খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

মধুখালীতে পরকীয়ার অভিযোগে নারী-পুরুষকে গাছে বেঁধে হেনস্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মধুখালীতে পরকীয়ার অভিযোগে নারী-পুরুষকে গাছে বেঁধে হেনস্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক যুবক ও এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গাংনীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে থাকা অলেমান নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার রাকিব শেখ নামে এক যুবকের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা ওই নারী ও যুবককে একটি নির্জন ঘরে একসঙ্গে দেখতে পান। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাদের আটক করে বাড়ির সামনে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে নানা ধরনের কটূক্তি ও হেনস্তা করা হয়। ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

অভিযুক্ত যুবক রাকিব শেখ দাবি করেন, “এই মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ের আগ থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি তাকে দেখতে এসেছিলাম। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, এ ধরনের ঘটনা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। এতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ভুক্তভোগীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সচেতন মহল এ ধরনের জনতার বিচার বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফরিদপুরে তেল সংকটে চাষাবাদে চরম ভোগান্তি, সেচ বন্ধের শঙ্কায় ধান-পাট উৎপাদন

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তেল সংকটে চাষাবাদে চরম ভোগান্তি, সেচ বন্ধের শঙ্কায় ধান-পাট উৎপাদন

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে। জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় চাষাবাদে নেমেছে স্থবিরতা। ডিজেল সংকটে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ধান ও পাটসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে চাহিদামতো ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, পরিবহন চালক ও সাধারণ ভোক্তারা। অধিকাংশ পাম্পে অনিয়মিত সরবরাহ, কোথাও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড, আবার কোথাও দীর্ঘ সারি, সব মিলিয়ে অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক কার্ড নিয়েও অনেকে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও পাম্পে এসে লাইনে দাড়িয়ে ডিজেল নিচ্ছেন। তবে অধিকাংশ মানুষের কাছে কৃষক কার্ড দেখা যায়নি। কৃষক কার্ড ছাড়াও ডিজেল নিচ্ছেন পুরুষদের পাশাপাশি নারী কৃষাণীরাও।

ফরিদপুর দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী জেলা। বর্তমানে পাট আবাদের মৌসুম চলমান থাকলেও জ্বালানি সংকটে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত তেলের স্লিপেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান ও পাটের চারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে পুরো মৌসুমের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সালথা উপজেলার সোনাপুর গ্রামের কৃষক তারা শেখ বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। একদিন সামান্য ডিজেল পেলেও তা দিয়ে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দীর্ঘদিনের হতাশা ও বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সতেরো বছর পর আবার ধান লাগিয়েছি, কিন্তু এখন তেলের অভাবে জমিতে পানি দিতে পারছি না।’ ফসল বাঁচাতে পারবো কি না জানি না। আমরা এখন দিশেহারা।

বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া গ্রামের কৃষক কবির শেখ বলেন, বোয়ালমারী নাহার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নিশ্চিত হতে পারছি না তেল পাব কি না। টোকেন নিয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

শুধু কৃষকরাই নয়, ট্রাক্টর চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও পড়েছেন বিপাকে। ট্রাক্টর চালকদের অভিযোগ, একেকজনকে মাত্র ১০ লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে দীর্ঘ সময় জমি চাষ করা সম্ভব নয়। পরিবহন চালকরাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে গাড়ি চালাতে পারছেন না। এতে যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।

জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় কোথাও কোথাও টোকেন পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট কিছু পাম্প থেকে তেল নেওয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের চাপ প্রয়োগ করা হয়। এজন্য অনেক পাম্প মালিক হতাশায় ভুগছে।

জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রায় ৪০টি পাম্পে প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার বদিউজ্জামান পলাশ বলেন, জেলায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমরা পাম্পগুলোকে সীমিত তেল হলেও নিয়ম মেনে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, ফরিদপুরে কার্যত পাম্প মালিকদের মধ্যে সমন্বয় নেই। বাস মালিক সমিতির প্রভাবে মাত্র দুইটি নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নিতে অনেককে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে অন্য পাম্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি নির্ধারিত পাম্প থেকে তেল নেওয়ার টোকেন না দেখাতে পারলে পরের দিন বাস চলাচলেও সমস্যা করা হচ্ছে, যা দেশের অন্য কোথাও সাধারণত দেখা যায় না।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে চলতি মৌসুমে ধান ও পাট উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। তারা জরুরি ভিত্তিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবারও শাস্তি হবে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবারও শাস্তি হবে

