খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ সংবাদ প্রকাশ, পরদিনই মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ সংবাদ প্রকাশ, পরদিনই মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জয়বাংলা মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকদের মাধ্যমে মহাসড়কের পাশে নির্মিত দোকানঘরের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ ‘ফরিদপুরে মহাসড়কের সরকারি জমি দখল, বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে দোকান নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইউনুস মোল্লা ও তার ছেলে ওসমান মোল্লা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করছেন।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং তদন্তের পরপরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, সরকারি জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “মহাসড়কের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে তদন্ত করি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আজ শনিবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকানঘর অপসারণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি দখল করে কেউ যেন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে সে বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের পাশের এসব জায়গা সরকারি অধিগ্রহণকৃত হওয়ায় সেখানে স্থাপনা তৈরি হলে ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ বা যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারত। তাই দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

 

ঋণগ্রস্ত হলে জাকাত দেবেন, নাকি পাবেন? জানুন ইসলামের বিধান

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
ঋণগ্রস্ত হলে জাকাত দেবেন, নাকি পাবেন? জানুন ইসলামের বিধান

ইসলামে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা সমাজে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। ধনী ও সচ্ছল মানুষের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্ধারিত—এটাই জাকাতের মূল দর্শন।

এর মাধ্যমে সম্পদ শুধু ধনীদের হাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সুষমভাবে বণ্টিত হয়। একই সঙ্গে জাকাত মানুষের সম্পদকে পবিত্র করে এবং তার হৃদয়ে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।

অনেক সময় কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় থাকতে পারেন। তখন জাকাত আদায় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জাকাত আদায়ের বিষয়টি বোঝা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জাকাতের বিধান

জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির প্রথম দায়িত্ব হলো তার ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ পরিশোধের পর যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই সম্পদের ওপর জাকাত আদায় করতে হবে। সাহাবি হজরত উসমান (রা.) রমজান মাসে জাকাত প্রসঙ্গে বলেন—

هَذَا شَهْرُ زَكَاتِكُمْ، فَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَلْيُؤَدِّ دَيْنَهُ، حَتَّى تَحْصُلَ أَمْوَالُكُمْ فَتُزَكُّوهَا

‘এটি তোমাদের জাকাতের মাস। অতএব, কারো ওপর যদি ঋণ থাকে, তবে সে যেন প্রথমে তার ঋণ পরিশোধ করে। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তার জাকাত আদায় করবে।’ (মুয়াত্ত্বা মালেক ৮৭৩)

তবে কেউ যদি ঋণ পরিশোধ না করে সেই সম্পদ নিজের কাছে রেখে দেয়, তাহলে তার সব জাকাতযোগ্য সম্পদের ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ হবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا

‘তাদের সম্পদ থেকে সদকাহ গ্রহণ কর, যার মাধ্যমে তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে।’ (সুরা আত-তওবা: আয়াত ১০৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবনু ওমর (রা.)-এর বর্ণিত এক হাদিসে বলেন—

مَنِ اسْتَفَادَ مَالًا فَلَا زَكَاةَ عَلَيْهِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ

‘যে ব্যক্তি কোনো সম্পদ অর্জন করে, সেই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর জাকাত ফরজ হবে না।’ (তিরমিজি ৬৩২)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) মুআয ইবনু জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেন—

فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ

‘তাদেরকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাদের সম্পদের মধ্যে সদকাহ ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে এবং দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’ (বুখারি ১৩৯৫)

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানিতে সিক্ত জমিতে উৎপাদিত ফসলের ওপর দশ ভাগের এক ভাগ জাকাত এবং সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের ওপর বিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত ওয়াজিব হয়।

فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ، وَفِيمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ

‘যে জমি বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানিতে সেচ পায়, তার ফসলের ওপর দশভাগের এক ভাগ; আর যে জমি কৃত্রিম সেচে সেচ দেওয়া হয়, তার ফসলের ওপর বিশভাগের এক ভাগ জাকাত।’ (বুখারি ১৪৮৩)

উল্লিখিত কুরআনের আয়াত ও হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, জাকাত মূলত সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। অর্থাৎ, সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছালে জাকাত ওয়াজিব হয়। ব্যক্তির ঋণজনিত পরিস্থিতি এ বিধানের মূল ভিত্তি নয়।

لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ

‘কোনো সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তাতে জাকাত নেই।’ (মুসলিম ১০৪৫)

সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য জাকাত আদায়ের বিধান সুস্পষ্ট। প্রথমে তার দায়িত্ব হলো ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ পরিশোধের পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়, তাহলে সেই সম্পদের ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ। ইসলামের এই বিধান একদিকে যেমন মানুষের আর্থিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে, তেমনি সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে।

সূত্র : যুগান্তর

ফরিদপুরের দুর্গম চরে মানবিক উদ্যোগ, ৫০ পরিবার পেল রমজান ও ঈদ উপহার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১:৪১ পিএম
ফরিদপুরের দুর্গম চরে মানবিক উদ্যোগ, ৫০ পরিবার পেল রমজান ও ঈদ উপহার

