খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

হঠাৎ বমি, রোজা কি ভেঙে গেল? ইসলাম কী বলে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ বমি, রোজা কি ভেঙে গেল? ইসলাম কী বলে

মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকেন পবিত্র রমজান মাসে। আত্মশুদ্ধির সাধনায় নিবেদিত থেকে আল্লাহর রহমত এবং সান্নিধ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ পেতে মাসজুড়ে উপবাস করাই রমজানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

রোজা রাখার বেশ কিছু নিয়ম আছে। সঠিকভাবে রোজা পালন করতে ছোট ছোট বিষয় জানা জরুরি। এর মধ্যে অনেকেই জানতে চান, রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান ও বেহুশ হয়ে পড়লে কি রোজা ভেঙে যাবে কি না।

ইফতার ও সেহরির টাইম জানতে ক্লিক করুন..

এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, বমির পরিমাণ বেশি হোক বা কম, সেটা খাদ্য বমি হোক বা রক্ত বমি, মনে রাখতে হবে, রোজা হলো পানাহার না করার নাম। বমি হলে তো পানাহার করা হয় না; বরং তার বিপরীত হয়। তাই রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙবে না।

তবে বমি হওয়ার পর রোজা পালনে সক্ষম হলে তা পূর্ণ করবে; অক্ষম হলে রোজা ছেড়েও দিতে পারবে। এ রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা প্রয়োজন হবে না। বমি মুখে আসার পর তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এমতাস্থায় কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আদায় করতে হবে।

হাদিসে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন রোজার কাজা করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৭২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/১৮০; আল বাহরুর রায়েক : ২/২৪৭)

অনুরূপভাবে কোনো কারণে অজ্ঞান হলে (যাতে সাধারণত রোজার বিপরীত কিছু ঘটে না) রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনে পানাহার বা ওষুধ সেবনে রোজা ভাঙলে পরে কাজা আদায় করে নিতে হবে।

“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

অফিসের ব্যস্ততা যেন প্রতিদিনেরই সঙ্গী। তবুও প্রতিটি কাজ আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা দায়িত্বে অবহেলা—এসব থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করি। কতটা পারি বা পেরেছি, সে হিসাব আজ না-ই বা করলাম।

আজও ছিল তেমনই একটি দিন। নির্ধারিত অফিস সময় পেরিয়ে গেলেও এক পুলিশ কর্মকর্তা সেবা নিতে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী সময় শেষ হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিতে মন সায় দিল না। তাকে বসতে দিলাম, ধৈর্য ধরে তার সমস্যার কথা শুনলাম এবং যথাসাধ্য আন্তরিকতার সাথে সমাধানের চেষ্টা করলাম।

আমার এই সামান্য চেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট হলেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কিছু অর্থ দিতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিলাম—এটি আমার নীতি ও পছন্দের বিরুদ্ধে। আমি সেবার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ করি না। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্যই আমি বেতন পাই—যার মাধ্যমে সাদামাটা ডাল-ভাতেই আমার জীবন চলে যায়, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বারবার চেষ্টা করেও যখন কিছু দিতে পারলেন না, তখন কিছুটা বিস্ময় আর শ্রদ্ধা মিশ্রিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আপনি সত্যিই একজন ভালো মানুষ। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।”

এ ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। প্রায়ই কেউ না কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কিছু দিতে চান—কখনো অর্থ, কখনো খাবার। তবে যতটা সম্ভব তা এড়িয়ে গিয়ে বরং তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, আমার বিশ্বাস—সত্যিকারের সন্তুষ্টি আসে দেওয়ার মধ্যে, নেওয়ার মধ্যে নয়।

অনেকে হয়তো এই লেখাকে আত্মপ্রচার বা আত্মপ্রশংসা ভাবতে পারেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তা নয়। আমি শুধু একটি বিশ্বাস ভাগ করতে চাই—পৃথিবীতে টাকা-পয়সাই সবকিছু নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়টুকু থাকলেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত অর্থ কিংবা অযথা প্রাপ্তি অনেক সময় মানুষের জীবনে অশান্তি ডেকে আনে।

আমি সবসময় বিশ্বাস করি—“মানুষ মানুষের জন্য”। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা—এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। সেবার মাধ্যমে যদি কারো মুখে হাসি ফোটানো যায়, সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এই আদর্শ নিয়েই বেঁচে আছি, এবং আজীবন এভাবেই থাকতে চাই। সবাই দোয়া করবেন, যেন সততা ও মানবিকতার এই পথ থেকে কখনো বিচ্যুত না হই।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ নারীসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ও রবিবার (১২ এপ্রিল) জেলার ভাঙ্গা, কোতয়ালী ও নগরকান্দা থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, জেলার গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, যা জেলার সক্রিয় মাদকচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার ভাঙ্গা থানার পুলিয়ার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার কোতয়ালী থানার দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুটন (৩১), জুবায়ের শেখ (২০) ও সাথী বেগম (৫৫)-কে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬১ হাজার ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে নগরকান্দা থানার কুঞ্জুনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহসিন শেখ বাবু (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শেখ জাফরের ঘর থেকে আরও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে রবিবার ভাঙ্গা থানার মানিকদহ কালিবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে শিমুল চক্রবর্তী মনা (৪১) ও ওয়াসিম ঘোষ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ (প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার) এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিবির ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফরিদপুরকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দিতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেজাউল মাতুব্বরকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে তাকে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নগরকান্দা থানার বাবুর কাইচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রেজাউল মাতুব্বর ওই এলাকার মৃত সাহেদ আলী মাতুব্বরের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-০৯/১৯০; জিআর নং-১৯০/১৯) দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযুক্ত ছিলেন রেজাউল। পরবর্তীতে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান। নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই তারক বিশ্বাস, এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম ও এএসআই মো. শরিফুল ইসলামসহ একটি বিশেষ দল এতে অংশ নেয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করা পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”