মৃত্যু প্রাণীজীবনের অবিচ্ছেদ্য সত্য।কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না, এ সত্য থেকে কেউই পালাতে পারে না। রাব্বুল আলামিন মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কিয়ামতের দিন পাবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫, সুরা আনকাবুত : ৫৭)

অর্থাৎ ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, শক্তিশালী-দুর্বল; সবার জন্যই মৃত্যু এক অনিবার্য গন্তব্য। আর আমরা যে দুনিয়ায় বাস করি, এটি সাময়িক। এখানে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আশা-হতাশা সবই অস্থায়ী। কিন্তু মানুষ ভুলে যায় মৃত্যুর কথা, মায়ার দুনিয়ার চাকচিক্যেই সে বেশি ডুবে থাকে।

অথচ সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’ (আয়াত : ৬১)

মৃত্যুকে ‘আলিঙ্গনের’ পর প্রত্যেকের কাছে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সামনে তার মূল বাসস্থানকে তুলে ধরা হবে। সে যদি জান্নাতি হয়, তবে জান্নাতের বাসস্থান আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান। পরে বলা হবে, এই তোমার স্থান। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবেন। (তিরমিজি : ১০৭২)

প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমরা স্বভাবজাতভাবেই কষ্ট পাই। কান্না করি। তবে মা-বাবার মৃত্যুতে সন্তানদের হৃদয় ভেঙে যায়। জীবন এক প্রকারের ছায়াহীন হয়ে পড়ে। কারণ, দুনিয়াতে সন্তানের জন্য একমাত্র মা-বাবাই নিঃস্বার্থভাবে কল্যাণ কামনা করেন। তাই দুনিয়াজুড়ে মা-বাবার প্রতি প্রতিটি সন্তানেরই আলাদা টান। আলাদা মায়া। প্রত্যেকেই চান, তার মা-বাবা যেন পরপারে ভালো থাকেন। শীতল পরশে থাকেন।

মা-বাবার মৃত্যুর কথা সামনে আসতেই অনেকে জানতে চান, ‘সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে? সন্তান দুনিয়াতে খারাপ কাজ করলে মা-বাবা কি এর ভাগিদার হবেন?’

চলুন, এ প্রসঙ্গে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জেনে নিই—

কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ, শিশুরা তা বুঝতে অক্ষম। তাই ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই মা-বাবাকে তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। শৈশব থেকেই তাদের মনে পুণ্যলাভের আকাঙ্ক্ষা এবং পাপাচারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে।

সন্তানকে কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাপাচারের প্রতি উৎসাহিত করা যাবে না। কারণ, পৃথিবীতে কোনো মা-বাবা সন্তানকে ইসলামে নিষিদ্ধ কাজের বিষয়ে নিষেধ না করলে এবং এর ক্ষতির দিক না বুঝালে তাদের পরকালে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গ (স্ত্রী-সন্তানদের) জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সুরা তাহরিম : ৬)

সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়ের দায়ভার

কোরআনের ভাষ্যমতে মা-বাবা সন্তানদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ না নিলে সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের দায়ভার তাদেরও বহন করতে হবে। এমনকি তারা মারা যাওয়ার পরও সন্তানের গোনাহের একটা অংশ (যে কাজে জীবিত থাকাকালে তারা নিষেধ করেননি, বরং সমর্থন জানিয়েছেন) তাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে।

ইবনে মাজাহের এক হাদিসে হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) জানিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তাদের সওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার ওপর নিজের গোনাহ বর্তাবে। এ ছাড়া তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গোনাহের অংশীদারও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গোনাহর পরিমাণ একটুও কমানো হবে না। (ইবনে মাজাহ : ২০৩)

