খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের নগরকান্দা মডেল মসজিদের প্রাচীর নির্মাণ ঘিরে ক্ষোভ, জমি দখলের আশঙ্কা

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দা মডেল মসজিদের প্রাচীর নির্মাণ ঘিরে ক্ষোভ, জমি দখলের আশঙ্কা

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনের অংশ বাদ দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট সরকারি জমি সীমানার বাইরে রেখে এই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মূল্যবান এই সরকারি জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদের সামনে মুসল্লিদের চলাচল, যানবাহন পার্কিং এবং প্রয়োজনে জানাজার নামাজের জন্য প্রায় ২ হাজার বর্গফুট খোলা জায়গা রাখা হয়। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে ও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়গাটিতে টাইলস বসিয়ে দেন। সারা দেশের অন্যান্য মডেল মসজিদের সামনেও এমন পরিবেশ রাখা হয়েছে।

​কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন সীমানা অনুযায়ী কাজ না করে মসজিদের সামনের আনুমানিক ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জমি সীমানার বাইরে রেখে প্রাচীর নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের মূল দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও তাদের এমন পদক্ষেপে মূল্যবান খাস জমিটি দখলের ঝুঁকি বাড়ছে। সুযোগসন্ধানীরা পরবর্তীতে এই জায়গায় দোকানঘর বা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

​স্থানীয়রা জানান, জুমার দিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মুসল্লি এই মসজিদে আসেন। সামনের যেটুকু জায়গা ব্যবহারযোগ্য ছিল, তা সীমানার বাইরে চলে গেলে মুসল্লিদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

​জমি বাইরে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আগের ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ইঞ্জিনিয়াররা মসজিদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সুন্দর পরিবেশে মসজিদটি করা হয়েছিল। এখন কার স্বার্থে বা কাকে খুশি করতে উপজেলা প্রশাসন মসজিদের জায়গা বাইরে রেখে প্রাচীর দিচ্ছে, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমরা চাই, মসজিদের পুরোটাই সীমানার ভেতরে রেখে প্রাচীর দেওয়া হোক।”

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরকান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান বলেন, “মসজিদের সামনের জায়গাটি সরকারি খাস জমি, এটি মসজিদের জায়গা নয়। তাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে এভাবে জায়গাটি বাইরে রাখলে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।

​একই বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি জানান, মসজিদের সামনের অংশ সরকারি খাস জমি হলেও মসজিদের নিজস্ব জমি না হওয়ায় ওই অংশটি বাদ দিয়েই সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে।

​এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফরিদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুর শহরের পূর্ব কাপুরা রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে স্বপন কুমার (৩৫) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

​বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত স্বপন কুমার ফরিদপুর শহরের পূর্ব কাপুরা এলাকার বাসিন্দা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফরিদপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন পূর্ব কাপুরা রেলক্রসিং এলাকা অতিক্রম করার সময় স্বপন কুমার অসাবধানতাবশত ট্রেনে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

​খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

​ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার ও রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চন্দ্রপাড়া দরবারে তিন শতাধিক অসচ্ছল মানুষকে সহায়তা, ওরসের তারিখ ঘোষণা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
চন্দ্রপাড়া দরবারে তিন শতাধিক অসচ্ছল মানুষকে সহায়তা, ওরসের তারিখ ঘোষণা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে তিন শতাধিক অসচ্ছল মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পুঁজি ও মূলধন সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান উপকারভোগীদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন। অসচ্ছল মানুষকে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ দেওয়া হয়। এসব সহায়তার মাধ্যমে উপকারভোগীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও আয় বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর ওফাত উপলক্ষ্যে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ কামরুজ্জামান আসন্ন বার্ষিক ওরস শরীফের তারিখ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৩ জানুয়ারি ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে, ওরস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বাদ জোহর থেকে বুধবার বাদ ফজর পর্যন্ত দরবার শরীফে জলসায়ে ওরস পাক-এ-শাহ্ চন্দ্রপুরী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্ত সমবেত হন। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার এবং শরিয়ত ও তরিকতবিষয়ক ওয়াজ-নসিহত করা হয়।

বুধবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। মোনাজাতে বিশ্বজুড়ে সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি মহান আল্লাহর নৈকট্য প্রার্থনা করা হয়।

শিশু অস্থির? মা-বাবা যা করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
শিশু অস্থির? মা-বাবা যা করবেন

শৈশব মানেই শুধু খেলাধুলা আর আনন্দ নয়, এই সময় থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় শিশুদের। স্কুলের পড়া শেষ করা, সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো, বাড়ির কাজ সামলানো কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফল করার চাপ, সব মিলিয়ে ছোটদের মনেও তৈরি হতে পারে উদ্বেগ।অনেক সময় তারা নিজের অস্বস্তি মুখে প্রকাশ করতে পারে না। রাগ, কান্না, অস্থিরতা কিংবা হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়।এমন পরিস্থিতিতে মা-বাবা অনেক সময় সন্তানকে বকাঝকা করেন বা দ্রুত সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিতে থাকেন। কিন্তু উদ্বিগ্ন শিশুর প্রথম প্রয়োজন হলো নিরাপত্তা, বোঝাপড়া ও ধৈর্য।

