খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে হামের শঙ্কা—দুই হাসপাতালে ১৪ শিশু ভর্তি, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের শঙ্কা—দুই হাসপাতালে ১৪ শিশু ভর্তি, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ

ফরিদপুরে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার দুটি সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে মোট ১৪টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে এসব শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন এবং সদর হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন আছে। তাদের সবার শরীরে জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো হামের সাধারণ উপসর্গ দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আবারও কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফরিদপুরেও প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুইজন শিশু এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। তবে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্তের জন্য ভর্তি শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।

এদিকে পাশের জেলা গোপালগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ায় ফরিদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সরকারি কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা প্রদান করা হয়। সরকারি হিসাবে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু এ টিকার আওতায় রয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী এ হার প্রায় ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ শিশু এখনও টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে বড় পরিসরে কোনো ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ফলে কিছু শিশু টিকা নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ অবস্থায় বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকা প্রদান করা জরুরি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ফরিদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ফরিদপুরে সীমানাপ্রাচীর টপকে চুরি, ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সীমানাপ্রাচীর টপকে চুরি, ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর টপকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলঝুড়ি গ্রামে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা মো. ফিরোজুর রহমান মুকুল (৫৫) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফিরোজুর রহমান মুকুল পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। গ্রামে তার বাড়ির পাশেই ছোট ভাই থাকেন। বুধবার গভীর রাতে ছোট ভাই ঘুম থেকে উঠে মুকুলের বাড়ির মূল গেট ও ভেতরের ঘরের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে ঢাকার অবস্থানরত মুকুলকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে দেখেন ঘরের ভেতরের সবকিছু তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে।

​ভুক্তভোগী মুকুল জানান, চোরচক্র দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ টাকা, ১৯টি ঘড়ি এবং একটি রাউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমীন জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাঙ্গায় নিজ ঘরে ঝুলছিল মোবাইল ব্যবসায়ীর লাশ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নিজ ঘরে ঝুলছিল মোবাইল ব্যবসায়ীর লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাসুম জোমাদ্দার (২৫) নামে এক মোবাইল ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণ ব্যবসায়ে লোকসান গুনে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

​বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

​নিহত মাসুম জোমাদ্দার ওই গ্রামের সিদ্দিক জোমাদ্দারের একমাত্র ছেলে। তিনি ভাঙ্গা বাজারের পদ্মা মোবাইল মার্কেটের ‘শাহানা টেলিকম’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক কাজে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহালে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। ব্যাবসায়িক ক্ষতির কারণে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন বলে স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

​তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে যৌন হয়রানির তদন্তে দোষী শিক্ষক, বাঁচার জন্য ছুটির ফাঁদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌন হয়রানির তদন্তে দোষী শিক্ষক, বাঁচার জন্য ছুটির ফাঁদ!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল এবার তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই তিনি এই ছুটির কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

​অন্যদিকে, তীব্র নিরাপত্তার শঙ্কা ও চরম মানসিক বিপর্যস্ততায় বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে চলে গেছে ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থী।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টির কারিগরি শাখার গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেলের বিরুদ্ধে নিজ ছাত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীর পরিবার। গত ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।

​অভিযোগের ভিত্তিতে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে দাখিল করা ১২ ফর্দের প্রতিবেদনে অভিযোগটিকে ‘সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে শিক্ষকের চরম নৈতিক স্খলনের দায়ে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদনটি ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠায় উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বেতনও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

​তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে তিন দিনের ছুটি নেওয়ার পর তিনি নতুন করে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির একটি আবেদন জমা দেন। সাধারণত এ ধরনের ছুটির আবেদন প্রধান শিক্ষকের সুপারিশ সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের (ডিডি) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম জানান, “ওই শিক্ষক প্রথমে তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে তিনি নতুন করে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনটি ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

​তবে এই অবস্থায় ছুটির আবেদন করাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহঃ শাহনুর জামান। তিনি বলেন, “শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরই প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসা ছুটির আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তার আবেদনটির কোনো ফরওয়ার্ডিং পাঠানো হবে না। ইতোমধ্যে তার বেতনও স্থগিত করা হয়েছে।”

​এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আর ওই বিদ্যালয়ে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্রের (টিসি) আবেদন করেন। আবেদনের পরপরই দুপুরে তাকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম।