খুঁজুন
, ,

নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা

ইসলাম তার পরিচয়, বিধান ও বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র একটি দ্বিন ও ধর্ম। ইসলামের শিক্ষা হলো মুসলমানরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বকীয়তা রক্ষা করবে, সে তার জীবনের কোনো পর্যায়ে নিজের মুসলিম পরিচয়কে ভুলে যাবে না, সে অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অন্ধ অনুকরণ করবে না।

এই নির্দেশনা মুসলমানের ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুসলমানের সামাজিক ও জাতীয় জীবনেও তা প্রযোজ্য। নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে ইসলাম মানুষকে বাস্তবমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেয়।

 

ইসলাম বলে, একজন মুমিনের জীবনে নববর্ষ নিছক আনন্দের বিষয় নয়, বরং নিজের তা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব করা এবং আগামী দিনে ভালো কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণের সময়।

নববর্ষে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের প্রত্যাশা

ইসলাম নববর্ষে বিশেষ উৎসব আয়োজনের প্রবর্তক নয়।
ইসলাম মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়। আর ইসলামের দৃষ্টিতে নববর্ষের সঙ্গে মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এই উদযাপন কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগ তার মহান স্রষ্টা থেকে ফিরিয়ে নেয়।

তবে মুমিন এই দিনে আল্লাহর কাছে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করতে পারে। যেভাবে মহানবী (সা.) প্রত্যেক নতুন মাসের শুরুতে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করতেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখে পাঠ করতেন—‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ওপর চাঁদকে উদিত করুন শান্তি ও ঈমানের সঙ্গে, নিরাপত্তা ও ইসলামের সঙ্গে এবং আমাদের সেসব কাজের ক্ষমতা দানের সঙ্গে, যা আপনি ভালোবাসেন এবং যাতে আপনি খুশি হন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

নববর্ষে মুমিনের করণীয়
উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ না থেকে মুমিন ভালো কাজের সুযোগ হিসেবে নববর্ষে কয়েকটি কাজ করতে পারে।
তা হলো—

১. প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা : মুমিন যখন সুস্থ স্বাভাবিকভাবে একটি বছর পূর্ণ করবে, সে বছরজুড়ে ভালো কাজ করবে এবং আল্লাহর নিয়ামত লাভে সক্ষম হবে, তখন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো তবে আমি অবশ্যই (আমার নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব। আর (আমার দান) অস্বীকার করলে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অতি কঠোর।’
(সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

২. দুঃখ ও বেদনার জন্য ধৈর্য ধারণ : মুমিনের যদি একটি বছরও এমন যায় যে সে সারা বছর নানা ধরনের বিপদ-আপদে জর্জরিত ছিল, তবু সে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ হবে না, বরং একে ভাগ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে ধৈর্য ধারণ করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে।
আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদের যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই আছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৫-১৫৭)

৩. অতীতের ভালো-মন্দ যাচাই করা : মুমিন বিগত বছরে কোন কাজটি ভালো হলো এবং কোন কাজটি মন্দ হলো তা যাচাই করে দেখবে। যদি সে কোনো ভালো কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে এবং মন্দ কাজ করলে আল্লাহর কাছে তাওবা করবে। আত্মজিজ্ঞাসা বা ভালো-মন্দের যাচাই মুমিনকে ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা করে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছ থেকে হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ কোরো। তোমাদের আমলনামা পরিমাপ করার আগে তোমরা তা পরিমাপ কোরো। কেননা আজ তোমার নিজের হিসাব গ্রহণ আগামীকাল তোমার থেকে হিসাব গ্রহণের তুলনায় সহজ।’
(মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৩৩)

৪. ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ : মুমিন সময়ের প্রতিটি সূচনায় নেক আমল বা ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ করে, এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে; অন্যথায় মৃত্যু এলে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’
(সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ১০)

৫. উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ : হাদিসের ভাষ্য অনুসারে মুমিনের চেষ্টা থাকবে যেন তার গতকালের তুলনায় আজকের দিনটি উত্তম হয়। আর উত্তম দিন মানুষের উত্তম পরিকল্পনা ও আন্তরিক চেষ্টা ছাড়া আসে না। তাই মুমিনের উচিত নববর্ষের সময় উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ততক্ষণ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।’
(সুরা : রাআদ, আয়াত : ১১)

মোটকথা, নববর্ষ উদযাপনে মুমিনের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে এবং তার আগামী দিনের পথচলা হবে ভালো কাজ ও উত্তম পরিকল্পনার মাধ্যমে। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এই যে মানুষ তাই পায় যা সে করে, আর এই যে তার কর্ম অচিরেই দেখান হবে, অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।’
(সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯-৪১)
আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।