যেসব মা-বাবার ওপরে সন্তানের পাপের শাস্তি বর্তাবে না

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লার ভাষ্য মতে, মা-বাবা যদি সন্তানকে সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেন, তাদের পাপাচার ও গোনাহ থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং পৃথিবীতে কখনো সন্তানকে পাপাচারের প্রতি উৎসাহ কিংবা তার কোনো মন্দ কাজে সমর্থন না দিয়ে থাকেন; এমন অবস্থার পরও যদি সন্তান পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাহলে তার এমন কাজের জন্য মা-বাবাকে দুনিয়ার জমিনে অথবা কবরে কোনো শাস্তি ভোগ করতে হবে না।

তিনি বলেন, সন্তান যদি মা-বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী নেক আমল করে তাহলে মা-বাবার কবরে এর সওয়াব পৌঁছাবে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না— ১. সদকায়ে জারিয়া। ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। ৩. এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম : ৪১১৫)

সূত্র : কালবেলা

ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না এই ৪ কথা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না এই ৪ কথা

‘সম্পর্ক’ শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে থাকে বিশ্বাস, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্মান। কোনো সম্পর্কই একদিনে গড়ে ওঠে না; সময়, যত্ন আর বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়েই সম্পর্ক ধীরে ধীরে শক্ত ভিত পায়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, যে সম্পর্ক গড়তে বছরের পর বছর লাগে, সেটি ভেঙে যেতে পারে খুব ছোট্ট একটি ভুলের কারণে।

সম্পর্ক যতই দৃঢ় হোক না কেন, এটি ভীষণ সংবেদনশীল। অনেক সময় বিচ্ছেদ না ঘটলেও কিছু কথার কারণে সম্পর্কে নেগেটিভ প্রভাব পড়ে, যা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করে। তাই সম্পর্ক ভালো রাখতে হলে যেমন ভালোবাসা প্রকাশ করা জরুরি, তেমনি কিছু কথা একেবারেই এড়িয়ে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জানুন, এমন ৪টি কথা যেগুলো ভুলেও সঙ্গীকে বলা উচিত নয়।

১. ‘তোমাকে জীবনসঙ্গী ভেবে ভুল করেছি’

রাগের মাথায় বলা এই একটি বাক্য সঙ্গীর মনে গভীর আঘাত দিতে পারে। ঝগড়ার সময় অনেক কিছুই বলা হয়, কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। পরবর্তীতে সব ঠিক হয়ে গেলেও এই কথার রেশ থেকে যায়। এতে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আপনার প্রতি সঙ্গীর বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

২. সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেওয়া

সব মানুষ এক রকম আর্থিক অবস্থায় থাকে না, এটাই বাস্তবতা। আপনি বেশি আয় করেন, সঙ্গী কম; এটা কখনওই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষয় হতে পারে না। অর্থ নিয়ে ঠাট্টা বা অপমান করলে তা সরাসরি আত্মসম্মানে আঘাত করে। এতে সঙ্গীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আপনি কি সত্যিই এই সম্পর্কে সন্তুষ্ট? এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

৩. পরিবার বা বন্ধুদের অপমান করা

প্রত্যেক মানুষের জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের আলাদা গুরুত্ব থাকে। তারা যেমনই হোক, তারা সঙ্গীর আপনজন। তাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করলে আপনি নিজেই সঙ্গীর চোখে ছোট হয়ে যাবেন। এতে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি হয় এবং মনের ভেতর জমে ওঠে ক্ষোভ।

৪. সঙ্গীর দুর্বলতা নিয়ে মজা করা

মানুষ মাত্রই কোনো না কোনো দুর্বলতা থাকে। অনেকেই ছোট ছোট বিষয় নিয়েও হীনমন্যতায় ভোগেন। সেই জায়গাগুলো নিয়ে হাসিঠাট্টা করলে তা গভীরভাবে কষ্ট দেয়। এতে সঙ্গীর আত্মবিশ্বাস কমে যায়। বরং তার দুর্বলতা বুঝে পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত আপনার দায়িত্ব। ভালোবাসা মানে শুধু আনন্দ ভাগাভাগি নয়, বরং কঠিন জায়গায় ভরসা হয়ে দাঁড়ানোও।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বড় কোনো ত্যাগ সব সময় প্রয়োজন হয় না; বরং ছোট ছোট সচেতনতা, সংযম আর সম্মানই পারে একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে। মনে রাখবেন, ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি কী বলা উচিত নয়; এটা জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে