খুঁজুন
, ,

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং

আর তিন দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চার দিন এসব সেবা সীমিত থাকবে। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের কারণে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। এভাবে দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ সেবা ব্যবহার করে একে অপরকে টাকা পাঠানোর সেবা বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হবে দৈনিক ১০টি।

তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। লেনদেনের বাইরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অপরাধ সংগঠিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠন করবে। এ সময়ে সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের (ক্লোজ মনিটরিং) আওতায় আনতে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে।এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বলা হয়েছে।

সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মালিকানাধীন আল্লাহরদান বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের নীরবতায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ডে বেকারির ভেতরে থাকা দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল, একটি রানার মোটরসাইকেল, প্রায় ২০ বস্তা ময়দা, ২৫ বস্তা চিনি, বেকারি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পুরো টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে মালিকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সালথা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বেকারির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেকারিটি এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি বেশ বড়। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে বেকারির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।

ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দর্শকের হতাশার মধ্যেই প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধে এক দল মাঠে না আসায় টুর্নামেন্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ওয়াকওভারের মাধ্যমে। পরে টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মাঠে উপস্থিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ, দর্শক, রেফারি ও আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশের কোনো খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত হননি।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথমে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
খেলা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে ওয়াকওভারে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই রাতে তাদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিএনপির একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হোক। এ বিরোধের জের ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি এবং খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। যেহেতু পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ আমাদের সভাপতির এলাকার দল, তাই তারা মাঠে যায়নি। প্রশাসন প্রথমে খেলা পরে আয়োজনের কথা বললেও পরে রাতে অপর দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় ওয়াকওভার হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ওয়াকওভারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হলেও প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রেখে ক্রীড়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।