খুঁজুন
, ,

ডালিম খাওয়ার ১৩ উপকারিতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ডালিম খাওয়ার ১৩ উপকারিতা

ফলটির নাম ডালিম। চীনে বলা হয় লাকি ফ্রুট। ফলটি দেখতে চমৎকার আর খেতেও দারুণ। ডালিম খুব একটা সস্তা না হওয়াতে অনেকে এটি এড়িয়ে চলেন।

কিন্তু ডালিম ফলে অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। অন্তত ফলটি খাবারের তালিকায় রাখা উচিত বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

ডালিম স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্যও খুব ভালো। ডালিমে আছে এন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।

ডালিম ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি ফ্রুট সালাদ, স্মুদি, জুস, কাস্টার্ডেও ব্যবহার করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ডালিম খেলে কি কি উপকার হয় –

১. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে

ডালিম সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রোধ করে ত্বককে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এতে আছে এন্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরের যাবতীয় জীবাণুকে অপসারণ করে। ডালিমের মধ্যকার অ্যালার্জিক এসিড ত্বকে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

২. ভিটামিন ‘সি’ এর ভালো উৎস

প্রতিদিন একটি ডালিম খেলে ১৭ শতাংশ ভিটামিন ‘সি’ শরীরে প্রবেশ করে। আমরা জানি ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে ঠাণ্ডা ও কাশির প্রকোপ থেকে সুরক্ষা দেয়।

৩. ত্বককে রাখে তারুণ্যদীপ্ত

ডালিমের রস ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না ও ত্বকের কোষকে দীর্ঘায়ু করে। এটি কোলাজেন ও অ্যালাস্টিন উৎপাদনেও সাহায্য করে।

এই দুটি উপাদানই ত্বককে সজীব ও তরুণ রাখে।

৪. ত্বকের প্রদাহ কমায়
ডালিমে আছে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকে আরাম দেয়। আরও আছে ট্রিকোসেনিক এসিড ও ওমেগা-৫ ফ্যাটি এসিড যা শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বককে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে।

৫. ক্যান্সার প্রতিরোধক

ডালিমের রস ক্যান্সারের সেল তৈরি হতে দেয় না। বিশেষ করে মূত্রনালীর ক্যান্সার দমনে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা অনায়েসে খেতে পারেন ডালিম। কারণ এতে আছে ডায়েট্রি ফাইবার যা রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৬. হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে

ডালিম রক্তের কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমিয়ে আনে ও রক্তে এইচডিএল নামের এক প্রকার কোলেস্ট্রল সরবরাহ করে যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমায়। এছাড়াও ডালিম ট্যানিন, এনেথোসায়ানিনস ও পলিফেনলসের ভালো উৎস যা আপনার হৃদয়কে রাখে সুস্থ।

৭. ব্রণ ও ব্রণের দাগ

ডালিম হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে বিধায় পেট পরিষ্কার থাকে ও ত্বকে ব্রণ দেখা দেয় না। ডালিম ভিটামিন ‘সি’ যা ত্বকের তেল গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৮. হাইড্রেশন

ডালিম ত্বককে হাইড্রেট করে। এক্ষেত্রে এটি গ্রিন-টির চাইতেও ভালো।

৯. আলজেইমার্স

আলজেইমার্সের রোগীদের জন্য এটি খুব ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে। স্মৃতিশক্তি প্রখর করতেও এর জুড়ি নেই।

১০. ওজন কমায়

প্রতিদিন ডালিম খেলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টি প্রবেশ করে ও এর মধ্যকার উপাদান শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দেয় না।

১১. পাকস্থলী

ডালিম বিপাক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে। এটি ডায়েরিয়া ও বমির উপদ্রপ কমায়। এছাড়াও এটি পেটের যেকোনও সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।

১২. রক্তনালীকে সুরক্ষিত রাখে

ডালিম রক্তনালীকে সুরক্ষিত রাখে ও প্লেক জমতে দেয় না। ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে যায় বহু অংশে।

১৩. চুল পড়া রোধ করে

ডালিম মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও চুলপড়া কমায়। এটি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝরঝরে ভাবও এনে দেয়।

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। বিরল এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আনন্দের মধ্যেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া—জন্মের কিছুক্ষণ পরই পাঁচ নবজাতকের একজন মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি মোছা. চাঁদনী আক্তার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী আক্তার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মো. হাসান শেখ। প্রসববেদনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি স্বাভাবিকভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন।

জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একটি সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। বাকি চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নবম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রসূতি মা বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন। জীবিত চার নবজাতকেরও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম (কুইন্টুপলেট) অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এমন গর্ভধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। তাই জীবিত চার নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুন বিশ্বাস (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মামুন বিশ্বাস রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. লাখো বিশ্বাসের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন মামুন। পথে রাজাপুর এলাকার একটি মাছের পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে টানানো একটি জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় জাহিদ সিকদারের প্রায় ৮ বিঘা লিজ নেওয়া পুকুরে আধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকার মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরের মাঝখানে রাতে আলো জ্বালানোর জন্য বাঁশের সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। বাঁশটি স্থির রাখতে জিআই তার ব্যবহার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না থাকায় ওই জিআই তার বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। অসাবধানতাবশত সেই তারে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই মামুনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ফরিদপুরে গাঁজার আসরে অভিযান, ৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজার আসরে অভিযান, ৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ৭ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে ৭জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে ফরিদপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং ইনসানা তানজিম ইকো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন, বহন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মাদক সংক্রান্ত তথ্য থাকলে তা গোপনীয়তার সঙ্গে অধিদপ্তরকে জানাতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।