খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-১ : আ.লীগ ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শাহ জাফর

মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-১ : আ.লীগ ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শাহ জাফর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক আসনে পরিণত হয়েছে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী)। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক সমীকরণ।

বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট (জেপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কৌশল, ভোট বিভাজন এবং নীরব ভোটের হিসাব-নিকাশে নির্বাচনটি হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। তবে সাংগঠনিক শক্তি ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এগিয়ে থাকার সম্ভাবনার কথাও বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এই জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৮১ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন ফিল্ড কমান্ডার। স্বাধীনতার আগে ফরিদপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন এবং ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিজয়ী পতাকা উত্তোলনের ইতিহাসও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় পেরিয়ে এবার তিনি ১১তম বারের মতো সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট (জেপি) প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালমারী প্রেসক্লাবের একাংশের সঙ্গে স্থানীয় পত্রিকা আল-হেলাল স্কয়ারে এবং রাতে আরেক অংশের সঙ্গে বোয়ালমারী বার্তা টাওয়ারে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন শাহ জাফর।

সেখানে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করে যে ভুল করেছিল, এবার আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করাও একই ভুল। এই ভুলের ফল যারা সরকারে যাবে, তাদেরও ভোগ করতে হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা উচিত হয়নি। “দেশে এখনো আওয়ামী লীগের একটি বড় সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যারা কোনো অপরাধ করেনি। যদি তারা ভোট দিতে পারে, তবে প্রার্থী হতে পারবে না কেন? অপরাধীদের বিচার হোক, কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিয়েই নির্বাচন হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিত,”—মন্তব্য করেন তিনি।

বারবার দল বদলের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শাহ জাফর বলেন, রাজনীতিতে দল বদল করলেও এতে এলাকার মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং এরশাদ সরকারের সময় তিনটি উপজেলায় নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়েছে। “আমার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, কারো জমিজমি দখল করিনি—এ কথা আমার এলাকার মানুষই বলতে পারবে,” বলেন তিনি।

নির্বাচনী মাঠে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। “আমি রাজপথের মানুষ। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নির্বাচনে আছি, থাকব,”—দৃঢ় কণ্ঠে বলেন তিনি।

একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পর ১০ মার্চ ফরিদপুর অম্বিকা ময়দানে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি। “মৃত্যুকে মেনে নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সেদিন,” বলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

চারবার সংসদ সদস্য হয়েও অর্থসম্পদ গড়তে পারেননি দাবি করে শাহ জাফর বলেন, তিনি রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। নির্বাচনে পাওয়া অনুদান ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করেই রাজনীতি চালিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ:

প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহ জাফর একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতের প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লার নীরব ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে শাহ জাফর মাঠে টিকে আছেন। তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া রয়েছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর-১ আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বর্তমানে ৭ জন প্রার্থী বৈধ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা:

১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ (মালেক) থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাকশাল, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী হিসেবে মোট ১০টি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি চারবার বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনএম থেকে অংশ নিয়ে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভোট পান।

ভিন্নমতও রয়েছে:

শাহ জাফরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, “গণহত্যাকারী কোনো দলের সাফাই গাওয়া গণতন্ত্রবিরোধী। একটি দল ছাড়া সরকার টিকবে না—এই ধারণা জনগণকে ছোট করে দেখার শামিল।”

জানা গেছে, ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে একজন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। ১৯৭টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

ফরিদপুরের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র অবাধ ব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও আলফাডাঙ্গাসহ প্রায় সব উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ ফাঁদের বিস্তার ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব চায়না দুয়ারি বসিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদীর শাখা-প্রশাখায় বাঁশ, জাল ও প্লাস্টিকের জাল দিয়ে তৈরি চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। পানির প্রবাহের মুখে এসব ফাঁদ স্থাপন করায় ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় মোল্যা বলেন, “এ বছর মৎস্য বিভাগকে চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাতে দেখিনি। নদী-খালে অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এগুলো না সরালে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”

সালথা উপজেলার রহিম শেখ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে জাল ফেললেই নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলার আব্দুল জলিলের ভাষ্য, “অনেক সময় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়। স্থানীয় লোকজন জানালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়মিত অভিযান হলে এভাবে কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করতে সাহস পেত না।”

বোয়ালমারী উপজেলার হায়দার মাতুব্বর বলেন, “চায়না দুয়ারি শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা পর্যন্ত ধরে ফেলে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কায়সার খাঁন বলেন, “সরকার প্রতি বছর মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু চায়না দুয়ারির মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে সেই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলার কেরামত আলী বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, যারা বারবার এই ফাঁদ ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সবুর কাজল বলেন, “চায়না দুয়ারি এখন ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলের জন্য নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, এমনকি রেণুপোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নয়, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখতে পাবে।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি এমন একটি স্থায়ী ফাঁদ, যা পানির প্রবাহের মুখে বসানো হয়। এতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণুপোনা, কিশোর মাছ এবং ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, জেল অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরও সহজে বেশি মাছ ধরার আশায় অনেকেই এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রথমেই এসব চায়না দুয়ারি কোথায় তৈরি ও সরবরাহ হচ্ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করে উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু দুয়ারি জব্দ বা ধ্বংস করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গত পাঁচ বছরে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”*

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মৎস্যজীবী সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফাঁদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলে আবারও দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাইতো, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমরা চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) নামে দুই তরুণকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার রাজার চর ওয়াজ হাওলাদার কান্দি এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল কাজী উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ কাজী ছেলে ও আজিজুল শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) প্রায়ই মাদক সেবন করে পরিবারসহ এলাকার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর আচরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বুধবারও তারা মাদক ক্রয় করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশীকালে দুজনের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

‘ছেলেটা একেবারে মায়ের মতো’ কিংবা ‘মেয়েটা মায়ের স্বভাব পেয়েছে’—এ ধরনের কথা আমাদের সমাজে প্রায়ই শোনা যায়। এর অনেকটাই অবশ্য পারিবারিক পর্যবেক্ষণ। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এ ধারণার বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিন সন্তানের শরীর, মস্তিষ্ক এবং কিছু স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চলুন তাহলে জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিনের ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন