খুঁজুন
, ,

পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

নিজামুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

মানুষ দুনিয়ার জীবনে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধনসম্পদ, পদমর্যাদা, চাকরি-বাকরি কিংবা প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মানুষের এসব ক্ষতি চিরস্থায়ী নয়, সাময়িক। মানুষের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে পরকালীন ক্ষতি। পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পরে শান্তি পাবে; জান্নাতে যেতে পারবে। কিন্তু কেউ কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করবে অনন্তকাল।

পরকালীন ক্ষতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এক. ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা জাসিয়াহ : ৭)। দুই. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষের পেছনে অপবাদ রটায় এবং মানুষকে অপমানিত করে।’ (সুরা হুমাযাহ : ১)। তিন. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে (জাকাত দেওয়া ব্যতীত) সম্পদ জমা করে এবং তা গণনা করতে থাকে।’ (সুরা হুমাযা : ২)। চার. ‘ধ্বংস সে সব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন থাকে।’ (সুরা মাউন : ৪)। পাঁচ. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ে ওজনে কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১)। ছয়. ‘ধ্বংস ওইসব মিথ্যারোপকারীর জন্য, যারা কেয়ামত দিবসকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১০-১১)। সাত. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে (আসমানি) কিতাব রচনা করে এবং সামান্য মূল্য লাভের জন্য বলেÑ এটা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।’ (সুরা বাকারা : ৭৯)। আট. ‘ধ্বংস ও কঠিন শাস্তি ওইসব কাফেরের জন্য, যারা পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আল্লাহর পথ হতে লোকদের বাধা প্রদান করে।’ (সুরা ইবরাহিম : ২-৩)। নয়. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মহান দিবসের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মারইয়াম : ৩৮)। দশ. ‘ধ্বংস ওইসব লোকের, যারা আল্লাহ সম্পর্কে অযথা মিথ্যা কথা বানায়।’ (সুরা আম্বিয়া : ১৮)। এগারো. ‘ধ্বংস ওইসব কাফেরের জন্য, যারা ধারণা করে আসমান, জমিন ও এর মাঝে যা কিছু আছে আল্লাহ সেগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা সোয়াদ : ২৭)। বারো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা যুমার : ২২)। তেরো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে।’ (সুরা হামিম সাজদা : ৬)

এই শ্রেণির লোকজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। এদের মধ্যে মুনাফেকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তারা বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের সঙ্গে মিশে নামাজ-রোজা করলেও জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে তারা। এসব ব্যক্তি চিরকালের জন্য জাহান্নামি হবে। আরেক শ্রেণির লোক আছে, যারা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এবং অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। ওই সব লোক হলো—যারা বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের মধ্যে ডুবে থাকে, অন্যের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে, আর ভাবে, অপরাধী ও জালেমদের যে ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, তা কোথায়? আমরা তো অনেক অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-অত্যাচার করে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের তো কিছুই হচ্ছে না! এ শ্রেণির লোকদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হয়, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’ (সুরা আরাফ : ৯৯)

আরেক শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত লোক আছে, যারা ইমান এনেছে বলে দাবি করে, সেইসঙ্গে তারা ইবাদত-বন্দেগিও করে। কিন্তু তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে, যদি তাদের কোনো কল্যাণ অর্জিত হয়, তাহলে তারা ইবাদত-বন্দেগি করে, আর যদি তাদের কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে তারা দ্বীন ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তারা ভাবে, দ্বীন ইসলাম যদি সত্য হয়; তাহলে আমরা কেন এসব বিপদাপদে আক্রান্ত হচ্ছি? তাদের সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে। যদি তার কোনো কল্যাণ লাভ হয়, তাহলে সে ইবাদত-বন্দেগির ওপর কায়েম থাকে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে সে পূর্বাবস্থায় কুফরির দিকে ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি।’ (সুরা হজ : ১১)

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া পরী বেগম দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে নিজ জন্মভূমি ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফিরেছেন। মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সুদূর পাকিস্তানে পাড়ি জমানো এই নারী জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভাইদের বুকে ফিরে পেলেও ভাষা বদলে ফেলেছেন। মাতৃভাষা বাংলা ভুলে গিয়ে এখন তিনি সাবলীলভাবে কথা বলছেন উর্দুতে। তবুও এই ভাষা ও দূরত্বের ব্যবধান দুই ভাই-বোনের আত্মিক টানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম মৃত মমিন মাতুব্বর। প্রায় ৫০ বছর আগে অতীতে শিশু বয়সে নিখোঁজ হওয়া পরী বেগম চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রথমে ভারত এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পৌঁছান। সেখানে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে এক নিঃসন্তান দম্পতির আশ্রয়ে বড় হন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানি এক নাগরিককে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

​তবে প্রবাসের মাটিতে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও জন্মভূমি কিংবা আপন মা-বাবা ও ভাইদের স্মৃতি একটুও মুছে যায়নি পরী বেগমের মন থেকে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এক বিস্ময়কর চাকা ঘোরে পাকিস্তানে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি যুবকের সুবাদে।

​পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ওই দুই যুবকের সাথে পরিচয় হয় পরী বেগমের নাতির। দাদির মুখে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া শেকড়ের গল্প শুনে সেই যুবকরা উদ্যোগী হন। পরী বেগমের দেওয়া নগরকান্দার ঠিকানা এবং বাবা মমিন মাতুব্বর ও ভাইদের (নওশের আলী মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বর ও সোলেমান মাতুব্বর) নাম সংগ্রহ করে তারা দেশে ফিরে খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে তাদের মাধ্যমেই দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ভাই-বোনের।

​অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সম্প্রতি জন্মভূমিতে ফেরেন পরী বেগম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবধানে ভাই-বোনের চেহারা ও পরিবেশ বদলালেও ভালোবাসার কমতি হয়নি একটুও। ছোটবেলার সেই বোনকে এত বছর পর কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা।

​এদিকে পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, দীর্ঘকাল পাকিস্তানে বসবাস করায় পরী বেগম এখন আর বাংলায় কথা বলতে পারেন না; তার দৈনন্দিন ভাষা এখন উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালেও তিনি উর্দুতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভাইয়েরাও তার সব কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও চোখের ভাষা আর অনুভূতির মধ্য দিয়েই মনের ভাব বুঝে নিচ্ছেন।

​দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের এই নাটকীয় ও আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে নগরকান্দার পৈতৃক বাড়িতে বইছে আনন্দের বন্যা। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তাকে একনজর দেখতে। কেউ শুনছেন তার কষ্টের জীবনসংগ্রামের গল্প, আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমির প্রতি অটুট ভালোবাসার কথা ভেবে। পরিবারে আনন্দের এই জোয়ার ধরে রাখতে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

​পরী বেগমের ভাই সাইফুল মাতুব্বর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘পরী আপা আমাদের কাছে ফিরে আসায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘ এই বিচ্ছেদ শেষে তাকে ফিরে পাবো, তা আমরা কল্পনাই করতে পারিনি।’

​মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি নির্মমভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা ভিনদেশে হারিয়ে গিয়েছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেকড়ে তার এই ফিরে আসা কেবল একটি পরিবারের পুনর্মিলনই নয়, এটি মানুষের জন্মভূমির প্রতি অবিনশ্বর টান ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান।

 

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

ফরিদপুরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করার এমন উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে এটিই প্রথম।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৌশল ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল বসানো হয়েছে। এ সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

​সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টটি স্থাপনে সরকারের দেওয়া ২০ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করেছে। প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সঙ্গে আগামী ২০ বছরের জন্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয়েছে।

​উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা পরিষদ এবং পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-১, ফরিদপুরের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ জানান, “দেশের ৬১টি জেলা পরিষদকে সোলার সিস্টেম স্থাপনে সরকার ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছিল। ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রথম নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করে কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল। আমাদের দৈনিক চাহিদা ৪০ কিলোওয়াট, বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।”

​জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজস্ব প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেই কার্যকর পাঠাগার, আধুনিক গণগ্রন্থাগারের দাবি

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেই কার্যকর পাঠাগার, আধুনিক গণগ্রন্থাগারের দাবি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে একটি আধুনিক সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলায় একাধিক নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও পাঠ্যবইয়ের বাইরে মননশীল জ্ঞানচর্চার জন্য কার্যকর কোনো পাবলিক লাইব্রেরি নেই।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার নগরকান্দায় ‘বঙ্গবন্ধু পাবলিক লাইব্রেরি’ নামে একটি গণগ্রন্থাগার উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই এটি নিয়মিত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাঠাগারটির নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া পাবলিক লাইব্রেরি’ রাখা হলেও এর সেবা ও কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি ভবনে এটি স্থাপন করায় সেখানে নিয়মিত পাঠ কার্যক্রমও গড়ে ওঠেনি।

​নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (এম.এন. একাডেমি), সরকারি নগরকান্দা কলেজ, শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণে এখন পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন গণগ্রন্থাগার নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

​স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন সচেতন নাগরিকদের মতে, তরুণদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি, অপসংস্কৃতি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে একটি আধুনিক পাঠাগার অত্যন্ত জরুরি। নতুন ভবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও সাধারণ জ্ঞানের বই, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সামগ্রী, জাতীয়-স্থানীয় পত্রিকা ও শিশুদের উপযোগী বইয়ের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তাঁরা।

​নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “পড়াশোনা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে প্রচুর বই পড়া দরকার, যা নগরকান্দায় নেই। তাই এখানে একটি আধুনিক গণগ্রন্থাগার স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

​অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক মো. ইব্রাহিম খান বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নগরকান্দা উপজেলায় অদ্যাবধি কোনো কার্যকর গ্রন্থাগার গড়ে ওঠেনি। বর্তমান প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগার বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”

​একই দাবি জানিয়ে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মুজাহিদুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার কমাতে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা সময়ের দাবি।”

​এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ভবনের একটি তলায় শিল্পকলা একাডেমি, একটিতে পাবলিক লাইব্রেরি এবং অন্যটিতে অফিসার্স ক্লাব স্থাপন করা হবে। তবে আপাতত পুরোনো লাইব্রেরিটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

​স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কেবল নামসর্বস্ব কোনো পাঠাগার নয়, নগরকান্দায় দ্রুতই একটি কার্যকর ‘পাবলিক লাইব্রেরি’ গড়ে উঠবে—যেখানে প্রতিদিন বই হাতে নির্দ্বিধায় জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন সব বয়সী পাঠক।