খুঁজুন
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকুস।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে, মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা জায়েজ কি না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘খোদ গায়েবানা জানাজা বৈধ আছে কি না।’

বাংলাদেশের ইসলামি গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক আল কাউসার’এবং সৌদি আরবভিত্তিক ফাতাওয়া ওয়েব সাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াব’র আলোকে কালবেলার পাঠকদের জন্য বিষয়টির বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো।

আল কাউসারে বলা হয়েছে, জানাজা নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ আদায়ের বিধান নেই।

নবীজি (সা.)- এর জীবদ্দশায় অসংখ্য সাহাবি মদিনার বাইরে দূর-দূরান্তে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তাদের গায়েবানা জানাজা পড়ার কোনো ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নেই। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামের জানাজা নামাজ পড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি বলে দিয়েছিলেন যে, ‘তোমাদের কেউ মারা গেলে আমাকে জানাবে। কেননা আমার জানাজা নামাজ মৃতের জন্য রহমত। (সহিহ ইবনে হিব্বান :৩০৮৩)

তদ্রূপ খোলাফায়ে রাশেদিন থেকেও গায়েবানা জানাজা নামাজ পড়ার প্রমাণ নেই। অথচ তাদের খেলাফতকালে বিভিন্ন মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাজা নামাজ যদি সুন্নাহসম্মত হত, তাহলে সাহাবিগণ অবশ্যই উক্ত সুন্নাহর অনুসরণ করতেন। কখনো পরিত্যাগ করতেন না।

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহ.) যাদুল মাআদ গ্র্রন্থে লেখেন, অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ ছিল না। কেননা অসংখ্য মুসলমান দূর-দূরান্তে ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের গায়েবানা জানাজা পড়েননি। (যাদুল মাআদ : ১/১৪৮)

সুতরাং বর্তমানে যেসব অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা পড়া হয়, তা সুন্নাহসম্মত নয় এবং সালাফের আমলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এ প্রথা অবশ্যই বর্জনীয়।

কেউ কেউ গায়েবানা জানাজা প্রমাণ করার জন্য রাসুলে কারিম (সা.) কর্তৃক নাজাশী (রা.) -এর জানাজা পড়াকে দলিল হিসেবে পেশ করতে চান। কিন্তু পুরো বিষয়টা সামনে রাখলে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নাজাশীর জানাজা পড়ার ঘটনাটি বর্তমানে প্রচলিত গায়েবানা জানাজার জন্য দলিল হতে পারে না। কারণ সেটি ছিল বিশেষ একটি ঘটনা, যা ব্যাপকভাবে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়াকে প্রমাণ করে না। এছাড়া মুসনাদে আহমদ ও সহিহ ইবনে হিব্বানে নাজাশীর জানাজা সম্পর্কিত একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, নাজাশীর লাশ কুদরতিভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনেই উপস্থিত ছিল।

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং তোমরা তার জানাজা আদায় করো।’ ইমরান (রা.) বলেন, অতপর রাসুলে কারিম (সা .) দাঁড়ালেন। আর আমরা তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতপর তিনি তার জানাজা পড়ালেন। আমাদের মনে হচ্ছিল যে, নাজাশীর লাশ তাঁর সামনেই রাখা ছিল। (মুসনাদে আহমদ : ২০০০৫, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩০৯৮)

আর অনেক মুহাদ্দিস নাজাশীর জানাজা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ঘটনাটি বিশেষ এক প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা হলো, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে তার জানাজা পড়ার মতো কোনো (মুসলিম) ব্যক্তি ছিল না। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাধারণ নিয়মের বাইরে তার জানাজা পড়িয়েছেন।

আল্লামা যায়লায়ী (রাহ.), আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম ও আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রাহ.) এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (নাসবুর রায়া : ২/২৮৩, যাদুল মাআদ : ১/৫০২, ফয়যুল বারী : ২/৪৭০)

এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ওয়েবসাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াবে’ বলা হয়েছে, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.) থেকে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়ার একটি মত পাওয়া যায়। এই দুই ইমাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তি ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাজা জায়েজ। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকা মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাজা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু : ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু : ৫/২৫৩)

একই রকম সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সৌদি আরবের ফাতাওয়া বোর্ড আল-লাজনাতুদ দায়িমা। তারা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মৃত ব্যক্তির গায়েবানা জানাজা সর্বাবস্থায় জায়েজ। মৃত ব্যক্তির জানাজা আগে হোক বা না হোক। (সূত্র : আল ইসলাম সুওয়াল-জওয়াব, প্রশ্ন : ৩৫৮৫৩)

তবে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে। ওই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজা না হয়ে থাকে, তাহলে গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে। আর যদি একবার জানাজা পড়া হয়ে যায়, তাহলে আর গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এই মতের ওপর ফাতাওয়া দিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবের প্রখ্যাত মুফতি সালেহ আল উসায়মিনও এই মতের ওপরই ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।

সূত্র : মাসিক আল কাউসার পত্রিকা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফরিদপুরে সচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফরিদপুরে সচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে ফরিদপুরে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জামাল মোল্লা, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ খান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) এম. শামীম আজাদ এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা “সবাই মিলে বাড়ি ও অফিসের আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি”, “আমরা সবাই ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হই, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি” এবং “ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করি”সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোরও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গুমুক্ত ফরিদপুর গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্দোষ দাবি করে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোক্তার প্রতিবাদ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
নির্দোষ দাবি করে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোক্তার প্রতিবাদ

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যেক্তা মো. শাহিনুর রহমান। সংবাদটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদরের নিজ বাড়িতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

লিখিত প্রতিবাদে তিনি জানান, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সহিত কাজ করে চলছেন মো.শাহিনুর রহমান। গত বুধবার (৩ জুন) পৌরসভার ইচাপাশা গ্রামের রবি ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার চাচীকে নিয়ে পৌর ভবনে আসেন জন্ম নিবন্ধন সংসোধন করার জন্য। শাহিনুর সংশোধন করার জন্য কাজগপত্র চান। এটা সংশোধন করতে কত টাকা খচর হবে জানতে চাইলে বলেন ৫০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হবে। তারা বলেন আরও টাকা লাগবে কি না? শাহিনুর প্রতি উত্তরে না বলে দেন।

রবি এসময় রুমের বাহিরে এসে শাহিনুরকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন আপনি আমার চাচীর কাছে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে ৪০ হাজার টাকা চাইলেন কেন? এমন প্রশ্ন শুনে তিনি আবাক হয়ে বলেন আমি আপনার চাচীর কাছে কখন এ টাকা চাইলাম। তাদের মধ্যে এ নিয়ে তর্কবির্তক হওয়ার পর ভূল বোঝাবুঝির অবসান হয়। পরদিন একই গ্রামের বিল্লাল হুসাইন নামের এক ব্যক্তি এসে বলল জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি নিয়ে কি হয়েছে? তাকে বলেন সমাধান হয়ে গেছে। বিল্লাল সাহেব তাকে বলেন ৪০ হাজার টাকা কি রবি চেয়েছে? শাহিনুর না বলে দেয়। এ কথা সুনে বিল্লাল চলে যায়।

এরপর কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণ যোগাযোগ মাধ্যমে শাহিনুর রহমান জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন বলে বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা হয়। এসব মিথ্যা ও অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানান।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রিফাত নূর মৌসুমি জানান, জন্ম নিবন্ধনে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে ভ্যাপসা গরমের দাপট, হাঁসফাঁস করছে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভ্যাপসা গরমের দাপট, হাঁসফাঁস করছে মানুষ

গত কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের জনজীবন। দিনের পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। প্রচণ্ড রোদ, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির অনুপস্থিতিতে জেলার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, কৃষক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কর্মজীবীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ফরিদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ০২ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ৩৪ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি কমেনি। বরং ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে মানুষ আরও অস্বস্তি অনুভব করছেন।

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগকেই ছাতা, টুপি কিংবা পানির বোতল সঙ্গে রাখতে দেখা গেছে।

শহরের আলীপুর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, “সকালে কিছুটা কাজ করা গেলেও দুপুরের পর রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। কয়েক মিনিট রোদে থাকলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। যাত্রীও কমে গেছে।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান সদর উপজেলার কৃষক মজিবর শেখ। তিনি বলেন, “ধান ও সবজির জমিতে কাজ করতে গিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। সকাল থেকে গরমের কারণে শ্রমিকরাও বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারছেন না।”

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকার কারণেই মানুষ বেশি ঘামছেন এবং তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, ফলে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তখন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়বে এবং তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। এর ফলে গরমের তীব্রতা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে জনজীবনে।

চিকিৎসকরা এই গরমে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের সুতি পোশাক ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে টানা গরমে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অনেক এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গরমে অতিষ্ঠ ফরিদপুরবাসী এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভাপসা গরম থেকে মিলবে কিছুটা স্বস্তি।