খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

জ্বালানি নিতে ঢাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে লম্বা লাইনে যানবাহনের অপেক্ষা। কখনো লাইনে দাড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা, আবার কখনো চাহিদা মতো জ্বালানি না পেয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘আপাতত জ্বালানি সংকট নেই’ এমন বার্তা দেওয়া হলেও অস্থিরতা কাটেনি। বরং জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকে।

গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি অনেকটা এমনই।

কেবল বাংলাদেশ নয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বেই।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা অমূলক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তাটা বেশি বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগেভাগেই প্রস্তুতি না থাকলে সংকট মোকাবেলা কঠিন হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত কয়েকদিনে জ্বালানি নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কতটা কমেছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

“জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই কেটে যাবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরশন বা বিপিসি বলছে, দেশেই উৎপাদন হওয়ায় পেট্রোল বা অকটেন সংকটের শঙ্কা নেই। তারপরও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভীড় করছেন অনেকে।

ডিজেল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকল্প উৎসের খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে এরইমধ্যে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচলে ইরানের নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্বব্যাপি জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বে “বিপর্যয়কর পরিণতি” হতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে সংকট মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কাছে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, “তারা আমাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এখন তো তারাও সংকটে আছে,” বলেন তিনি।

অবশ্য বিপিসি ও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যে আগের একটি চুক্তির আওতায় পাঁচ হাজার টন ডিজেল বুধবার বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে হওয়া ওই চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মি. টুকু বলছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য বিকল্প উৎসের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

“যা যা করার দরকার সবটাই করছি আমরা। আমরা স্পট পার্চেজ করছি। আমারে কাছে যে তেল আছে তা দিয়ে আমি চালাতে পারবো, মানুষকে একটু সাশ্রয়ি হতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

চীন এবং ভারত ছাড়াও ব্রুনেই, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকেও জ্বালানি তেল আনার ব্যাপারে সরকার আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে গড়ে ১৫ জাহাজ জ্বালানি প্রতি মাসে বাংলাদেশে আসে।

“যুদ্ধ শুরুর পর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। বাকি জাহাজগুলো সময়মতো আসে কিনা এটাই দেখার বিষয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এখনও কোনো সরবরাহকারি পরিবর্তন করেনি,” বলেও জানান তিনি।

‘জ্বালানি রেশনিং’ কতদিন চলবে?

“প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাড়ানোর পর বাইকে ২৫০ টাকার তেল দিল, প্রতিদিনই এভাবে লাইনে দাড়াচ্ছি তেল নেওয়ার জন্য।”

বিবিসি বাংলাকে এভাবেই বলছিলেন ঢাকার রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা মোকাবেলায় ‘সাশ্রয়ী ব্যবহার’ এর উপর শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পরিস্থিতি সামলাতে গত পাঁচই মার্চ ১১ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। যেখানে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নানা নির্দেশনা ছিল।

এছাড়া ‘প্যানিক বাইং’ বন্ধে যানবাহন ভেদে দৈনিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

অবশ্য জ্বালানি রেশনিং করতে গিয়ে দেশের বেশ কিছু স্থানে তেলের নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং লাইনে দাড়ানোসহ নানা কারণে বাকবিতণ্ডা এবং মারপিটের খবরও পাওয়া গেছে।

এমনকি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নিরাপত্তা ও টহল জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা।

এদিকে, বুধবার নিজেদের সবশেষ বার্তায় বিভাগীয় পর্যায়ে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেল (অকটেন ও পেট্রোল) এর গড় বিক্রয় হতে ২৫ শতাংশ হ্রাস এর পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।”

এছাড়া, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের পার্সেল নির্ধারিত সময়ে নিয়মিতভাবেই দেশে আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিপিসি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, জ্বালানির মজুদ বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে ধীরে ধীরে জ্বালানি রেশনিং প্রক্রিয়া শিথিল করা হবে।

“রেশনিং সব দেশেই হয়, ক্রাইসিস মোমেন্টে। দাম এখনই বাড়াচ্ছি না, তবে টেম্পরারিলি দাম আমাদের বাড়াতে হবে,” বলেন তিনি।

সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম।

তিনি বলছেন, “পর্যাপ্ত জ্বালানি যেসব দেশের হাতে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এক হবে না, অপশন কম।”

“সরকারকে কিছুটা টাইট স্টেপ তো নিতেই হতো, অযাচিত কোনো পদক্ষেপ তো এখনও চোখে পড়েনি,” বলেন তিনি।

‘উদ্বেগ’ গোটা বিশ্বেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির দুই সপ্তাহ না যেতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

যদিও মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ “প্রায় সম্পন্ন” বলে মন্তব্য করার পর তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

বুধবার তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারের আশপাশেই রয়েছে। সব মিলিয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী তেল বাজার স্থিতিশীল করার বিকল্প উপায় নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ।

জি-৭ দেশগুলো জানিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মোকাবেলায় “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নিতে প্রস্তুত তারা।

যদিও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম মজুদধারী দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রধান উৎপাদক কাতার, উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের চেয়েও এলএনজির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে যার প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকেই শিল্প কারখানায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে ভারত।

জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মচারিদের জ্বালানি ভাতা কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তানও।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা