খুঁজুন
, ,

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

আলেমা হাবিবা আক্তার
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান করে। আল্লাহ মানবজাতিকে যে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তার দাবিও মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

তবে ইসলামে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়। কেননা নিঃশর্ত স্বাধীনতা মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে।

ফলে সে নিজের ও অন্যের ক্ষতি করে, তার ভ্রুক্ষেপহীন আচরণ মনুষ্যত্বকে অপমান করে। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর কোনো ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতায় ব্যক্তিস্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়।

সমাজেই ধর্মীয় বিধান ও আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে মানুষের মন্দ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিছক কোনো বস্তুগত বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রশ্নটিও গভীরভাবে জড়িত।

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল দর্শন হলো ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সবকিছু) থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং সে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে দূরে থাকবে। সুতরাং ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের স্বাধীনতা স্বীকার করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। ইসলাম সেই ব্যক্তির স্বাধীনতা স্বীকার করে না যে সমাজে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে চায়। বিপরীতে আধুনিক সমাজের কেউ কেউ মানুষের এমন অবাধ স্বাধীনতার দাবিদার, যা মানুষের মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে এবং তাকে প্রবৃত্তির বলি বানায়; তারা এমন স্বাধীনতার কথা বলে, যা মানুষের দেহ ও আত্মার জন্য অপমানজনক।
ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার কয়েকটি দিক ও দর্শন তুলে ধরা হলো—

১. মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী। তাকে দাসে পরিণত করা এবং তার সঙ্গে দাসসুলভ আচরণ করা অন্যায়। মানুষ দাসত্ব করবে কেবল তার মহান স্রষ্টার। এ জন্য মিসরের প্রশাসক আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ছেলে এক নাগরিককে বেত্রাঘাত করলে ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা কখন মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে।’
(আল ফারুক ওমর (রা.) : ২/১৯৮)

এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মানুষকে এই প্রার্থনা শেখানো হয়েছে, ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।’
(সুরা : ফাতিহা, আয়াত : ৫)

২. জ্ঞান আহরণের স্বাধীনতা : ইসলাম সর্বশ্রেণির মানুষের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও গবেষণার দরজা উন্মুক্ত রেখেছে এবং ইসলাম মানুষকে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জ্ঞান আহরণে উদ্বুদ্ব করেছে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণা করার আহবান জানানো হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত-দিনের পরিবর্তনে, যা মানুষের উপকার করে তাসহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানগুলোতে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় জ্ঞান জাতির জন্য নিদর্শন আছে।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

৩. রাজনৈতিক স্বাধীনতা : মানুষের ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিশেষ গুরুত্ব আছে। ইসলাম মানুষের এই অধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তি শাসক নির্বাচনে মতামত দিতে পারে, শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে শাসককে ভালো-মন্দের পরামর্শ দিতে পারে, শাসকের যৌক্তিক সমালোচনা করতে পারে, কোনো জুলুম ও অবিচারের শিকার হলে তার প্রতিকার রাষ্ট্রের কাছে চাইতে পারে, শাসক যদি আল্লাহর অবাধ্য হয় তবে ব্যক্তিও তার অবাধ্য হতে পারে। আর জনগণের মতামতের মূল্যায়ন করতে আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘আর কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কোরো।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

৪. সমাজজীবনে স্বাধীনতা : ইসলাম ব্যক্তিকে সমাজজীবনে স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। ফলে সে সমাজের মানুষকে মন্দ থেকে বারণ করতে পারবে এবং নেক কাজে উৎসাহিত করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তাদেরই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী।’
(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১)

৫. ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা : ইসলাম মানুষের ধর্মীয় জীবনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ইসলাম মনে করে, ব্যক্তি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি তাকেই করতে হবে। তবে কেউ ইসলাম গ্রহণের পর তা ত্যাগ করার অধিকার রাখে না। কেননা এতে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও দ্বিন ইসলামের অসম্মান হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দ্বিন সম্পর্কে জোর-জবরদস্তি নেই; সত্যপথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহে ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

৬. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা : পৃথিবীর মানুষ বিচিত্র ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করে। প্রত্যেকের জীবনধারা ও রীতিনীতি ভিন্ন। ইসলাম মৌলিক কিছু শর্তে পৃথিবীর ভাষা, বর্ণ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিদর্শন হলো আসমানগুলো ও পৃথিবীর সৃষ্টি, তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’
(সুরা : রোম, আয়াত : ২২)

মোট কথা, ইসলাম মানবপ্রকৃতি ও মানবকল্যাণের শর্তে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা স্বীকার করে। ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূলকথা হলো, মানুষ আল্লাহর দাসত্বের অধীনে থেকে যাবতীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

ফরিদপুরে নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিল অভিযুক্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিল অভিযুক্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের অজুহাত দিয়ে রাতের আঁধারে গ্রামীণ সড়কের তুলে নেওয়া ইট শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে অভিযুক্তরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর বার্তার পর তুলে নেওয়া ইট স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত জামায়াত সমর্থক গোলাম কুদ্দুসের ভাতিজা মাসুদ মোল্যাসহ সংশ্লিষ্টরা ওই সড়কে গিয়ে ইটগুলো পুনরায় বসানোর জন্য ফেরত দিয়ে যান।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের কঠোর নির্দেশে অভিযুক্তরা তুলে নিয়ে যাওয়া ইটগুলো ফেরত দিয়ে গেছে।

​এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ইট নদীভাঙনের অজুহাতে তুলে নেওয়া হয়। এতে রাস্তাটিতে খানাখন্দ ও কাদামাটির সৃষ্টি হয়ে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামের কয়েকশ মানুষের চলাচলা বন্ধ হয়ে পড়ে।

​পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই দিনই আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকেই তুলে নেওয়া ইট উদ্ধারের সত্যতা মেলে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন দিনের মধ্যে ইটগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

​একই দিন ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বাবুল শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

​প্রশাসনের এমন শক্ত অবস্থান ও গণমাধ্যমের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই তুলে নেওয়া ইট স্বস্থানে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন অভিযুক্তরা।

ফরিদপুরের আলোচিত সেই এমপি প্রার্থী রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে মামলা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলোচিত সেই এমপি প্রার্থী রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি ও সমাজসেবক মুফতি রায়হান জামিলকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন ঘটনার দিন সে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন ও মামলাটিতে তাকে হায়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়হান জামিল তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে এসব কথা উল্লেখ করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা থানার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও চলন্ত যানবাহনে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মো. কাইয়ুম সিকদার বাদী হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজাহারে ভাঙা গাড়ির কাচের অংশ, ইটের খোয়া, পাথরের খোয়া ও বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার ১৯১ নম্বর আসামি হিসেবে মুফতি রায়হান জামিলের নাম রয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং তার অবস্থানের পক্ষে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আমাকে জনসেবা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না।’

মুফতি রায়হান জামিল আরও দাবি করেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা না হলে ফরিদপুর-৪ আসনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, ‘যতই হামলা-মামলা হোক, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ আসনে সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুফতি রায়হান জামিল ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সালথায় বিলে নেমে প্রাণ গেল মৃগী রোগীর, ভেসে উঠল বালতি-জুতা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সালথায় বিলে নেমে প্রাণ গেল মৃগী রোগীর, ভেসে উঠল বালতি-জুতা

ফরিদপুরের সালথাস উপজেলায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৌসুমি মন্ডল (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত মৌসুমি মন্ডল স্থানীয় পাপন সরকারের স্ত্রী ও সদরপুর উপজেলার উজিরখা কান্দি গ্রামের বিভূতি মন্ডলের মেয়ে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বিলে গোসল করতে যান মৌসুমি। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিলের ধারে তাঁর জুতা এবং পানিতে বালতি ভাসতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিলের পানি থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই হঠাৎ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যেতেন। শনিবারও পড়ে গিয়ে মুখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। স্বজনদের ধারণা, বিলে গোসল করার সময় তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথাস উপজেলায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৌসুমি মন্ডল (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত মৌসুমি মন্ডল স্থানীয় পাপন সরকারের স্ত্রী ও সদরপুর উপজেলার উজিরখা কান্দি গ্রামের বিভূতি মন্ডলের মেয়ে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বিলে গোসল করতে যান মৌসুমি। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিলের ধারে তাঁর জুতা এবং পানিতে বালতি ভাসতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিলের পানি থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই হঠাৎ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যেতেন। শনিবারও পড়ে গিয়ে মুখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। স্বজনদের ধারণা, বিলে গোসল করার সময় তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।