খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় স্বামী মো. জাকির মোল্লাকে (৪৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা। আর নিহত রেখা বেগম সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জাকির মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেলা কারাগারে পাঠায়।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে জাকির মোল্লার সঙ্গে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের কয়েক বছর ভালোভাবে চললেও ২০১৫ সালের শুরুতে জাকির মোল্লার আচরণ বদলে যায়। সে স্ত্রী রেখা বেগমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং বাবার বাড়ি থেকে সেই টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে।

স্বামীর নির্যাতন ও চাপের মুখে একপর্যায়ে রেখা বেগম বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে তার পরিবার মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে দেয়। সেই টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দেন রেখা।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই ওই টাকা শেষ হয়ে গেলে আবারও স্ত্রীর কাছে নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকে জাকির মোল্লা। এবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে সে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির মোল্লা তার স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহত রেখা বেগমের চাচা মো. বাচ্চু খান ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জাকির মোল্লা এবং তার মা-বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপুল চন্দ্র দে। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাকির মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় এ রায় প্রদান করেন।

এ বিষয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।

ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দর্শকের হতাশার মধ্যেই প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধে এক দল মাঠে না আসায় টুর্নামেন্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ওয়াকওভারের মাধ্যমে। পরে টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মাঠে উপস্থিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ, দর্শক, রেফারি ও আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশের কোনো খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত হননি।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথমে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
খেলা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে ওয়াকওভারে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই রাতে তাদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিএনপির একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হোক। এ বিরোধের জের ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি এবং খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। যেহেতু পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ আমাদের সভাপতির এলাকার দল, তাই তারা মাঠে যায়নি। প্রশাসন প্রথমে খেলা পরে আয়োজনের কথা বললেও পরে রাতে অপর দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় ওয়াকওভার হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ওয়াকওভারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হলেও প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রেখে ক্রীড়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

ফরিদপুর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে অভিমান করে বিষপান করেছেন এক গৃহবধূ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর নাম লিলি বেগম (৫০)। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ইউনুছ শেখের স্ত্রী।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে নিহতের ছেলে মো. জামিল শেখ (৩২) জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের কারণে অভিমান করে তার মা পরিবারের অগোচরে নিজ ঘরে গিয়ে ঘাস মারা বিষ পান করেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিলি বেগম মারা যান। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
আবেদনে জামিল শেখ আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়ে থানায় মৃত্যুর সংবাদ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পরে তিনি থানায় এসে অপমৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ছেলে জামিল শেখ তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”