খুঁজুন
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে টেন্ডার ঘিরে ভয়ভীতি—৬ ঠিকাদারের অভিযোগ, পুনঃদরপত্রের দাবি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
ফরিদপুরে টেন্ডার ঘিরে ভয়ভীতি—৬ ঠিকাদারের অভিযোগ, পুনঃদরপত্রের দাবি

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের ইজারা নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সন্ত্রাসীদের ভয়-ভীতি ও বাধার কারণে একাধিক ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ইজারা নিতে মোট ৪৭ জন সিডিউল ক্রয় করেন। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দিতে গেলে জেল ফেরত সন্ত্রাসী ও কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জমা দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে করে অন্তত ছয়জন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, “আমরা নিয়ম মেনে সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের কারণে দরপত্র জমা দিতে পারিনি। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন।”

অভিযোগকারীদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহিন মন্ডল, আতাউর রশিদ (বাচ্চু), মিজানুর রহমান চৌধুরী, কে.এম নাজমুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী খান লাভলুসহ একাধিক ঠিকাদার রয়েছেন।

এছাড়া পৃথক আরেকটি আবেদনে বর্তমান ইজারাদার লিয়াকত আলী খান (লাভলু) একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তিনিও সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ফিরে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।

লিয়াকত আলী খান বলেন, “আমি বৈধভাবে বাজারের বর্তমান ইজারাদার। নতুন অর্থবছরের জন্যও নিয়ম অনুযায়ী অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার দরপত্র আহ্বান করা হোক।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন, তারা নিয়ম মেনেই দিয়েছেন। যারা জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ে আমাদের অবহিত করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “দরপত্র গ্রহণের পর তা মূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সন্ত্রাসী প্রভাব থাকলে দরপত্র প্রক্রিয়া কখনোই সুষ্ঠু হতে পারে না। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রতিযোগিতাও বাধাগ্রস্ত হয়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে, তাহলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য ইজারাদার নির্বাচন সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

চরভদ্রাসনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, মাদক নির্মূলে জোর দিলেন এমপি বাবুল

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৪ এএম
চরভদ্রাসনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, মাদক নির্মূলে জোর দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এর কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। তাই মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, চরভদ্রাসন উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এলাকার স্কুল-কলেজের মানোন্নয়ন, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন এমপি বাবুল।

সভা শেষে সংসদ সদস্য চরভদ্রাসন সদর বাজার পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি মতামত শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান, গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সভাপতি মো. ওহিদুজ্জামান মোল্যা, সদস্য মো. শাহজাহান সিকদার, এজিএম বাদল আমীন, মো. মঞ্জুরুল হক মৃধা, মো. মোস্তফা কবির, কেএম ওবায়দুল বারী দিপু ও যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল ওহাব মোল্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহিদ তালুকদার।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে যা যা লাগবে? এক পলকে দেখে নিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে যা যা লাগবে? এক পলকে দেখে নিন

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ধাপে পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারে নারীদের গুরুত্ব বাড়ানো এবং স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন দাবি করেন, কার্ড প্রদানের প্রক্রিয়াটি এতটাই স্বচ্ছ হবে যে, এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণ

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

আবেদন করতে যা যা লাগবে

যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে-

১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর

কোথায় আবেদন করবেন?

পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

এদিকে আসন্ন ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুইজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত আছেন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল, কী বার্তা দিচ্ছে সরকার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল, কী বার্তা দিচ্ছে সরকার?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় পদে রদবদল হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেনাসদর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। এর আগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে বিদেশে পদায়নের জন্য তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এর আগে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।

এ ছাড়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। আবার ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।