খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

প্রতিটি শিশুর জন্মই এক নতুন জগতের সূচনা। তবে শুধু পিতামাতার ভালোবাসা, যত্ন বা পরিবেশ নয়, শিশুর শরীর ও মনও এক ধরনের জৈবিক উত্তরাধিকার বহন করে।

বিশেষ করে মায়ের জিনের প্রভাব সন্তানের ওপর আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিন এবং বৈশিষ্ট্য শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এমনকি আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পরিবারে মা ও সন্তানের সম্পর্ক প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু এই সম্পর্ক জিনগতভাবে অনেক গভীর। শুধু দেখায় যে বাচ্চা মায়ের মতো হাসে বা মূখাবয়ব নেয়, বরং মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনগুলো শিশুর জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করে।

চলুন জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন

কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

দুপুর গড়িয়েছে, অফিসের ফাইল টেবিলে জমে উঠছে। কেউ চুপচাপ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ একটু পরপর মোবাইল স্ক্রল করছে কিংবা চা-আড্ডায় ব্যস্ত। তাই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, আসলে কে বেশি কাজে ফাঁকি দেয়? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এতটা সরল নয়। বরং এর পেছনে আছে সামাজিক বাস্তবতা, কর্মসংস্কৃতি, এবং ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের জটিল মিশেল।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফাঁকি দেওয়া বা কাজ পেছানো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে; তবে এর ধরন ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ‘non-work activities’-এ ব্যয় করেন। সেটা হতে পারে অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা আড্ডা।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীরা কাজ ফাঁকি কম দিলেও অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে ‘burnout’ বা মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন, যা তাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

মনস্তত্ত্বের দিক থেকে পার্থক্য

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যে ‘risk-taking behavior’ বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে তারা অনেক সময় কাজ শেষ মুহূর্তে করার ঝুঁকি নেয়।

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারফেকশনিজম বেশি থাকায় তারা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কম দেখায়, তবে অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময় বেশি নেয়।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশের অফিস-সংস্কৃতি, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, এই প্রশ্নের উত্তর আরও ভিন্ন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ কর্মীরা অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে যাওয়া, ধূমপান বিরতি, কিংবা আড্ডায় বেশি সময় দেন। আবার নারী কর্মীরা অফিসের পাশাপাশি ঘরের কাজ, রান্না, সন্তান দেখাশোনা; সব সামলাতে গিয়ে অফিসে তুলনামূলকভাবে বেশি ফোকাসড থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচআর কর্মকর্তা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি, নারী কর্মীরা সাধারণত সময় মেনে কাজ শেষ করতে বেশি সচেতন। তবে চাপ বেশি হলে তারা চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পুরুষরা আবার কাজের ফাঁকে একটু বেশি ‘breather’ বা সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারূফ জাকির বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নারীকর্মীরা বেশি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুঁজেন, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকর্মীরাও এই সুযোগের আশায় থাকেন। তাই বিষয়টি একদম নির্ধারণ করে বলা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ভারী কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে নতুন ফাঁকি

বর্তমানে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ইউটিউব দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় চ্যাটে লিপ্ত হওয়া। এই অভ্যাসগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বাড়ছে। ফলে ‘কে বেশি ফাঁকি দেয়’, এই প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

সব গবেষণা ও বাস্তবতা মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাজ ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিগত অভ্যাস, কাজের পরিবেশ ও মানসিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ দায়িত্বশীল হলে সে ছেলে হোক বা মেয়ে, ফাঁকি কম দেবে। আর কেউ যদি অনুপ্রেরণাহীন বা চাপগ্রস্ত হয়, তাহলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বেই।

শেষ কথা

‘ছেলেরা বেশি ফাঁকি দেয়’ বা ‘মেয়েরা বেশি সিরিয়াস’; এমন একপাক্ষিক ধারণা আসলে পুরো সত্যকে তুলে ধরে না। বরং কাজের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, এবং ব্যক্তিগত মানসিকতা; এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় একজন কর্মীর কাজের ধরন।

মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অপরিচিতদের ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেখেন বলে উঠে এসেছে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে।

যেখানে ৫৬ শতাংশ ইউরোপীয় বলেছেন, জনসমক্ষে অপরিচিত মানুষের ফোনের স্ক্রিনে অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নজর পড়ে যায়। ২৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কৌতূহলবশত ইচ্ছা করেই অন্যের ফোনে উঁকি দেন। ৫৭ শতাংশের মতে, গণপরিবহনে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। ৩৩ শতাংশ বলছেন, তারা অপরিচিত মানুষের ফোনের খুব সংবেদনশীল তথ্য দেখে ফেলেছেন।

২৮ শতাংশ মানুষ অন্যের ফোনে ব্যক্তিগত কিছু দেখলে তা উপেক্ষা করেন এবং ২৭ শতাংশ বলছেন, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেন। সাত শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা সুযোগ বুঝে বেশ কৌশলে অন্যের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

অন্যের ফোনে সাধারণত যা যা দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে ৩৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ছবি, ৩২ শতাংশ ভিডিও কল, ২৯ শতাংশ মেসেজ, ২৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, ১৭ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটা, ১২ শতাংশ ডেটিং অ্যাপের নোটিফিকেশন এবং ১১ শতাংশ ব্যাংকিং তথ্য।

স্যামসাং বলছে, অন্য কেউ ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন বুঝলে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ফোনটির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। শুধু ১০ শতাংশ মানুষ বিষয়টির প্রতিবাদ করেন।

এ সমস্যার সমাধানে স্যামসাংয়ের লক্ষ্য ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচারটির ব্যবহার, এতে নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে স্ক্রিনটি অন্ধকার দেখায়। তাদের এ ফিচারটি নিজের প্রয়োজনমতো সেট ও যে কোনো সময় চালু বা বন্ধ করা যায়, যা এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উপায়।

সূত্র: স্যামমোবাইল

আপনার উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন কত, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আপনার উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন কত, জেনে নিন

বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকা মানেই শুধু রোগমুক্ত থাকা নয়, বরং শরীরের ওজন, গঠন, জীবনযাপন; সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একজন মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যচিত্র।

অনেকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা ওজন মাপার যন্ত্রে চোখ রেখে ভাবেন, ‘আমার ওজন কি ঠিক আছে?’ কেউ আবার ‘আদর্শ ওজন’ শুনলেই সরাসরি বিএমআই (BMI)-এর হিসাব কষতে শুরু করেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিএমআই-ই কি শেষ কথা?

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। কারণ, শুধু ওজন আর উচ্চতার অনুপাত দিয়ে শরীরের ভেতরের প্রকৃত অবস্থা বোঝা সবসময় সম্ভব হয় না। একই ওজনের দু’জন মানুষের শরীরের গঠন, চর্বির পরিমাণ, এমনকি রোগের ঝুঁকিও একেবারে ভিন্ন হতে পারে।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইনোলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায়ও উঠে এসেছে, শুধু বিএমআই দিয়ে কারও স্বাস্থ্য বিচার করলে অনেক সময় ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এর বদলে তারা বিএমআইয়ের সঙ্গে কোমরের পরিধি ও চর্বির শতকরা হার মাপার মতো কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

গবেষকেরা বলছেন, ওজন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে ওসব পরিমাপের সঙ্গে জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়–আশয়, যেমন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও বংশগতির মতো বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।

বিএমআই ও এর সীমাবদ্ধতাগুলো কী

বিএমআই হিসাব করার জন্য প্রথমে কোনো ব্যক্তির ওজনকে কিলোগ্রাম এককে নিতে হবে। উচ্চতা পরিমাপ করতে হবে মিটারে। এরপর সেই ওজনকে মিটারের বর্গ দিয়ে ভাগ করলেই পাওয়া যাবে বিএমআই।

অর্থাৎ বিএমআই = ওজন (কিলোগ্রাম) ÷ উচ্চতা (মিটার)২

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, বিএমআই ১৮.৫–এর নিচে হলে ওজন কম ধরা হয়। ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ পর্যন্ত থাকলে তা আদর্শ। এই সূচক ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে তা অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০–এর বেশি পাওয়া গেলে তাকে স্থূল ধরা হয়।

কিন্তু এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিসাব শরীরের চর্বিহীন পেশি ও চর্বিযুক্ত পেশির ওজনের পার্থক্য করতে পারে না। ফলে একজন খেলোয়াড় বা পেশিবহুল ব্যক্তির বিএমআই বেশি দেখালেও তার শরীরে চর্বি প্রকৃতপক্ষে কম থাকতে পারে। আবার কারও ওজন ‘আদর্শ’ দেখালেও তার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকতে পারে।

গবেষকদের পরামর্শ, ওজন ও স্বাস্থ্যের সঠিক ধারণা পেতে এককভাবে বিএমআইয়ের ওপর নির্ভর করা যাবে না। এর পাশাপাশি আরও কিছুর পরিমাপ করতে হবে।

বিএমআইয়ের বিকল্প কী

বিএমআই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার মতো কিছু নয়, তবে এটিকে একমাত্র মানদণ্ড ভাবাও ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি—

১. কোমরের মাপ

এর মাধ্যমে পেটে জমা হওয়া চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায়। এটি জানার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগ বিষয়ে সতর্ক থাকা সম্ভব। এটি সাধারণত নাভির ঠিক ওপরে টেপ দিয়ে মাপা হয়।

২. কোমর–হিপ অনুপাত

স্কিনফোল্ড ক্যালিপার, ডেক্সা স্ক্যান ও বায়োইলেকট্রিক্যাল ইম্পিডেন্স (বিআই)–এর মতো পরিমাপক দিয়ে শরীরের আদর্শ গঠন সম্পর্কে মোটামুটি সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

স্কিনফোল্ড ক্যালিপার এমন একটি বিশেষ যন্ত্র, যা দিয়ে শরীরের চামড়া ও এর নিচের চর্বির পুরুত্ব মাপা হয়। এটি সাধারণত বাহু, ঊরু, পেট, পিঠ ইত্যাদি জায়গার চামড়া চেপে ধরে চর্বির স্তর মাপতে ব্যবহার করা হয়।

ডেক্সার পূর্ণরূপ হলো ডুয়েল এনার্জি এক্স–রে অ্যাবজর্পশোমেট্রি। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ছবি তুলে শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়, পেশি ও চর্বি আলাদা করে মাপা যায়।

বায়োইলেকট্রিক্যাল ইম্পিডেন্স হলো শরীরের চর্বি, পেশি, পানি ইত্যাদির পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতি।

৩. শরীর–আকৃতি সূচক (বিএসআই)

স্থূলতাসংক্রান্ত উচ্চঝুঁকি এড়াতে এই পরিমাপ করা হয়। এটি বিএমআই ও কোমরের মাপের সমন্বয়ে একটি পরিমাপের পদ্ধতি।

তবু মিলিয়ে নিন আপনার উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন

যদিও জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও বংশগতির প্রভাব রয়েছে, তবুও একটি সাধারণ ধারণা পেতে নিচের হিসাবটি কাজে লাগতে পারে—

উচ্চতা যখন ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ওজন হতে হবে ৪৭–৬১ কেজি

উচ্চতা যখন ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, ওজন হতে হবে ৫৩–৬৮ কেজি

উচ্চতা যখন ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, ওজন হতে হবে ৬০–৭৯ কেজি

এই হিসাব বিএমআই অনুযায়ী করা হয়েছে। কাজেই ওজন ও স্বাস্থ্যের সঠিক ধারণা পেতে এর সঙ্গে অন্যান্য পরিমাপকের সুসমন্বয় করতে হবে।

সূত্র: দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইনোলজি