাহিদ শেখ বলেন, “আমার ছেলে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, আইন আছে। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন এই এতিম বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ কে দেখবে?”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (০১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে “ট্রাকটি ২০ জনকে চাপা দিয়েছে” এমন গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা সড়কে ইট-ব্লক ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে ট্রাকটি থামায়। পরে চালক হান্নান শেখকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ট্রাকের দুই হেলপার—নাঈম (২২) ও আল-আমিন (২৫)—আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে জনরোষ তৈরি হয়। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, গুজবের ভিত্তিতে এমন সহিংসতা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে ছোট্ট মুসলিমা। জীবনের শুরুতেই মা-বাবাহীন হয়ে পড়া এই শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বৃদ্ধ দাদা-দাদীর পক্ষে কতদিন তার দায়িত্ব বহন করা সম্ভব—সেই প্রশ্নও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এতিম এই শিশুটির জন্য সরকারি সহায়তা, সমাজসেবামূলক সংস্থার নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি গুজব ও গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলো রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফরিদপুরে শিশু কবিতা হত্যা: ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা, মানববন্ধনে খুনিদের ফাঁসির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু কবিতা হত্যা: ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা, মানববন্ধনে খুনিদের ফাঁসির দাবি

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নে শিশু আইরিন আক্তার কবিতা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। মানবিক বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া এ ঘটনার বিচার দাবিতে রোববার (৩ মে) বাদ জোহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গেরদা ইউনিয়নের প্রধান সড়কে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারা “খুনিদের ফাঁসি চাই”, “শিশু হত্যার বিচার চাই”, “ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল শোকাবহ পরিবেশ, পাশাপাশি ন্যায়বিচারের দাবিতে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু কবিতার উপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সভ্য সমাজের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রধান অভিযুক্ত ইসরাফিলসহ সকল জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি কার্যকরের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে এবং শিশুদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাকারিয়া, গেরদা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবলু মাস্টার, বিএনপি নেতা মিলন মেম্বার, সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন, “মানুষ মানুষের জন্য” সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জাহিদ ইসলাম এবং বাখুন্ডা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি মিয়া রোমানসহ আরও অনেকে।

এসময় বক্তারা অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান। মানববন্ধনে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবেন বলে ঘোষণা দেন।