খুঁজুন
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
১০ খাবার ও পানীয় নীরবে নষ্ট করছে আপনার দাঁত

ঝকঝকে সাদা দাঁত শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সুস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভ্যাস ও খাবার, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর ‘এনামেল’ ক্ষয় করে দিচ্ছে।

অনেকেই মনে করেন শুধু মিষ্টি খেলেই দাঁতের ক্ষতি হয়, কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্তৃত। অ্যাসিডিক পানীয়, সফট ড্রিঙ্কস, এমনকি স্বাস্থ্যকর মনে করা কিছু ফলের জুসও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তা খাওয়ার সময় ও অভ্যাসও। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা বা বারবার অ্যাসিডিক খাবার গ্রহণ করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার ও পানীয় সম্পর্কে, যেগুলো আপনার দাঁতের এনামেলের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

১. ফলের জুস

মুখের ভেতরের pH মাত্রা ৫.৫-এর নিচে নামলে দাঁতের এনামেল নরম হয়ে যায়। সাইট্রাস ফলের জুসের pH সাধারণত ২.০–৩.৫-এর মধ্যে থাকে, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড দাঁতের খনিজ উপাদান টেনে বের করে আনে, ফলে এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আনারস ও ডালিমের জুসও এনামেল ক্ষয় করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের জুসের প্রভাব অনেকটা সোডার মতোই। প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত সিট্রিক অ্যাসিড ও ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) থাকায় এগুলো আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ক্যালসিয়ামযুক্ত জুস কিছুটা কম ক্ষতিকর।

২. সোডা ও স্পার্কলিং ওয়াটার

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চিনিযুক্ত সোডা পান করেন না, তাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি ৯৪% কম। সোডার pH ২.৫–৩.৫, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে কার্বনিক, সিট্রিক, ফসফরিক ও টারটারিক অ্যাসিড থাকে। বিশেষ করে ফসফরিক অ্যাসিড দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে। প্রতিবার সোডা পান করার পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে দাঁতে অ্যাসিড আক্রমণ চলতে থাকে। সাধারণ স্পার্কলিং ওয়াটার তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও ফ্লেভারযুক্ত হলে ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যাসিড, চিনি ও ক্যাফেইনের প্রভাব

অ্যাসিড এনামেল নরম করে, আর চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় করে আরও অ্যাসিড তৈরি করে। ডায়েট সোডায় চিনি না থাকলেও অ্যাসিড থাকে। ক্যাফেইন লালা কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁত স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

৩. স্পোর্টস ড্রিঙ্কস

এগুলো শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করলেও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে সিট্রিক অ্যাসিড ও চিনি থাকে। ব্যায়ামের সময় লালা কম তৈরি হওয়ায় দাঁত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. এনার্জি ড্রিঙ্কস

এগুলোর গড় pH প্রায় ৩.৩। এতে অ্যাসিড, চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন থাকে। এমনকি সুগার-ফ্রি হলেও অ্যাসিডের কারণে ক্ষতি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সোডার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, কারণ এগুলো দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিক থাকে এবং লালা সহজে নিরপেক্ষ করতে পারে না।

৫. ভিনেগারযুক্ত ও আচারজাত খাবার

ভিনেগার (যেমন অ্যাপল সিডার ভিনেগার) দাঁতে অ্যাসিটিক অ্যাসিডের প্রভাব ফেলে। অনেক সালাদ ড্রেসিংয়েও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে পারে—

ক) ড্রেসিংয়ের সঙ্গে দুধজাত খাবার বা তেল মেশালে ঝুঁকি কমে

খ) খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে খেলে ভালো

গ) রাতে খেলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন লালা কম তৈরি হয়

৬. চিনি ও স্টার্চযুক্ত স্ন্যাকস

কেক, চিপস, পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এসব খাবার দাঁতে লেগে থাকে, ফলে ক্ষতির সময়ও দীর্ঘ হয়।

৭. ক্যান্ডি

সব ক্যান্ডিই ক্ষতিকর, তবে কিছু আরও বেশি। এর মধ্যে হার্ড ক্যান্ডি ধীরে গলে, ফলে দীর্ঘ সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। টক ক্যান্ডিতে অ্যাসিড ও চিনি দুটোই থাকে। আর স্টিকি ক্যান্ডি দাঁতে লেগে থাকে; এসব কারণেই ক্যান্ডিগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. শুকনো ফল

কিশমিশ, খেজুর, এপ্রিকট স্বাস্থ্যকর হলেও এতে চিনি থাকে এবং এগুলো দাঁতে লেগে থাকে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বেশি সময় ধরে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

৯. অ্যালকোহল

অ্যালকোহল অ্যাসিডিক এবং লালা কমিয়ে দেয়। ফ্লেভারযুক্ত ককটেলে চিনি ও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা আরও ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ককটেল সোডার চেয়েও বেশি এনামেল ক্ষয় করে। সাদা ওয়াইন লাল ওয়াইনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং ধীরে পান করলে ঝুঁকি বাড়ে।

১০. কফি ও চা

এগুলো সামান্য অ্যাসিডিক হলেও পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ। তবে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পান করলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে। ক্যাফেইন লালা কমায় এবং চিনি বা সিরাপ যোগ করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কম্বুচা চায়ের pH ২.৮–৩.৬, যা এনামেলের ক্যালসিয়াম ক্ষয় বাড়াতে পারে। বোতলজাত আইসড টি-তে সাধারণত বেশি সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, তাই এটি বেশি ক্ষতিকর।

কীভাবে দাঁত রক্ষা করবেন

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

১. দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত পানীয় চুমুক দিয়ে পান করবেন না

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

৩. অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে দুধজাত খাবার খান

৪. খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করুন

৫. খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করুন

৬. স্ট্র ব্যবহার করুন (পানীয় দাঁতের পেছন দিকে নিতে)

ওরাল হাইজিন টিপস

১. নরম ব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন

২. প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করুন

৩. সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবাতে পারেন

৪. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

৫. অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন

৬. অ্যাসিডিক কিছু খাওয়ার পর ৩০-৬০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করুন

সূত্র : ভেরি ওয়েল হেলথ

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।