খুঁজুন
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯ চৈত্র, ১৪৩২

চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

শরীর ভালো থাকলে আমরা সবাই যেন একটু বেশিই সাহসী হই। হালকা জ্বর, কাশি, পেটের গোলমাল—এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজে নিজেই সামলে নেওয়ার চেষ্টা করি। অনেকের কাছেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া মানে অযথা সময় নষ্ট, লম্বা সিরিয়াল, আর সঙ্গে হাজার একটা পরীক্ষা ও ওষুধের ঝামেলা। এই ভয়েই অনেক সময় ডাক্তারখানা এড়িয়ে চলেন অনেকে।

কিন্তু সমস্যা যখন গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন আর উপায় থাকে না—চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেই হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক যখন প্রেসক্রিপশন দেন, তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। মনে হয়, এবার বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়েই আমরা এমন কিছু ভুল করি, যেগুলোর কারণে রোগ সারার বদলে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর কোন কোন ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে বসেন মানুষ—

১. ওষুধ কেনার সময় পুরো ডোজ না নেওয়া

সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন অনেকেই ওষুধ কেনার সময়। চিকিৎসক যদি ৩০ দিনের জন্য ওষুধ খেতে বলেন, তাহলে অনেকেই ১৫ দিনের ওষুধ কিনেই বাড়ি ফেরেন। ভাবেন, ‘দেখি আগে কেমন কাজ করে’। কিন্তু এতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং রোগ পুরোপুরি সারে না।

২. নিজের মতো করে ওষুধ বা চিকিৎসা চালানো

অনেকেরই নিজের মতো করে চিকিৎসা করার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসক যে ওষুধ বা পরীক্ষা পরামর্শ দিয়েছেন, তার বদলে আগের কোনো ওষুধ খাওয়া বা পরিচিত কারও পরামর্শে ওষুধ বদলে ফেলা—এসব অভ্যাস বিপদ ডেকে আনে। এতে রোগের জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

৩. ওষুধ ঠিক সময়ে না খাওয়া

চিকিৎসকের দেওয়া সময় মেনে ওষুধ না খাওয়াও একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর ভুল। অনেকেই সময়ের ওষুধ সময়মতো খান না, কখনো ভুলে যান, কখনো আলসেমি করেন। অথচ নিয়ম না মেনে ওষুধ খেলে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

৪. একটু ভালো লাগলেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া

পুরো ডোজ শেষ না করাটা একধরনের খারাপ অভ্যাস। অনেকেই সামান্য শরীর ভালো লাগলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ডোজ সম্পূর্ণ শেষ না হলে রোগ পুরোপুরি সারে না এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই দ্রুত সুস্থ হওয়ার একমাত্র পথ। সামান্য অবহেলা বা নিজের মতো সিদ্ধান্তই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

স্বামীকে ভাই ডাকা যাবে কি-না, কী বলছে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
স্বামীকে ভাই ডাকা যাবে কি-না, কী বলছে ইসলাম?

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো ভালোবাসা, দয়া, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসের এক পবিত্র বন্ধন। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বাঁধনে নির্মিত হয় পরিবার। পৃথিবীতে আসে নতুন মানুষ।

আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে স্বামী স্ত্রীকে সাধারণত নাম ধরে ডাকেন। গ্রামীণ পর্যায়ে অনেকে ‘ওগো’, ‘এই’ বলে ডাকেন। কেউ সন্তানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘অমুকের বাবা বা অমুকের মা’ বলে ডাকেন। আধুনিক সমাজ বা শহরের সংস্কৃতিতে প্রায় স্বামী-স্ত্রী নাম ধরে পরস্পরকে ডাকেন। কেউ আবার কখনো ভাই বা বোন বলে ডাকেন। প্রশ্ন হলো, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভাই বা বোন ডাকতে পারবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী।

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভাই-বোন বলে ডাকা নিষেধ। দুষ্টুমির ছলেও এ ধরনের ডাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এভাবে ডাকার কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে সমস্যা হবে না। স্ত্রী তালাক হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৭০)

হাদিসে আছে, ‘এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, হে আমার বোন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সে কি তোমার বোন?’ তিনি তার এমন সম্বোধন অপছন্দ করলেন এবং এমন করতে নিষেধ করলেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২২১০)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভাই-বোন বলে ডাকা উচিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আম্মাজান আয়েশা (রা.)-কে আদর করে ‘আয়িশ’ কিংবা ‘হুমায়রা’ নামে ডাকতেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘স্বামীকে ভাই বা স্ত্রীকে বোন বলার বিষয়ে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা আছে। স্বামীকে ভাই বা স্ত্রীকে বোন ডাকার কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হবে না। স্বামীকে ভাই ডাকলে স্ত্রী তালাক হবে না। কিন্তু এটা অনুত্তম কাজ।’

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে একে অন্যকে নাম ধরে ডাকবে কিংবা সন্তানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে বলবে, ‘অমুকের বাবা বা অমুকের মা’।

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

আয়কর রিটার্নের শেষ দিন ৩১ মার্চ, অনলাইন আবেদনে মিলবে আরও ৯০ দিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
আয়কর রিটার্নের শেষ দিন ৩১ মার্চ, অনলাইন আবেদনে মিলবে আরও ৯০ দিন

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৩১ মার্চ। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন করলে করদাতারা অতিরিক্ত তিন মাস পর্যন্ত সময় পাবেন বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রবিবার (২২ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. আল-আমিন।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই লিখিতভাবে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিন সময় বাড়ানোর অনুমোদন দিতে পারেন।

করদাতারা অনলাইনে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে “Time Extension” মেন্যু ব্যবহার করে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনে সেই আবেদন অনুমোদন বা নামঞ্জুর করবেন।

এনবিআর জানিয়েছে, সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে করদাতারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন।

এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা ইতোমধ্যে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৯ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪

ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া নিয়ে ‘কড়া বার্তা’—ভাঙ্গায় মাঠে প্রশাসন

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া নিয়ে ‘কড়া বার্তা’—ভাঙ্গায় মাঠে প্রশাসন

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকাগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন।

রবিবার (২২ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসে ওঠে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যাত্রীদের কাছে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বাসের টিকিট যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়া সরকারি নির্ধারিত হারের মধ্যেই রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, যা যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়।

এছাড়া বাস কাউন্টারগুলোতেও তদারকি করা হয়। কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়, যাতে ঈদের চাপকে পুঁজি করে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ফুয়েল পাম্পও পরিদর্শন করা হয়। পাম্পগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের মজুত পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও যেন কোনো পাম্প অযৌক্তিকভাবে বন্ধ না রাখা হয়, সে বিষয়ে মালিক ও কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক নিয়ম অমান্য, কাগজপত্রে ত্রুটি ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে এসব জরিমানা আদায় করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও জানানো হয়।