খুঁজুন
, ,

নীরবে ক্ষতি করছে কিডনি? যে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
নীরবে ক্ষতি করছে কিডনি? যে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না

আমরা অনেকেই কিডনি রোগকে গুরুত্ব দিই না। অথচ কিডনি নীরবে নীরবে শরীরের অনেক গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। শরীরের ভেতরে একধরনের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে কিডনি – রক্ত পরিশোধন করে, টক্সিন বা বর্জ্য বাইরে বের করে, লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে, এমনকি রক্ত তৈরি করতেও সাহায্য করে।

কিন্তু কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে আমাদের শরীর আগেভাগেই কিছু ইশারা দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ চেনা থাকলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।

চলুন জেনে নিই, কিডনি রোগে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

সবসময় দুর্বল আর ক্লান্ত লাগা

কিডনি যদি রক্ত ঠিকমতো ফিল্টার করতে না পারে, তাহলে শরীরে বিষাক্ত টক্সিন জমতে থাকে। এতে আপনি সবসময় ক্লান্ত লাগতে পারেন, মাথা ভার মনে হয়, কাজকর্মে মন বসে না।

অনেক সময় রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)-ও এর পেছনে কাজ করে।

ঘুম ঠিকমতো না হওয়া

কিডনি যখন ঠিকভাবে টক্সিন ফিল্টার করতে পারে না, তখন সেই টক্সিন রক্তেই থেকে যায়—ফলে ঘুমের সমস্যা হয়। স্থূলতা ও ঘুমের ব্যাঘাত – দুটোই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে।

ত্বক শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া

কিডনি খনিজ লবণের ভারসাম্য রাখে, হাড়কে মজবুত রাখে। যখন এগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ আর ফাটতে শুরু করে। এটা অ্যাডভান্স কিডনি রোগের ইশারাও হতে পারে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া

বিশেষ করে রাতে যদি বারবার প্রস্রাবের বেগ পায়, তাহলে সেটা কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। কিডনির ছাঁকনি (ফিল্টার) নষ্ট হয়ে গেলে এমন হয়।

তবে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট বড় হওয়ায়ও এমন হতে পারে।

প্রস্রাবে রক্ত দেখা

সুস্থ কিডনি রক্তে থাকা রক্তকণিকাকে শরীরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তকণিকা প্রস্রাবে চলে আসে। এটা কিডনি রোগের পাশাপাশি হতে পারে টিউমার, কিডনি পাথর বা সংক্রমণের লক্ষণ।

প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা বা বাবল হওয়া

যদি প্রস্রাবে ডিমের মতো ফেনা বা বাবল হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন—প্রোটিন লিক হচ্ছে। এর মানে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত এবং শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে।

চোখের নিচে ফুলে যাওয়া

চোখের নিচে বা চারপাশে হঠাৎ ফুলে যাওয়ার অর্থ হতে পারে—বেশি পরিমাণ প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে, এবং কিডনি এই লিক বন্ধ করতে পারছে না।

পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে সোডিয়াম জমে গিয়ে পানি আটকে রাখে। এতে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। তবে এই লক্ষণ হৃদরোগ, লিভার সমস্যা কিংবা পায়ের শিরার দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণেও হতে পারে।

কী করবেন?

আপনি যদি এসব লক্ষণের এক বা একাধিকটি নিজের বা পরিচিত কারও মধ্যে দেখতে পান, তাহলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান। সাধারণ কয়েকটি পরীক্ষা যেমন –

ব্লাড টেস্ট (Creatinine, Urea)

ইউরিন টেস্ট (Protein, RBC)

আলট্রাসনোগ্রাম

– এইগুলো করলেই অনেক কিছু বোঝা যায়।

কিডনি রোগ শুরুতে নীরব থাকে, কিন্তু একবার মারাত্মক হয়ে গেলে তা শরীরের অন্য সব অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সময়মতো লক্ষণগুলো চিনে নেওয়াই হলো সবচেয়ে বড় সাবধানতা।

শরীরের ইশারাগুলোকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত পরীক্ষা করান, আর সুস্থ থাকুন।

 

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।