তাকে নিজের অনুভূতি চিনতে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুর উদ্বেগের মুহূর্তে মা-বাবা কীভাবে পাশে থাকবেন, সে বিষয়ে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা যেতে পারে।

* সব সময় পরামর্শ না দিয়ে শিশুকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন

সন্তান কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত হলে মা-বাবা স্বাভাবিকভাবেই তাকে সমাধানের পথ দেখাতে চান। তবে প্রতিটি সমস্যায় সরাসরি নির্দেশনা না দিয়ে শিশুকে নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দেওয়া জরুরি।

ইউনাইটেড উই কেয়ারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ভাসুধা আগরওয়াল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিশুর অনুভূতি বোঝা এবং বয়স অনুযায়ী নিজে সমস্যা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ধরা যাক, পরীক্ষার আগে সন্তান খুব নার্ভাস। এ সময় বারবার ‘এটা পড়েছ?’, ‘ওটা মুখস্থ হয়েছে?’ বলে চাপ বাড়ানোর বদলে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, ‘কোন বিষয়টা নিয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে?’ এরপর তার কথা শুনে কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, সে বিষয়ে নিজে পরিকল্পনা করতে উৎসাহ দিন। প্রয়োজনে পাশে থেকে সহায়তা করুন, তবে সব সিদ্ধান্ত তার হয়ে নেবেন না।

* কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে আগেই পরিকল্পনা করুন

কোনো বিষয় নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ তৈরি হলে শিশুর সঙ্গে বসে একটি সহজ পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। যেমন, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পড়ার সময় ভাগ করে দেওয়া, মাঝেমধ্যে বিরতি রাখা কিংবা কঠিন অধ্যায়গুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেওয়া।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু না হলে শিশুকে ব্যর্থ মনে করানো যাবে না। বরং কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা বুঝে নতুনভাবে চেষ্টা করতে উৎসাহ দিন। খেলাধুলার ছলে বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুশীলন করানোও কাজে আসতে পারে। এতে কঠিন বিষয়কে শিশুর কাছে কিছুটা সহজ ও পরিচিত করে তোলা সম্ভব।

* আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এমন কথা বলুন

শিশু উদ্বেগের কথা জানালে তাকে দুর্বল বা ভীতু বলে আখ্যা দেবেন না। ‘এত ভয় পাওয়ার কী আছে?’ কিংবা ‘এতটুকু পারছ না কেন?’ এ ধরনের কথা তার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘তোমার চিন্তা হচ্ছে, সেটা আমি বুঝতে পারছি’, ‘চলো, আমরা একসঙ্গে উপায় খুঁজি’ কিংবা ‘একবারে সব করতে হবে না, ধীরে ধীরে চেষ্টা করো।’ এ ধরনের কথায় শিশু বুঝতে পারে, তার অনুভূতি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং সমস্যা সামলাতে সে একা নয়। একইসঙ্গে তাকে মনে করিয়ে দিন, ভুল করা শেখারই একটি অংশ।

* শরীর ও মন শান্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

উদ্বেগের সময় শিশুর হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, শ্বাস দ্রুত হতে পারে কিংবা শরীর শক্ত হয়ে আসতে পারে। তাই নিজের শরীরের এসব পরিবর্তন চিনতে শেখানো উপকারী। শিশুকে আরাম করে বসতে বলুন। তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করাতে পারেন। বয়স উপযোগী হলে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে বসা, পছন্দের গান শোনা কিংবা অল্প সময় হাঁটাহাঁটিও তাকে স্বস্তি দিতে পারে। শিশু খুব বেশি অস্থির থাকলে জোর করে কোনো অনুশীলন করাবেন না। তার প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দিন এবং কোন পদ্ধতিতে সে স্বস্তি বোধ করে, তা বুঝতে চেষ্টা করুন।

* আলিঙ্গন ও স্নেহের মাধ্যমে পাশে থাকুন

সন্তান উদ্বিগ্ন বা ভীত হলে মা-বাবার স্নেহপূর্ণ উপস্থিতি তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। শিশু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে তাকে আলিঙ্গন করা, হাত ধরে রাখা কিংবা পাশে বসে থাকা প্রশান্তি দিতে সাহায্য করতে পারে। সব শিশু একইভাবে স্নেহ প্রকাশ পছন্দ করে না। কেউ আলিঙ্গন চাইতে পারে, আবার কেউ কিছুটা ব্যক্তিগত জায়গা পছন্দ করতে পারে। তাই শিশুর ইচ্ছা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন। সে কথা বলতে না চাইলে জোর না করে তাকে বুঝিয়ে দিন, প্রয়োজন হলে আপনি তার পাশে আছেন।

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন?

শিশুর মধ্যে মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। উদ্বেগ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, ঘুম, খাওয়াদাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

শিশুকে উদ্বেগ থেকে দূরে রাখার অর্থ তার জীবনের সব চ্যালেঞ্জ সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং তাকে অনুভূতি বুঝতে, সমস্যা নিয়ে কথা বলতে এবং ধীরে ধীরে নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলাতে শেখানোই গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার ধৈর্য, সহমর্মিতা ও নিরাপদ আশ্রয় শিশুকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।