খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

জুমার নামাজের গুরুত্ব-ফজিলত

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৬ এএম
জুমার নামাজের গুরুত্ব-ফজিলত

আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন (জুমার) নামাযের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা বুঝো।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত :০৯)

একদিকে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়ার কঠিন নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যদিকে জুমার নামাজ আদায় করার বিপুল ফযিলত রেখেছেন। যে যতো আগে আসবে, সে ততোবেশি লাভবান হবে।

 

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শুক্রবার দিন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করে এবং (জুমার নামাজের) আগমনকারীদের নাম ক্রমানূসারে লিপিবদ্ধ করতে থাকে। অতঃপর ইমাম যখন (মিম্বরে) বসেন, তারা লেখাগুলো গুটিয়ে নেয় এবং যিক্‌র (খুতবা) শোনার জন্য চলে আসে। মসজিদে যে আগে আসে, তার উদাহরণ সে ব্যাক্তির মত যে একটি উটনী কোরবানি করেছে। তার পরবর্তীজনের দৃষ্টান্ত তার মত যে একটি গাভী কোরবানি করেছে।

 

তার পরবর্তীজনের দৃষ্টান্ত তার মত যে একটি ভেড়া কোরবানি করেছে এবং তার পরবর্তীজনের দৃষ্টান্ত তার মত যে একটি মুরগি দান করেছে। পরবর্তীজনের দৃষ্টান্ত তার মত যে একটি ডিম দান করেছে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২০২১)

শুধু তাই নয়, জুমার নামাজ জন্য মসজিদের দিকে অগ্রসর হলে, প্রতি কদমে এক বছর নফল রোযা ও নামায পড়ার সওয়াব পাওয়া যায় এবং জুমার নামাজ আদায় করলে দশ দিনের গোনাহ মাফ হয়।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সকাল সকাল গোসল করল এবং গোসল করাল, তারপর ইমামের কাছে গিয়ে বসে চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে সে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব পাবে।

’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ৪৯৮)

আল্লাহর রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘জুমার দিনে যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার নামাজের জন্য যায় এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করে, এরপর ইমাম খুতবা শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে। এরপর ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। তবে তার এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ২০২৪)

বস্তুত জুমার নামাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময়। আমরা অনেকেই জুমার নামাজকে অবহেলা করে থাকি।

 

অযথা ও বিনা কারণে কখনও জুমার নামাজ পরিত্যাগ করা যায় না। এ ব্যাপারে শরিয়তে কঠিন সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা তার হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন।’ (তিরমিজি হাদিস নং : ৫০২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের যথাযথভাবে জুমর নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

বাম্পার ফলনেও চোখে জল—ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষে লোকসানে কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:০১ এএম
বাম্পার ফলনেও চোখে জল—ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষে লোকসানে কৃষক

ফরিদপুর জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বিক্রয়মূল্য কম থাকায় অধিকাংশ চাষিই এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন। এতে করে কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মন (৪০ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ কৃষকদের দাবি, অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে পারলে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান দামে উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সালথা উপজেলার বালিয়াগট্টি হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক ছত্তার মাতুব্বর বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম নেই। ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি করে সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের খরচই ওঠে না। আমাদের পুরোই লস হচ্ছে।”

একই উপজেলার আরেক কৃষক রহিম শেখ জানান, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে ১০ হাজার টাকাও ফিরে আসবে কিনা সন্দেহ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক মজিবর মোল্লা বলেন, “পেঁয়াজ তুলতে শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন খরচ—সব মিলিয়ে এখন খরচ অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে সিন্ডিকেট আর আমদানির কারণে দাম পড়ে গেছে। আমরা উৎপাদন করি, কিন্তু লাভ পায় অন্যরা।”

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রভাবের কারণে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। এতে করে মাঠ পর্যায়ের চাষিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “এবার জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহের ভারসাম্য না থাকায় দাম কমে গেছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, বাজার তদারকি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং পরিকল্পিত বিপণন ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। যদি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন।

এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যবসার বরকত নষ্ট করে যে ৭ কাজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৫ এএম
ব্যবসার বরকত নষ্ট করে যে ৭ কাজ?

ব্যবসা শুধু লাভ-ক্ষতির হিসাব নয়, এটি একটি আমানত, একটি ইবাদতও বটে। ইসলামে হালাল উপার্জনকে যেমন অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপরও দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা।

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায় সবকিছু ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করেই বরকত উঠে যায়। আয় থাকে, কিন্তু শান্তি থাকে না; বিক্রি হয়, কিন্তু উন্নতি আসে না।

এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে কিছু গোপন গোনাহ বা অনৈতিক চর্চা, যা অজান্তেই আমাদের ব্যবসাকে গ্রাস করে ফেলে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু কাজের ব্যাপারে স্পষ্ট সতর্কবার্তা এসেছে, যেগুলো ব্যবসার বরকত নষ্ট করে দেয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। তাই একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য জরুরি হলো, শুধু লাভের দিকে নয়, বরং হালাল-হারাম ও নৈতিকতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। নিচে এমনই ৭টি কাজ তুলে ধরা হলো, যা থেকে বেঁচে থাকলে ব্যবসায় আসবে প্রকৃত বরকত ও কল্যাণ।

১. মাপে কম দেওয়া

আমাদের আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। অথচ পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে জীবিত করে ওঠানো হবে? এক মহাদিবসে, যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামিনের সামনে দাঁড়াবে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১-৬)

২. পণ্যের মান নিয়ে প্রতারণা

অনেক সময় ক্রেতার অগোচরে ভালো পণ্যের ভেতরে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। (আবু দাউদ : ৩৪৫২)

৩. সুদি লেনদেন করা

সুদ ব্যবসার বরকত নির্মূল করে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোনো অতি কুফরকারী পাপীকে ভালোবাসেন না। (সুরা বাকারা : ২৭৬)

৪. ত্রুটি গোপন করে পণ্য বিক্রি

পণ্যের কোনো দোষ থাকলে তা ক্রেতাকে স্পষ্ট করে জানানো বিক্রেতার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পণ্যের ত্রুটি গোপন করে কিছু বিক্রি করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। অতএব কোনো মুসলমানের পক্ষে তার ভাইয়ের কাছে পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে তা বিক্রি করা বৈধ নয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২২৪৬)

৫. ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা

ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনে অনেকে ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারের অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করেন। ইসলামে এ ধরনের কাজকে ‘জুলুম’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। (বোখারি : ২২৮৭)

৬. মিথ্যা শপথ করা

পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বা ক্রেতার আস্থা অর্জনে মিথ্যা শপথ করা একটি বড় গোনাহ। হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না, যে মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালিয়ে দেয়। (সুনানে নাসাঈ : ৫৩৩৩)

৭. অবৈধ মজুদদারি করা

অধিক মুনাফার আশায় পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্য মজুদদারি করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে শাস্তি দেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৫৫)

ইরান সংঘাত কি পরমাণু যুদ্ধে রূপ নেবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৮ এএম
ইরান সংঘাত কি পরমাণু যুদ্ধে রূপ নেবে?

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, চরম পরিস্থিতিতে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র বিবেচনা করতে পারে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের একাংশ এমন ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, আবার কেউ বলছেন সম্ভাবনা কম। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার সমাধান নয় এবং এর বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হবে।

হোয়াইট হাউসের এআই ও ক্রিপ্টো প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ডেভিড স্যাকস। তার মতো কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা ও তা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে এমন খোলাখুলি বক্তব্য সম্ভবত এটিই প্রথম। এতেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

প্রথাগত প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা না হয়েও স্যাকস এ যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ‘ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধ’ থেকে ‘বিজয় ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার’ পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তার এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েল এমনটি করবে না। ইসরায়েল কখনোই তা করবে না।’

ট্রাম্প আশ্বস্ত করলেও অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকই পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন মিয়ারশেইমার মিডল ইস্ট আ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরানে যদি ইসরায়েল হেরে যায় এবং তারা যদি প্রথাগত উপায়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে থামাতে না পারে, তবে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাববে। আমরা জানি, এই গ্রহে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি নির্মম আর কোনো রাষ্ট্র নেই।’

এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৫০০ এবং লেবাননে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলে ১৫ জন এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। হামলা ও পাল্টা হামলার এ চক্র পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠাকে একেবারে অমূলক বলার সুযোগ নেই।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ইমেরিটাস অধ্যাপক থিওডোর পোস্টলও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিকল্পহীন হয়ে পড়লে পারমাণবিক অস্ত্র বেছে নিতে পারেন, যা ইরানের দিক থেকেও পাল্টা আঘাত ডেকে আনবে। এমনকি ইরানকে যদি তড়িঘড়ি করে কোনো ডিভাইস তৈরি করতে হয় তবুও।

এদিকে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখি জানান, জাতিসংঘ কর্মীরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে একটি পারমাণবিক দুর্ঘটনা বা ঘটনা, যা আমাদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।’ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা অস্ত্রের ব্যবহার, উভয় পরিস্থিতির জন্যই তারা সতর্ক রয়েছেন।

ওয়াশিংটনের আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল জি কিমবল অবশ্য মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনার বাইরে রাখা উচিত। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি বা ব্যবহার এ যুদ্ধের কোনো সমাধান নয়। ইতিহাস বলে, অপারমাণবিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকি দিয়ে তাদের আচরণ পরিবর্তন বা আত্মসমর্পণ করানো যায় না।’

তবে কিমবল একটি ভয়ের জায়গাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একক এবং প্রায় অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই কাজ করছেন।’

যুদ্ধ শুরুর চার সপ্তাহ পার হতে চললেও ইরানের লড়াই করার সক্ষমতা এখনো অটুট। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হলেও ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা থামেনি। ২০ শতাংশ বিশ্ব তেলের করিডোর হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর রিচার্ড গোয়ান অবশ্য পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি এখনো কম বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন মনে করছে, তাদের প্রথাগত হামলা সফল হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার জন্য পারমাণবিক হামলা কোনো ভালো বিকল্প নয়। তা ছাড়া ট্রাম্পের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ নিয়ে এক ধরনের সুস্থ ভয় কাজ করে, তাই তিনি হয়তো এ পথে হাঁটবেন না।’

গোয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে আরব বিশ্বসহ পুরো পৃথিবী এর নিন্দা জানাবে এবং এটি রাশিয়া বা চীনের মতো দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি অজুহাত হয়ে দাঁড়াবে।