খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা

ইসলাম তার পরিচয়, বিধান ও বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র একটি দ্বিন ও ধর্ম। ইসলামের শিক্ষা হলো মুসলমানরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বকীয়তা রক্ষা করবে, সে তার জীবনের কোনো পর্যায়ে নিজের মুসলিম পরিচয়কে ভুলে যাবে না, সে অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অন্ধ অনুকরণ করবে না।

এই নির্দেশনা মুসলমানের ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুসলমানের সামাজিক ও জাতীয় জীবনেও তা প্রযোজ্য। নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে ইসলাম মানুষকে বাস্তবমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেয়।

 

ইসলাম বলে, একজন মুমিনের জীবনে নববর্ষ নিছক আনন্দের বিষয় নয়, বরং নিজের তা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব করা এবং আগামী দিনে ভালো কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণের সময়।

নববর্ষে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের প্রত্যাশা

ইসলাম নববর্ষে বিশেষ উৎসব আয়োজনের প্রবর্তক নয়।
ইসলাম মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়। আর ইসলামের দৃষ্টিতে নববর্ষের সঙ্গে মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এই উদযাপন কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগ তার মহান স্রষ্টা থেকে ফিরিয়ে নেয়।

তবে মুমিন এই দিনে আল্লাহর কাছে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করতে পারে। যেভাবে মহানবী (সা.) প্রত্যেক নতুন মাসের শুরুতে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করতেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখে পাঠ করতেন—‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ওপর চাঁদকে উদিত করুন শান্তি ও ঈমানের সঙ্গে, নিরাপত্তা ও ইসলামের সঙ্গে এবং আমাদের সেসব কাজের ক্ষমতা দানের সঙ্গে, যা আপনি ভালোবাসেন এবং যাতে আপনি খুশি হন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

নববর্ষে মুমিনের করণীয়
উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ না থেকে মুমিন ভালো কাজের সুযোগ হিসেবে নববর্ষে কয়েকটি কাজ করতে পারে।
তা হলো—

১. প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা : মুমিন যখন সুস্থ স্বাভাবিকভাবে একটি বছর পূর্ণ করবে, সে বছরজুড়ে ভালো কাজ করবে এবং আল্লাহর নিয়ামত লাভে সক্ষম হবে, তখন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো তবে আমি অবশ্যই (আমার নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব। আর (আমার দান) অস্বীকার করলে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অতি কঠোর।’
(সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

২. দুঃখ ও বেদনার জন্য ধৈর্য ধারণ : মুমিনের যদি একটি বছরও এমন যায় যে সে সারা বছর নানা ধরনের বিপদ-আপদে জর্জরিত ছিল, তবু সে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ হবে না, বরং একে ভাগ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে ধৈর্য ধারণ করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে।
আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদের যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই আছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৫-১৫৭)

৩. অতীতের ভালো-মন্দ যাচাই করা : মুমিন বিগত বছরে কোন কাজটি ভালো হলো এবং কোন কাজটি মন্দ হলো তা যাচাই করে দেখবে। যদি সে কোনো ভালো কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে এবং মন্দ কাজ করলে আল্লাহর কাছে তাওবা করবে। আত্মজিজ্ঞাসা বা ভালো-মন্দের যাচাই মুমিনকে ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা করে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছ থেকে হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ কোরো। তোমাদের আমলনামা পরিমাপ করার আগে তোমরা তা পরিমাপ কোরো। কেননা আজ তোমার নিজের হিসাব গ্রহণ আগামীকাল তোমার থেকে হিসাব গ্রহণের তুলনায় সহজ।’
(মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৩৩)

৪. ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ : মুমিন সময়ের প্রতিটি সূচনায় নেক আমল বা ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ করে, এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে; অন্যথায় মৃত্যু এলে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’
(সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ১০)

৫. উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ : হাদিসের ভাষ্য অনুসারে মুমিনের চেষ্টা থাকবে যেন তার গতকালের তুলনায় আজকের দিনটি উত্তম হয়। আর উত্তম দিন মানুষের উত্তম পরিকল্পনা ও আন্তরিক চেষ্টা ছাড়া আসে না। তাই মুমিনের উচিত নববর্ষের সময় উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ততক্ষণ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।’
(সুরা : রাআদ, আয়াত : ১১)

মোটকথা, নববর্ষ উদযাপনে মুমিনের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে এবং তার আগামী দিনের পথচলা হবে ভালো কাজ ও উত্তম পরিকল্পনার মাধ্যমে। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এই যে মানুষ তাই পায় যা সে করে, আর এই যে তার কর্ম অচিরেই দেখান হবে, অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।’
(সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯-৪১)
আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের পাকড় গাছের নিচে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামীণ বাংলার প্রাচীন ক্রীড়া ঐতিহ্যের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে।

লাঠি খেলায় অংশ নেয় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ধোপাডাঙ্গা-চাদপুর এলাকার অভিজ্ঞ লাঠিয়াল দল। তারা দলবদ্ধ ও এককভাবে নানা কৌশলী ও শৈল্পিক লাঠি খেলার প্রদর্শনী উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন, চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত এই খেলা এখন লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার করা যায়।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ফরিদপুরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত আয়োজন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানটির ড্রিলশেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির প্রতীক নানা রঙের মুখোশ, পাখি, গ্রামীণ জীবনচিত্র ও লোকজ উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসজুড়ে ঘুরে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের রঙিন পোশাক, আলপনা আঁকা প্রাঙ্গণ এবং বৈশাখী সাজ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে নৃত্য, গান, আবৃত্তি এবং নাটিকার মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার চেতনাকে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৈশাখী গান ও লোকজ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দের সঞ্চার করে। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও অংশগ্রহণের এক অনন্য সমন্বয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ুম শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। নতুন বছরের সূচনায় সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। তারা আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবমিলিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে নববর্ষের নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

সারা বছরের অপেক্ষার পর সেই কাঙ্ক্ষিত সকালে বাইরে যাওয়ার আগে মেকআপ করতে তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিয়ে তৈরি হোন। প্রথমে এক টুকরো বরফ মুখে ঘষে নিন।

এতে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকবে এবং গরমে ত্বকও স্বস্তি পাবে।
ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন মুখে, চোখের ওপর-নিচে ও গলায় লাগিয়ে একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

মেকআপের পরও যদি চোখের নিচে কালি, মুখে দাগ বা ভাঁজ দেখা যায়, তাহলে কনসিলার ব্যবহার করুন। এরপর কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন।

চোখের ওপর পুরো পাতাজুড়ে বেস আইশ্যাডো লাগান। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বা দুই শেড মিলিয়ে আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্রূর ঠিক নিচে হাইলাইটার লাগান। কাজল চোখের ভেতরে লাগিয়ে ওপরে ও নিচে আইলাইনার দিন। যারা আইলাইনার ব্যবহার করতে চান না, তারা গাঢ় করে কাজল লাগাতে পারেন। সবশেষে দুই কোট মাসকারা ব্যবহার করুন।
নাক একটু মোটা বা বড় হলে দুই পাশে ডার্ক শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে শার্প লুক দিতে পারেন। নাকের ওপরের অংশে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন ও কমপ্যাক্ট লাগান।

গোলাপি বা বাদামি শেডের ব্লাশন ব্রাশে নিয়ে গালের আপেল পয়েন্টে লাগান।

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে হালকা পাউডার লাগিয়ে নিন। এরপর লিপ পেন্সিল দিয়ে আউটলাইন এঁকে লিপ ব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান।

পহেলা বৈশাখে গরম বেশি থাকে, তাই চুল খোলা না রেখে হালকা ভলিউম দিয়ে সেট করে নিতে পারেন। পেছনে চুল আটকানোর জায়গায় পছন্দের ফুল ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে খোঁপাও করতে পারেন।

বৈশাখের সাজে হাতভর্তি রেশমি চুড়ি, পোশাকের সঙ্গে মানানসই কানের দুল এবং কপালে টিপ বা আলপনা সাজকে পূর্ণতা দেয়।

পহেলা বৈশাখে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে ওয়েট টিস্যু ও কিছুটা লুজ পাউডার রাখুন। ত্বক ঘেমে গেলে মুছে নিয়ে আবার পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে পারবেন।