খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিদর্শন শেষে তিনি এ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি পৌরসভার নির্ধারিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কার্যক্রমের বিস্তারিত অগ্রগতি, প্রযুক্তি ব্যবহার ও উৎপাদিত পণ্যের বিষয়ে ধারণা নেন। পরিদর্শন শেষে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছাসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। নদী-নালা ও খালে বর্জ্য মিশে পানি দূষিত হচ্ছে, যার ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। ফরিদপুরে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডিজেল উৎপাদনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই জ্বালানি কৃষিকাজে, বিশেষ করে পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে এটি ভারী যানবাহনের জন্য উপযোগী নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া বর্জ্য থেকে জৈব সার, নির্মাণসামগ্রী, টাইলস, এমনকি আসবাবপত্র তৈরির বিষয়টিও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তিনি।

ড. হায়দার বলেন, “বর্জ্যকে সমস্যা না ভেবে সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

পরিদর্শন শেষে তিনি সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পানিতে ডুবে মৃত্যু: এক নীরব ঘাতক, ঝুঁকিতে আমাদের শিশুরা

নিকোলাস বিশ্বাস
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
পানিতে ডুবে মৃত্যু: এক নীরব ঘাতক, ঝুঁকিতে আমাদের শিশুরা

আজ (২৫ জুলাই) বিশ্ব ′পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস′। ২০২১ সালে প্রথমবারের মত এই দিবস পালিত হয়। প্রতি বছর এই দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য বিষয় বেছে নেওয়া হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হল: “Unite to Turn the Tide” – অর্থাৎ, আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্রোত থামাই।

এটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য নয়; বরং পানির সঙ্গে আমাদের সহাবস্থানকে আরও নিরাপদ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার একটি বৈশ্বিক আহ্বান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী এ প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করে আসুন আমরা প্রতিরোধযোগ্য ′পানিতে ডুবে মৃত্যু′র মিছিল বন্ধ করি এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকার পালন করি।

বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল, হাওর ও পুকুরে সমৃদ্ধ একটি জলভূমির দেশ। পানি আমাদের জীবন, জীবিকা, কৃষি, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অভাবে এই জীবনদায়ী পানিই মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক ও বেদনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আমাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাম্প্রতিক সিসিটিভি ভিডিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ছোট শিশু একটি পুকুরে ডুবন্ত অবস্থায় বাঁচার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছে। অপরদিকে, আরেকটি শিশু ঐ পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো চিৎকার করছে এবং মরিয়া হয়ে পানিতে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আশে-পাশে বাড়িঘর থাকলেও কেউ সেই আর্তনাদ শুনতে পায়নি। অবশেষে পাশের একটি বাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। কিন্তু শিশুটির শেষ পরিণতি কি হয়েছিল, তা ভিডিওটিতে আর জানা যায়নি।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, অথচ অধিকাংশ ঘটনাই সংবাদ শিরোনামে আসে না। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে একটি পরিবারের বেদনা। বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′ এখনো সবচেয়ে অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা জনস্বাস্থ্য আলোচনায় প্রাধান্য পেলেও পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′ রয়ে যায় আড়ালে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) জরিপ অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার বড় একটি অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। এসব মৃত্যুর সর্বোচ্চ হার বরিশাল অঞ্চলে। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং মৌসুমি বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′র ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। বিশ্বব্যাপী পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′র প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে এই ঝূঁকি আরো বেড়েছে।

প্রতিদিনের নীরব ঝুঁকি

জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ ঘটনা ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই থাকা পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। অর্থাৎ বিপদ দূরে নয়, পরিবারের কাছেই ওত পেতে থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ এ সময় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বাড়ির আঙিনা, রাস্তা ও মাঠ সাময়িক জলাশয়ে পরিণত হয়। অল্প সময়ের জন্যও কোনো ছোট শিশু নজরদারির বাইরে চলে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপূরণীয় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ সময়টায় সবাইকে বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার সময়টি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অভিভাবকরা সাধারণতঃ গৃহস্থালি বা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে ছোট শিশুরা অরক্ষিত থেকে যায়। মাত্র দুই বা তিন মিনিটের অসতর্কতা একটি পরিবারের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে যা তাদের জন্য নিয়ে আসতে পারে গভীর শোক আর কান্না।

পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′র সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো এর নীরবতা। সিনেমায় যেমন দেখা যায়, বাস্তবে পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষ – বিশেষ করে শিশুরা – সাধারণতঃ হাত নেড়ে বা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। আশে-পাশের মানুষের অজান্তেই তারা নীরবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′কে “নীরব কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকট” হিসেবে অভিহিত করেছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে সারা বিশ্ব ′পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস′ হিসেবে ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে বিশ্ব ষ্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′ প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমি উদ্যোগ নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে পরিণত করা উচিৎ।

কেন এই মৃত্যু থামছে না?

বাংলাদেশে অধিকাংশ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ পরিস্থিতিতে। বাড়ির পাশের পুকুর, রাস্তার ধারের ডোবা কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভরা গর্ত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী ও চলাফেরায় সক্রিয় হলেও তারা বিপদের মাত্রা বুঝতে পারে না। এ সময় রান্না, কাপড় ধোয়া বা অন্য কোনো কাজে সামান্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকের অজান্তেই শিশুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে যা পরিবার ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যও এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বের বৃহত্তম নদীবাহিত দেশগুলোর একটি হওয়ায় এখানে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রয়েছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘনঘন বন্যা চারপাশে নতুন নতুন ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় সৃষ্টি করে ও বিপদ ডেকে আনে। চলতি বছরের প্রবল বৃষ্টিপাত এ বিপদকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রতিরোধই একমাত্র সমাধান

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর দৃষ্টিপাত করা অতীব জরুরি: —

১. ছোট শিশুদের কখনোই পানির কাছাকাছি একা না রাখা।

২. বাড়ির আশপাশের পুকুর ও ডোবার চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বেড়া নির্মাণ করা।

৩. দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক ডে-কেয়ার কেন্দ্র স্থাপন করা।

৪. বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সাঁতার শিক্ষা ও পানি নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা।

৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধারকৌশল ও কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR)-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, এসব উদ্যোগ কার্যকর। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB) -এর উদ্যোগে পরিচালিত আঁচল (কমিউনিটি শিশুযত্ন মডেল) এবং সুইমসেইফ (SwimSafe) কর্মসূচি শিশুদের পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′র হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সফল হয়েছে। সমাধান আমাদের জানা আছে; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং দেশব্যাপী কার্যকর বাস্তবায়ন। গবেষণালব্ধ ফলাফল গুরুত্বের সাথে কাজে লাগানো উচিৎ।

পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′ প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা – এই চারটি সরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্খিত ফল আসবে না।

সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ

বিশ্ব ′পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস′ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; এটি হতে হবে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। বাংলাদেশকে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগ, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশু একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ – একজন সম্ভাব্য শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা জাতীয় নেতা – যার স্বপ্ন অকালেই নিভে যায়।

পানিতে ডুবে কোনো শিশুর মৃত্যু কখনোই কাম্য হতে না। সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ, নিরাপত্তা শিক্ষা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারে এবং এই নীরব সংকট তথা পানিতে ′ডুবে মৃত্যু′র অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রতিটি শিশুর জীবনই অমূল্য, কোনো অবস্থাতেই সেই জীবনের মূল্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

লেখক:
ডেভেলপমেন্ট প্রাক্টিশনার এবং ″জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল″ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

সৌদিতে ফরিদপুরের একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে ফরিদপুরের একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার মতো ধৈর্য ও মানসিক শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

শোকবার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন এবং বড় ছেলে নাবিল গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

পরিবারের স্বজনরা জানান, পাঁচ সদস্যের পরিবারটি একটি প্রাইভেটকারে করে রিয়াদ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে তাদের বহনকারী গাড়ির পেছনে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’

নারীদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে ‘লিগ্যাল লিটারেসি ওয়ার্কশপ ফর উইমেন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের বেলপিয়াতো চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের ২৫ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় নারী অধিকার, পারিবারিক আইন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি সেবাসমূহ এবং নাগরিক হিসেবে আইনগত দায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরে আইনি সমস্যার সমাধান, প্রতিকার পাওয়ার উপায় এবং সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকলে নারী ও তরুণরা নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে অন্যায়, বৈষম্য এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনি সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এ সময় তারা পারিবারিক বিরোধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, উত্তরাধিকার আইন এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন।

কর্মশালার আয়োজন করে Foundation for Women Possibilities (FWP) এবং Nondita Surokkha। নারী নেতৃত্বের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

আয়োজকরা জানান, নারীদের আইনি জ্ঞান বৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।