খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুর-৪ : আলোচিত রায়হান জামিলের হাতে আছে ১০ লাখ টাকা, নেই বাড়ি-গাড়ি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ এএম
ফরিদপুর-৪ : আলোচিত রায়হান জামিলের হাতে আছে ১০ লাখ টাকা, নেই বাড়ি-গাড়ি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল। তরুণ এই প্রার্থী তাঁর ব্যতিক্রমী সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম এবং স্বচ্ছ ব্যক্তিগত তথ্যের কারণে ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মুফতি রায়হান জামিলের জন্ম ১৯৯৬ সালের ১০ জুন। তাঁর পিতা মৃত খবির উদ্দিন এবং মাতা নুরজাহান। বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মফিজউদ্দিন খালাসীর ডাঙ্গী গ্রামে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তিনি পরিচিত একজন ধর্মভিত্তিক শিক্ষিত তরুণ হিসেবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি ‘তাকমিল’ সম্পন্ন করেছেন। পেশায় তিনি একজন বেসরকারি শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী একজন গৃহিণী।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, মুফতি রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মামলার সঙ্গে জড়িত নন বলে হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিষয়টি তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়ের বিবরণীতে দেখা যায়, মুফতি রায়হান জামিলের বার্ষিক আয় মূলত শিক্ষকতা পেশা থেকেই আসে। তাঁর শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কৃষি জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো কোনো খাতে তাঁর আয় বা বিনিয়োগ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর আয়ের উৎস সীমিত এবং নির্দিষ্ট।

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাছে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৭ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার ১৩৩ টাকা। তবে স্থাবর সম্পদের ঘরে তিনি কোনো কৃষি জমি, বাড়ি-গাড়ি কিংবা ভবনের মালিকানা নেই বলে হলফনামায় ঘোষণা দিয়েছেন। একজন সংসদ প্রার্থীর হলফনামায় স্থাবর সম্পদ না থাকার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সরল জীবনযাপনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মুফতি রায়হান জামিল মূলত আলোচনায় এসেছেন তাঁর ব্যতিক্রমী মানবিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ফরিদপুর-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র ১০ টাকায় ইলিশ মাছ বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি ব্যয়বহুল খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনে দেওয়ার এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ নভেম্বর ১ টাকা দরে গরুর মাংস বিতরণ করেন তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে। এর আগে ১১ জুলাই মাত্র ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করে তিনি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। এসব উদ্যোগ তাঁকে ‘মানবিক প্রার্থী’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণার সময় গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমাত্রার প্রতিবাদ জানান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও অহিংস প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে এক বস্তা করে চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।

স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, মুফতি রায়হান জামিলের এই কর্মকাণ্ড কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বয়স, স্বচ্ছ হলফনামা, মামলা-মোকদ্দমাহীন জীবন এবং আলোচিত মানবিক উদ্যোগ তাঁকে ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর হলফনামা ও জীবনবৃত্তান্তে অর্থবিত্তের চেয়ে সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনের মাঠে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আলোচিত উদ্যোগ ও স্বচ্ছ হলফনামার কারণে মুফতি রায়হান জামিল যে ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।