খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনের জন্য পুরস্কারের বার্তা বয়ে আনে।

তাই এ দিনটি শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ইসলামে ঈদের দিনের জন্য কিছু করণীয় আমল রয়েছে, আবার কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিচে ঈদের দিনের করণীয় কাজ এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

করণীয়

১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা গোসল করে ঈদগাহে যেতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতেন। (মুয়াত্তায়ে মালেক : ৪৮৮)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দিন উত্তমভাবে গোসল করতেন, সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করতেন, নিজের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এরপর ঈদের নামাজে যেতেন। (শরহুস সুন্নাহ : খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০২)

২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা

ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা এমনটি করতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি : ৬১৪৩)

তবে উত্তম পোশাক মানে নতুন পোশাক নয়; বরং নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো পোশাক পরা চাই।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায়

ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

তবে, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর

ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ। তাই এর প্রকাশ হিসেবে মুস্তাহাব হলো, ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া। খেজুরের ব্যবস্থা না থাকলে অন্য কোনো মিষ্টান্ন গ্রহণ করা। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে খেজুর না খেয়ে ঘর থেকে বেরুতেন না। তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বোখারি : ৯৫৩)

উল্লেখ্য, এ আমল কেবল ঈদুল ফিতরের জন্য। কেননা, ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং কোরবানির গোশত দিয়ে সর্বপ্রথম আহার গ্রহণ করা। রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে না খেয়ে বেরুতেন না, আর ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ হতে ফেরার আগে কিছু খেতেন না। ঈদগাহ থেকে ফিরে পশু জবাই করার পর নিজ কোরবানির পশুর গোশত থেকে খেতেন। (মুসনাদে আহমদ : ২২৯৮৪)

৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ

হজরত নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকতেন (সুনানে দারা কুতনি : ১৭১৬)। তাই আমাদেরও উচিত ঈদগাহে যাওয়ার সময় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তাকবির বলা।

৬. ঈদগাহে ভিন্ন পথে যাতায়াত

সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজি (সা.) এমনটি করতেন। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। (বোখারি : ৯৮৬)

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন

যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৯৫)

৮. ঈদের নামাজ আদায়

ঈদের দিন সকালে পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিশেষ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ জামাতে দু’রাকাত নামাজ আদায় করা এবং তারপর ঈদের খুতবা দেয়া ও শোনা চাই। ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। কারণ, ঈদের জামাত রাসুল (সা.) সর্বদাই মাঠে গিয়ে আদায় করেছেন। বৃষ্টির কারণে একবার শুধু মসজিদে আদায় করেছেন। যা প্রমাণ করে, ঈদের জামাতের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো মাঠে আদায় করা। বাকি যদি কেউ মসজিদে আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া উচিত হবে না। তাই সামর্থ্য থাকাবস্থায় ঈদের জন্য মাঠ রাখাই শরিয়তের নির্দেশ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯)

৯. একে অপরের জন্য দোয়া

ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম দোয়াসুলভ বাক্যে সৌজন্য বিনিময় করতেন। তাবেয়ি জুবাইর ইবনে নুফাইর (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের এবং তোমাদের আমলগুলো কবুল কর (ফাতহুল বারি : খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৬)। এ রকম সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তম আচরণ প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

১০. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, সাহাবিরা ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। ঈদ মোবারক ইনশাল্লাহও বলা যেতে পারে। ঈদুকুম সাঈদ বলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

১১. এতিম ও অভাবীকে পানাহার

ঈদের দিন এতিমের খোঁজখবর নেয়া, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সম্ভব হলে তাদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়া চাই। এটা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।’ (সুরা দাহর : ৮)

১২. খোঁজ নেওয়া

ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া চাই। পাশাপাশি প্রতিবেশীরও খোঁজখবর নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতাপিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী পড়শী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাসদাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)

১৩. মনোমালিন্য দূরীকরণ

পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময় ঈদের দিন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে একজন অন্যজনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আগে সালাম দেয়’ (মুসলিম : ৬৬৯৭)। তাই ঈদের দিন সব মান-অভিমান ভুলে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করা উচিত।

১৪. আনন্দ প্রকাশ করা

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন আমার ঘরে এলেন, তখন আমার কাছে দুজন কিশোরী বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে গান গাচ্ছিল। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। এরই মধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এ বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজি (সা.)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসুল (সা.) তার কথা শুনে বললেন, ‘ওদের গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।’ (বোখারি : ৯৫২)

বর্জনীয়

১. রোজা রাখা

রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদ মোমিন বান্দার জন্য আনন্দের দিন। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) দুদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন। (মুসলিম : ১১৩৮)

২. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন

ঈদকে কেন্দ্র করে বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩৩)

৩. খোলামেলা পোশাক পরা

ঈদের দিন নারীরা ব্যাপকভাবে বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে খোলামেলা ঘোরাফেরা করে। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের অধীন মেয়েদেরও বিরত রাখতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)

৪. অপচয়-অপব্যয়

ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সবকিছুতেই অপচয়-অপব্যয় করা হয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কোনোভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)

৫. মদ ও আতশবাজি

ঈদের আনন্দে মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, আতশবাজি করা শরিয়তবিরোধী কাজ। শুধু ঈদ নয়, অন্য কোনো দিনও এসব করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! নিশ্চয় মদণ্ডজুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তিরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর; যাতে সফলকাম হও।’ (সুরা মায়িদা : ৯০)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সুস্বাদু, রসালো আর সুগন্ধে অতুলনীয় লিচু গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে এই লোভনীয় ফলের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে এক মরণঘাতী ঝুঁকি, যা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাইকেল গ্রেগারের মতে, লিচুর এই বিষক্রিয়া এবং এর নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

লিচুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ‘বিষ’

লিচুতে ‘মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লাইসিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক টক্সিন বা বিষ থাকে, যা ‘হাইপোগ্লাইসিন’ (hypoglycin) জাতীয় টক্সিনের মতোই। এই বিষটি শরীরের যকৃৎ বা লিভারকে রক্তে শর্করা বা সুগার তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে গিয়ে বিপত্তি ঘটে।

কেন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে লিচু কাটার মৌসুমে শিশুদের মধ্যে এক রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ বা ‘এনসেফালোপ্যাথি’ দেখা যেত, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘নাইটমেয়ার’ বলা হতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে বা খালি পেটে লিচু বাগান থেকে প্রচুর লিচু খেয়েছিল, তাদের শরীর এই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শিশুরা খিঁচুনি এবং মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যেত।

একসঙ্গে কয়টি লিচু নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় লিচু খাওয়ার নির্দিষ্ট সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

শিশুদের জন্য: চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জন্য এক বসায় ৩০ থেকে ১০০টি লিচু খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: সুস্থ সবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ঝুঁকি কম হলেও সাবধানতা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির একবারে ২০০টির বেশি লিচু খাওয়া উচিত নয়। তবে একজন সাধারণ ওজনের পুরুষ প্রায় ৪৫টি লিচু খেলেও তার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায় না বলে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে।

নিরাপদ থাকার উপায়

বিশেষজ্ঞরা লিচুর বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

খালি পেটে লিচু নয়: কখনো খালি পেটে বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর লিচু খাবেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শিশুদের রাতে অবশ্যই ভালো করে খাবার খাইয়ে ঘুমাতে দেওয়া উচিত। রাতে খাবার না খেয়ে থাকলে পরের দিন সকালে তাদের লিচু খেতে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস: লিচু সুস্বাদু হলেও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণ না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

পুষ্টিকর খাবার: পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

লিচু একটি চমৎকার পুষ্টিকর ফল যদি তা নিয়ম মেনে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়। সামান্য একটু সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য এই গ্রীষ্মের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউট্রেশন ফ্যাক্ট

কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

কর্মক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনে এমন বস বা ঊর্ধ্বতন থাকেন, যার আচরণ কর্ম পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

কখনও অকারণে কঠোর সমালোচনা, কখনও অসম্মানজনক আচরণ, আবার কখনও কর্মীর ব্যক্তিগত সীমারেখা উপেক্ষা।

এসব কারণে ধীরে ধীরে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, এমনকি অবসাদও দেখা দিতে পারে।

একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন- বিষাক্ত নেতৃত্ব শুধু কাজের ক্ষতি করে না, মানসিক সুস্থতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অফিসে সুস্থ নেতৃত্বের অধিকারী কর্মকর্তা নিজে কী চান, কীভাবে কাজ করতে হবে বা কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হবে— তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। তবে বিষাক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রায়ই নিজের সিদ্ধান্ত বদলান।

একদিন যে কাজের প্রশংসা করেন, পরদিন একই কাজের জন্য তীব্র সমালোচনা করেন। কখন তিনি রেগে যাবেন বা কোন বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হবেন, তা কর্মীরা বুঝে উঠতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী সাবরিনা রোমানোফ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করলে কর্মীরা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকেন। তারা প্রতিটি কথাবার্তা বা কাজের আগে ভাবেন, এতে আবার কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না। এই অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।”

ক্ষমতার অপব্যবহার

অনেক সময় কিছু কর্মকর্তা, নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেন, আবার কাউকে অকারণে ছোট করেন।

ব্যক্তিগতভাবে বলা কোনো কথা পরে অন্যদের সামনে তুলে ধরেন কিংবা সহকর্মীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন।

মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক ট্রেসি ভাদাকুমচেরির মতে, “যদি কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত অন্য সহকর্মীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তবে সেটিও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ। কারণ একইভাবে অন্যদের কাছেও তিনি আপনার বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলতে পারেন।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী ও পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ভালো কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে নিয়ে নেন বিষাক্ত কর্মকর্তা। অথবা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখেন। এতে কর্মীরা ধীরে ধীরে নিজেদের অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন।

ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান না দেখানো

সুস্থ কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। তবে বিষাক্ত বস অনেক সময় কর্মীদের ছুটির দিনেও কাজের নির্দেশ দেন। রাতের বেলায় বারবার বার্তা পাঠান বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখান না।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “ভালো নেতৃত্বের বস, কাজের পাশাপাশি কর্মীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনের প্রতিও সম্মান দেখান। তবে বিষাক্ত বস মনে করেন, কর্মীর পুরো সময়ই যেন প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ।”

অনেক সময় সভার মধ্যেই কর্মীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করাও এই ধরনের আচরণের অংশ হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

কর্মস্থলের চাপ সাময়িক হতে পারে। তবে প্রতিদিন অপমান, ভয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হলে, এর প্রভাব শরীর ও মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, হতাশা এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই ভীতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।”

অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা কিংবা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দেয়।

সাবরিনা রোমানোফের মতে, “কর্মস্থলের সম্পর্ক অনেকটা পরিবারের মতো। সেখানে বস অনেক সময় অভিভাবকের মতো ভূমিকায় থাকেন। ফলে তার ধারাবাহিক সমালোচনা বা অবমূল্যায়ন মানুষের পুরানো মানসিক ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে।”

নিজেকে দোষারোপ না করা

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক কর্মী ভাবতে শুরু করেন, হয়ত সমস্যাটা তাদের মধ্যেই রয়েছে।

তবে প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভয়, উদ্বেগ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।”

সাবরিনা রোমানোফও মনে করেন, “নিজের সহ্য করার সীমা কোথায়, তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। কঠোর ব্যবস্থাপনা আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

ঘটনাগুলো লিখে রাখা

কোন দিন কী ঘটেছে, কে উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে— এসব তথ্য লিখে রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

সাবরিনা রোমানোফ বলেন, “লিখিত তথ্য শুধু ভবিষ্যতে প্রয়োজনেই কাজে আসে না, বরং নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলেও বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। ইলেকট্রনিক বার্তা বা লিখিত নির্দেশ সংরক্ষণ করাও উপকারী হতে পারে।”

আলাপ সীমিত রাখা

ট্রেসি ভাদাকুমচেরির পরামর্শ, “প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত আলোচনা না করে কাজের বিষয়েই কথোপকথন সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ কমে আসে।”

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “নিজের সময়, কাজের পরিমাণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে যতটা সম্ভব স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। যদিও সব কর্মক্ষেত্রে তা সহজ নয়, তবু সীমারেখা তৈরির চেষ্টা প্রয়োজন।

সহায়তা চাইতে দ্বিধা না করা

কর্মস্থলের চাপ একা বহন করা সব সময় সম্ভব হয় না। পরিবার, বিশ্বস্ত সহকর্মী কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, যারা নিজের সক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেন। এতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা সহজ হয়।”

ট্রেসি ভাদাকুমচেরি অবশ্য সতর্ক করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ করার আগে, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও ভেবে নেওয়া উচিত।”