খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় শোকে ফরিদপুরে কলেজ অধ্যক্ষকে লাল গালিচায় বিদায়
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত তিনদিনের শোক চলাকালীন সময়ে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াছিন কলেজে এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শোক দিবস উপেক্ষা করে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় নেওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফজলুল হক খাঁনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সরকারি ইয়াছিন কলেজ প্রাঙ্গণে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফজলুল হক খাঁনের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটক থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত লাল গালিচা পাতা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি ও আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মাধ্যমে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অথচ একই দিনে দেশজুড়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ সময়ে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংযম ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখার কথা থাকলেও ইয়াছিন কলেজের এই আয়োজন সেই নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে “রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি অবজ্ঞা” এবং “সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ” বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে কীভাবে একটি সরকারি কলেজে এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলো?
কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শোকের দিনে এমন আয়োজন তাদের জন্য বিব্রতকর ছিল। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা কালো ব্যাজ পরে শোক পালন করছি, অথচ একই ক্যাম্পাসে লাল গালিচা পাতা বিদায় অনুষ্ঠান—এটা খুবই বেমানান।”
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়নি। এই যুক্তিকে অনেকেই গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় শোকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
ঘটনাটি এখন ফরিদপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় শোক ও জাতীয় অনুভূতির প্রতি আরও সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন
Array