খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ এএম
ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের আদেশ করা হয়েছে।

সুরাতুল বাক্বারায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন। (আয়াত: ১১০)

সুরা নুরে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো- যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’(আয়াত : ৫৬)

কিন্তু জাকাত প্রদানের সময় আমাদের দেশের অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে, কাকে জাকাত দেবেন আর কাকে দেবেন না। তাই যারা জাকাত আদায়ের সময় দ্বিধায় ভুগেন, তাদের জন্য কোরআন-হাদিসের আলোকে সহজ সমাধান জানিয়েছে ইসলামি গবেষণা পত্রিকা আল কাউসার

চলুন তাহলে জেনে নিই, কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।

১. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

২. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।

৩. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে জাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না। এই ব্যক্তির ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৫৬)

৪. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৫. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৬. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

৭. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে, এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েজ, এর বেশি নয়।

৮. জাকাতের টাকা এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি জাকাতের উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে, জাকাতের টাকা দেওয়া হলে লোকটি সে টাকা গোনাহের কাজে ব্যয় করবে, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।

৯. জাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টা বা অন্য কোনো অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া হলে জাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান-খায়রাত অমুসলিমকেও করা যায়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬৬,৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫১৬-৫১৭)

১০. জাকাতের টাকা জাকাতের হক্বদারদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। জাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করা, কুপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

১১. জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০)

১২. জাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হলো, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এরূপ না করে যদি জাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে যেমন, তার ঘর সংস্কার করে দিল, টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করল, তাহলে জাকাত আদায় হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭)

নিয়ম হলো, জাকাতের টাকা দরিদ্র ব্যক্তির মালিকানায় দিয়ে দেওয়া। এরপর যদি সে নিজের খুশি মতো এসব কাজেই ব্যয় করে, তাহলেও জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

১৩. আত্মীয়-স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা এবং অন্যান্য আত্মীয়দেরকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে, দেওয়ার সময় জাকাতের উল্লেখ না করে মনে মনে জাকাতের নিয়ত করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬০,৭১৬১,৭১৬৪,৭১৭১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫৪২-৫৪৬)

১৪. নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যারা তার জন্মের উৎস, তাদেরকে নিজের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।(রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)

১৫. বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে জাকাত দেওয়া জায়েজ যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে জাকাতের অর্থ দিলে জাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অংক পাবে। এক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা জাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।

১৬. কোনো লোককে জাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে জাকাত দেওয়া হলো, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাহলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় জাকাত দিতে হবে না। তবে যাকে জাকাত দেওয়া হয়েছে সে যদি জানতে পারে যে, এটা জাকাতের টাকা ছিল সেক্ষেত্রে তার ওপর তা ফেরৎ দেওয়া ওয়াজিব।

১৭. জাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, জাকাত-গ্রহীতা অমুসলিম ছিল তাহলে জাকাত আদায় হবে না। পুনরায় জাকাত দিতে হবে।

১৮. অপ্রাপ্তবয়স্ক (বুঝমান) ছেলে-মেয়েকে জাকাত দেওয়া যায়। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২০১ )

ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

দেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত নাম পিয়া জান্নাতুল। মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী— তিন পরিচয়েই জনপ্রিয় তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলোচিত ব্যারিস্টার সুমনের চেম্বারে অ্যাসোসিয়েটস আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন পিয়া।

এই মডেল এবার তার সহকর্মীকে নিয়ে লিখলেন ফেসবুকে। সুমনের প্রশংসা করে তার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলেন।

পিয়া তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যে মানুষটি সবসময় অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, দেশের স্বার্থে নির্ভয়ে কথা বলেছেন, আজ তিনি নিজেই জামিন প্রার্থনা করছেন; সময়ের এটি নির্মম পরিহাস।  কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতেই পারেন- সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।  কিন্তু একজন মানুষের মূল দর্শন, তার সততা, তার উদ্দেশ্য-সেগুলোই হওয়া উচিত আমাদের মূল্যায়নের আসল মানদণ্ড।’

স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী-আইনজীবী আরও বলেন, ‘কোনো মামলা যদি হয়রানিমূলক হয়ে থাকে, তা যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে পর্যালোচনা হয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।  পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নতির জন্য ব্যারিস্টার সুমনের মতো মানুষের সংখ্যা বাড়ুক’-এই কামনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কম্প্রেসার মেশিনের বাতাস পায়ুপথে ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিক সজিব শরীফকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২)-কে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব শরীফ (১৫) পাশের দাদপুর ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল শরীফের ছেলে। সে মিলটির স্পিনিং বিভাগে হেলপার হিসেবে কাজ করত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা পাটের আঁশ পরিষ্কার করতে সজিব কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়ার পাইপ ব্যবহার করছিল। এ সময় সহকর্মী রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।

সহকর্মীরা তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, অতিরিক্ত চাপের কারণে সজিবের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহতের ভাবি নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার দেবর খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কাজ করতে গিয়ে এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হবে, তা কখনও ভাবিনি।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৭, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিহাত শেখ আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মাগুরার শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ পিএম
ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি সংস্কার বোর্ডের নির্দেশনা এবং “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫” অনুসরণ করে জেলার ৯টি উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য নিরাপত্তা প্রহরী (নৈশ প্রহরী) পদে জনবল সরবরাহ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ক্যাটাগরি-৫ এর আওতায় মোট ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তবে সরাসরি ব্যক্তিগত নিয়োগ নয়, বরং সরকার অনুমোদিত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহ করা হবে।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর-এর অনুকূলে এক হাজার টাকার পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আগামী ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। জমাকৃত দরপত্র ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার মধ্যে সিলগালা খামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় জমা দিতে হবে। একই দিন দুপুর আড়াই টায় দরপত্র উপস্থিত দরদাতাদের সামনে খোলা হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেবাকর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস চার্জ ন্যূনতম ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রে আনসার সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, আয়কর সনদ এবং সরকারি প্রকল্পে কমপক্ষে তিন বছরের জনবল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক।

চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত কর্মীদের পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদনের পরই জনবল কাজে যোগ দিতে পারবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং কর্তৃপক্ষ যেকোনো দরপত্র গ্রহণ বা বাতিলের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।