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংযোগ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে জেলার ডিক্রীরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও দরিদ্র ৫০টি পরিবারের মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চরাঞ্চলের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা প্যাকেজে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, সেমাইসহ রমজানের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে কিছু প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রীও প্রদান করা হয়।

উপহার বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন- সংযোগ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তার শাহরিয়ার সিয়াম, সংগঠনের রাজবাড়ী জেলা সমন্বয়ক তৌহিদুর রহমান রুপম এবং সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষী চিকিৎসক ডা. আহমেদ সৌরভ। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংযোগ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার সিয়াম জানান, চরাঞ্চলের মানুষ সাধারণত নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। বিশেষ করে রমজান ও ঈদের মতো উৎসবের সময় তাদের কষ্ট আরও বেশি অনুভূত হয়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা চাই, রমজান ও ঈদের আনন্দ যেন সবাই সমানভাবে ভাগাভাগি করতে পারে। ভবিষ্যতেও সংযোগ ফাউন্ডেশন এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”

খাদ্য ও ঈদ সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি ও আনন্দের বিষয়।

সংযোগ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

ঈদের আগে দামপতনে বিপাকে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষি, লোকসানে বিক্রি করছেন আগাম ফসল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
ঈদের আগে দামপতনে বিপাকে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষি, লোকসানে বিক্রি করছেন আগাম ফসল

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে এই ফসলের ওপর। প্রতিবছরের মতো এবারও দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে।

তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বিশেষ করে রমজান মাসের আগে নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে অনেক কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তারা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।

গত বছরের লাভ, এ বছরের হতাশা:

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। অনেক কৃষক তখন অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন।

গত মৌসুমে প্রতিমণ পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এতে কৃষকেরা উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও অনেকে আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে আসেন।

কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

বাজারে ক্রেতা কম, হতাশ কৃষক:

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই অনেক কৃষক মাথায় বা ভ্যানে করে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে এসেছেন। কিন্তু ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

পাইকাররা কম দামে পেঁয়াজ কিনছেন, আবার অনেক সময় দরদাম না মেলায় কৃষকেরা পণ্য নিয়ে বসে থাকছেন দীর্ঘ সময়। শেষ পর্যন্ত সংসারের প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ মনে বাড়ি ফিরছেন।

উৎপাদন খরচই উঠছে না:

বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে। ফলে প্রতিমণে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রমজান মাসে সংসারের খরচ বেশি থাকে। সেই কারণে বাধ্য হয়েই আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনতে হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সংসার তো চালাতে হবে।”

অপরিপক্ক পেঁয়াজ সংরক্ষণও সম্ভব নয়:

কৃষকেরা জানান, বর্তমানে যে পেঁয়াজ বাজারে আসছে সেগুলো পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি। এসব পেঁয়াজ পরিপক্ক হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।

অপরিপক্ক অবস্থায় তোলা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। ঘরে রেখে দিলে দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে হলেও বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরাও বিপাকে:

পেঁয়াজের বাজার খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও খুব বেশি লাভ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।

স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন,
“গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার খুব খারাপ। আমরা বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিকেজি ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনছি। পরে এসব পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হচ্ছে। সেখানে অনেক সময় প্রতিকেজিতে ১ থেকে ২ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কৃষক ভালো দাম পেলে আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়। কিন্তু বাজার খারাপ থাকলে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েন।”

ভালো দামের প্রত্যাশা:

ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মনে করেন, যদি পেঁয়াজের দাম প্রতিমণ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে থাকে, তাহলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ:

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, “সাধারণত পেঁয়াজ উত্তোলনের মূল সময় আর এক মাস পর শুরু হবে। কিন্তু অনেক কৃষক এখনই পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি দামও কম পাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অপরিপক্ক অবস্থায় পেঁয়াজ তোলা হলে এর আকার ছোট হয় এবং সংরক্ষণক্ষমতাও কমে যায়। তাই কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যতটা সম্ভব পরিপক্ক হওয়ার পরই পেঁয়াজ তুলতে।”

বিপুল উৎপাদনের সম্ভাবনা:

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা ও নগরকান্দায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং রোগবালাই কম হয়, তাহলে এবার দুই উপজেলায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে বাজারদর স্থিতিশীল না থাকলে সেই সুফল কৃষকেরা নাও পেতে পারেন।

কৃষকের দাবি:

স্থানীয় কৃষকেরা মনে করেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বাজারে অস্থিরতা কমাতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

কৃষকেরা জানান, যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়, তাহলে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং দেশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঞ্চল।

সার্বিক পরিস্থিতি:

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার কৃষি অর্থনীতির বড় অংশই নির্ভর করে পেঁয়াজ চাষের ওপর। তাই বাজারে দাম কমে গেলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে হাজারো কৃষক পরিবারের ওপর।

বর্তমানে আগাম পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষক লোকসানে পড়লেও তারা আশা করছেন, মৌসুমের মূল সময়ে বাজারদর কিছুটা বাড়বে।

তবে কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।