খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে কাপড় শুকানোর দড়ি নিয়ে বিরোধ, যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম
ফরিদপুরে কাপড় শুকানোর দড়ি নিয়ে বিরোধ, যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুর শহরে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কাপড় শুকানোর দড়ি টানানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল আহমেদ ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী নন-বেঙ্গলি মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েল আহমেদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলদের বাড়ির প্রবেশমুখে কাপড় শুকানোর জন্য দড়ি টানাতে গেলে এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সরফরাজের পরিবারের কয়েকজন সদস্য লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েল আহমেদ ও তার ছোট ভাই সোহেল আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ফরিদপুরে আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ, রাতের আঁধারে মনিরুলের রহস্যময় মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১১ পিএম
ফরিদপুরে আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ, রাতের আঁধারে মনিরুলের রহস্যময় মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় মনিরুল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির উঠান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মনিরুল ইসলাম শিবরামপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির উঠানে থাকা একটি আমগাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন মনিরুল। সকালে তার ছেলের স্ত্রী উর্মি বেগম প্রথমে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামান। পরে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে, ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মনিরুল ইসলাম স্বল্পভাষী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যুর খবরে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘শুধু তোমার জন্য’

আরফান হোসাইন রাফি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
‘শুধু তোমার জন্য’

আমি ব্যতীত পৃথিবীর সবকিছুকে তুমি ভালোবেসেছিলে, শুধু আমাকে ভালোবাসোনি। সেই অভাবের আঘাত বুকে আঁকড়ে ধরে রাতের নিদ্রা হারিয়েছি, অন্ধকারে মনকে ছিঁড়ে ফেলে তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি।

তোমাকে পাওয়ার তীব্র লোভে কখনো স্রষ্টাকে ভুলে গেছি, কখনো সৃষ্টি ভুলে ইহকাল পাড়ি দিয়েছি। সেই সময় নিজেকে ভেঙে দিয়েছি, নিজের অনুভূতির সঙ্গে অন্যায় করেছি, স্বপ্ন আর আশা ত্যাগ করেছি, শুধু তোমার জন্য।

আমার মন যখন পূর্ণ হত আশা আর ভালোবাসায় তখনই বুঝেছি এই চেষ্টা ছিল একপাশের একমুখী। তুমি পৃথিবীর সবকিছুকে ভালোবেসে যেও কিন্তু আমাকে কখনো সে জায়গা দেওনি। এই অভাব এই ক্ষত আমার জীবনের প্রতিটি কোণে লেগে আছে।

নিজের কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে আমি শিখেছি যে অন্যায় আমি একালে করেছি তার শাস্তি আমাকে স্বরূপ পেয়েছে। সকালে আমার জান্নাতও হারিয়েছে কিন্তু এই ব্যথা আমাকে শক্তি দিয়েছে আমাকে তৈরি করেছে নিজের জন্য নিজের অস্তিত্বের জন্য।

সবশেষে আমি বুঝতে পেরেছি ভালোবাসার লোভে যে পথ পাড়ি দিয়েছি তার শিক্ষা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। তবুও এই বেহায়া মন তোমারই অপেক্ষায় চেয়ে থাকে।

ভাঙ্গায় আ’লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ভাঙ্গায় আ’লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৬ ফ্রেব্রয়ারী) রাত ১০টার দিকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। এর আগে একইদিন রাতে ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এঘটনা ঘটে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। তখন থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। ওই অবস্থায় সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি একাই সেখানে উপস্থিত হন। তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং নিজেই পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাতের উদ্যোগে এ পতাকা টাঙানো হচ্ছে।

এ ছাড়া ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের নির্দেশে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পতাকা উত্তোলনের সময় তিনি ‘নিক্সন চৌধুরী আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ‘আমরা সারা দিন-রাত টহল দিয়েছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের চোখে পড়েনি। কিংবা কেউ অভিযোগও দেয়নি। কেউ যদি রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা হামলার মতো একটি পতাকা টাঙিয়ে ভিডিও করে আবার পালিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আমাদের করার কী থাকে?

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক আশরাফ শেখ বলেন, রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে হবে ভাঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনৈক ব্যাক্তি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে তার একটি ভিডিও দেখলাম।

তিনি বলেন, তারা রাতের বেলায় পতাকা টানিয়ে পালিয়ে গেছে, কেউ দেখেনি। তবে দিনের বেলায় কেউ সাহস পাবে না। আমরা ছাত্র জনতা আন্দোলন করেছি। আবার ছাত্র জনতাকে নিয়ে প্রতিহত করব। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ভাঙ্গায় করতে দেওয়া হবে না।