খুঁজুন
, ,

পঁয়ত্রিশে পা দিচ্ছেন? এই ৬ স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার চেকলিস্টে থাকা উচিত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
পঁয়ত্রিশে পা দিচ্ছেন? এই ৬ স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার চেকলিস্টে থাকা উচিত

জীবনের ব্যস্ততায় পঁয়ত্রিশে পা দেওয়া অনেক সময় হয়তো ৩০-এর মতো অতটা ঘটা করে উদযাপন করা হয় না। এই বয়সে এসে মানুষের মূল মনোযোগ থাকে ক্যারিয়ারের উন্নতি, পারিবারিক দায়িত্ব আর প্রাত্যহিক রুটিনের ওপর। কিন্তু বাইরের এই ব্যস্ততার আড়ালে শরীরের ভেতর নীরবে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চলতে থাকে।

আমাদের শরীর দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, শরীরচর্চায় অনীহা আর তীব্র মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে পারলেও, ৩৫ বছর বয়সটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বা ‘টিপিং পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে এসেই শরীরের সেই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা সহনশীলতা কমতে শুরু করে এবং বছরের পর বছর ধরে করা ছোট ছোট অবহেলার প্রভাবগুলো স্পষ্টভাবে দেখা দিতে থাকে। বিশেষ করে মেটাবলিক সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকিগুলো এই সময়েই সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়। তাই পঁয়ত্রিশ বছর বয়সকে কেবল আরেকটি জন্মদিন হিসেবে না দেখে একে স্বাস্থ্যের জন্য একটি মূল্যবান ‘চেকপয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে আপনার সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যে ৬টি পরীক্ষা আপনার চেকলিস্টে থাকা জরুরি:

১. HbA1c: রক্তে শর্করার দীর্ঘমেয়াদী হিসাব

সাধারণ ব্লাড সুগার পরীক্ষা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থা জানায়, কিন্তু HbA1c পরীক্ষা গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা প্রকাশ করে। ভারতে ডায়াবেটিস এবং প্রি-ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান হারের কথা মাথায় রেখে এই পরীক্ষাটি করা জরুরি, কারণ অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই শরীর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

২. লিপিড প্রোফাইল ও রক্তচাপ পরীক্ষা

হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণে কোলেস্টেরল বা লিপিড প্রোফাইল এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না বলে এদের ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এই পরীক্ষাগুলো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বছর আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

৩. লিভার ফাংশন টেস্ট

অলস জীবনযাপন, স্থূলতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে বর্তমানে ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (NAFLD) দ্রুত বাড়ছে। লিভারের কার্যক্ষমতা যাচাই করার মাধ্যমে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব।

৪. কিডনি ফাংশন টেস্ট

লিভারের মতোই কিডনিও কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্জ্য অপসারণ এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিডনির ভূমিকা অপরিসীম, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে কিডনির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা উচিত।

৫. থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট

শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমের নিয়ন্ত্রক হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি বা মেজাজের পরিবর্তনের পেছনে অনেক সময় থাইরয়েডের হরমোনজনিত সমস্যা দায়ী থাকে, যা একটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব।

৬. ভিটামিন D3 এবং B12 স্ক্রিনিং

আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে থাকা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে ভিটামিন ডি৩ এবং বি১২-এর ঘাটতি এখন খুব সাধারণ। পেশীর দুর্বলতা, ক্লান্তি বা মনোযোগের অভাবের মতো সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো অবহেলা না করে এই ভিটামিনগুলোর মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

শেষকথা

ব্যক্তিগত সচেতনতাই মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানে কেবল রোগ খুঁজে বের করা নয়, বরং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি করা। তবে মনে রাখবেন, প্রত্যেকের শরীরের গঠন, পারিবারিক ইতিহাস এবং জীবনযাপন আলাদা, তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার নিজের চেকলিস্ট তৈরি করা সবচেয়ে কার্যকর। পঁয়ত্রিশ বছর বয়স হলো জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সেরা সময়, আর এই পরীক্ষাগুলো আপনাকে সেই পথে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি এম এ খালেক কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সুমন শেখ মোটরসাইকেলে করে নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুরো বড়ভাগ এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত হোসাইন শেখসহ অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।”

সন্ধ্যা নামলেই ফরিদপুরের গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০ ঘরে বসে মাদকের আসর

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
সন্ধ্যা নামলেই ফরিদপুরের গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০ ঘরে বসে মাদকের আসর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘর যেন এখন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব পরিত্যক্ত ঘরে বসে ইয়াবা ও গাঁজার আসর। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও লেনদেন। মাদক কারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। এলাকাটি নদী-সংলগ্ন হওয়ায় নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নদীপথে ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইসলাম শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। ভয় ও নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম বলেন, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে যেতে দিই না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করা হয়। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকায়। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।

আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার কথাও বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

আশুরার দিনেই কি কেয়ামত হবে? যা বলছে ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
আশুরার দিনেই কি কেয়ামত হবে? যা বলছে ইসলাম

মহররম মাসের দশম দিন বা আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। ফেরাউনের হাত থেকে হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়।

তবে এই দিনটির ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি আমাদের সমাজে এমন কিছু আকিদা বা ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেগুলোর সত্যতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে, একটি সাধারণ বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, মহররমের দশ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিনেই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয় বা কেয়ামত। কিন্তু এই ধারণার ধর্মীয় ভিত্তি কতটুকু?

এ বিষয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের (ধর্ম মন্ত্রণালয়) সদস্য মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সমাজের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এই ধারণা আছে যে, পৃথিবী ধ্বংসের সেই চূড়ান্ত দিন অর্থাৎ কেয়ামত হবে কোনো এক আশুরার দিন। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা বা ওয়াজ-মাহফিলেও এই প্রসঙ্গটি উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী বিশ্বাস তৈরি করেছে।’

‘তবে ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য উৎসের নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে, আশুরার দিনে অর্থাৎ মহররমের দশম তারিখে কেয়ামত হবে মর্মে নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত কোনো সহিহ হাদিস নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিসের কিতাবের মধ্যে এমন কোনো বর্ণনার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না যা প্রমাণ করে যে, ১০ই মহররম পৃথিবী ধ্বংস হবে।’

মুফতি শামছুদ্দোহা আরও বলেন, ‘কেয়ামত কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। যদিও হাদিসে জুমার দিনে কেয়ামত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কিন্তু তা মহররমের দশ তারিখেই হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং সমাজের মধ্যে প্রচলিত এই কথাটি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন এবং এর কোনো প্রমাণিত উৎস নেই।’