খুঁজুন
, ,

ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের আদেশ করা হয়েছে।

সুরাতুল বাক্বারায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন। (আয়াত: ১১০)

সুরা নুরে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো- যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’(আয়াত : ৫৬)

কিন্তু জাকাত প্রদানের সময় আমাদের দেশের অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে, কাকে জাকাত দেবেন আর কাকে দেবেন না। তাই যারা জাকাত আদায়ের সময় দ্বিধায় ভুগেন, তাদের জন্য কোরআন-হাদিসের আলোকে সহজ সমাধান জানিয়েছে ইসলামি গবেষণা পত্রিকা আল কাউসার

চলুন তাহলে জেনে নিই, কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।

১. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

২. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।

৩. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে জাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না। এই ব্যক্তির ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৫৬)

৪. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৫. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৬. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

৭. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে, এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েজ, এর বেশি নয়।

৮. জাকাতের টাকা এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি জাকাতের উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে, জাকাতের টাকা দেওয়া হলে লোকটি সে টাকা গোনাহের কাজে ব্যয় করবে, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।

৯. জাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টা বা অন্য কোনো অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া হলে জাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান-খায়রাত অমুসলিমকেও করা যায়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬৬,৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫১৬-৫১৭)

১০. জাকাতের টাকা জাকাতের হক্বদারদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। জাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করা, কুপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

১১. জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০)

১২. জাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হলো, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এরূপ না করে যদি জাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে যেমন, তার ঘর সংস্কার করে দিল, টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করল, তাহলে জাকাত আদায় হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭)

নিয়ম হলো, জাকাতের টাকা দরিদ্র ব্যক্তির মালিকানায় দিয়ে দেওয়া। এরপর যদি সে নিজের খুশি মতো এসব কাজেই ব্যয় করে, তাহলেও জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

১৩. আত্মীয়-স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা এবং অন্যান্য আত্মীয়দেরকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে, দেওয়ার সময় জাকাতের উল্লেখ না করে মনে মনে জাকাতের নিয়ত করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬০,৭১৬১,৭১৬৪,৭১৭১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫৪২-৫৪৬)

১৪. নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যারা তার জন্মের উৎস, তাদেরকে নিজের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।(রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)

১৫. বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে জাকাত দেওয়া জায়েজ যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে জাকাতের অর্থ দিলে জাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অংক পাবে। এক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা জাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।

১৬. কোনো লোককে জাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে জাকাত দেওয়া হলো, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাহলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় জাকাত দিতে হবে না। তবে যাকে জাকাত দেওয়া হয়েছে সে যদি জানতে পারে যে, এটা জাকাতের টাকা ছিল সেক্ষেত্রে তার ওপর তা ফেরৎ দেওয়া ওয়াজিব।

১৭. জাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, জাকাত-গ্রহীতা অমুসলিম ছিল তাহলে জাকাত আদায় হবে না। পুনরায় জাকাত দিতে হবে।

১৮. অপ্রাপ্তবয়স্ক (বুঝমান) ছেলে-মেয়েকে জাকাত দেওয়া যায়। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২০১ )

সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে পড়ে মিলন মাতুব্বর (২৭) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবী গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিলন মাতুব্বর ওই গ্রামের আব্দুর রব মাতুব্বরের ছেলে। আহতরা হলেন মিলনের ভাই মিঠু মাতুব্বর (৩০), মিঠুর স্ত্রী হেনা বেগম (২৪) এবং প্রতিবেশী ওবায়দুর শেখ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের প্রধান বিদ্যুত লাইনের একটি তার ছিঁড়ে পাশের একটি গোয়ালঘরের ওপর পড়ে। এতে গোয়ালঘর থেকে কাপড় শুকানো জন্য ব্যবহার করা জিই তারের (ধাতব তার) মাধ্যমে তিনটি বসতঘরসহ তিনটি ঘরে বিদ্যুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোসল শেষে ভেজা কাপড় শুকাতে বাড়ির উঠানে টানানো জিআই তারে কাপড় মেলতে গেলে মিলন মাতুব্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন।

তার চিৎকার শুনে তার ভাই মিঠু মাতুব্বর উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে একে একে হেনা বেগম ও ওবায়দুর শেখও বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা সদরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর চারজনকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন ঝড় বৃষ্টি ছাড়াই একা একা কিভাবে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পরে?, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কারণেই এ প্রণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজনের মৃত্যু ও তিনজন আহত হওয়ার দায় কি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নেবে?

এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলতে তার অফিসে গেলে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিক বার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভি করেননি।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনাস্থলে আমাদের ফোর্স পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ পুলিশ হেফাজতে নেন। তিনি জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৪০ বছর ধরে দখলে থাকা খালটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত সরকারি খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজার এলাকার সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নিচে থাকা কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং হাটের দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় সরকারি খাল উদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, “সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা ও চলাচলে ভোগান্তি ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হলো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং বাজার ও আশপাশের এলাকার পরিবেশও উন্নত হবে।

ফরিদপুরে ৫০০ টাকায় আর ভরে না বাজারের ব্যাগ, নিত্যপণ্যের আগুনে দিশেহারা মানুষ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫০০ টাকায় আর ভরে না বাজারের ব্যাগ, নিত্যপণ্যের আগুনে দিশেহারা মানুষ

আয় একই থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার সাধারণ মানুষ। কয়েক মাস আগেও যে বাজার ৫০০ টাকায় মোটামুটি হয়ে যেত, এখন সেই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি, মাছ ও মসলার অল্প কিছু জিনিস কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।

গত শুক্রবার সরকারি ছুটির সুযোগে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে বাজার করতে আসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহ-ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। তিনি দুই কেজি আলু, বেগুন, কচুর মুখি, ধুন্দুল, পটল ও একটি লাউ কিনতেই প্রায় পুরো টাকা শেষ হয়ে যায়। এরপর মাছের বাজারে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাষের মাছ কিনে দেখেন বিল ৫০০ টাকারও বেশি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এক কেজি আলু ফেরত দিয়ে মাছের দাম পরিশোধ করেন। বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন, স্ত্রী কাঁচামরিচ কিনতে বললেও টাকার অভাবে সেটি কেনা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বেলাল বলেন, “আয় তো বাড়েনি, কিন্তু খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে ৫০০ টাকায় এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় বাজারের অনেকটাই হয়ে যেত, এখন একদিনের বাজার করতেও টাকা কম পড়ে যাচ্ছে।”

একই ধরনের সংকটের কথা জানান আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ী আক্কাস বিশ্বাস। তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরোনো কাগজ, কার্টন, লোহা ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন। আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হলেও এখন সেই আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ভাঙারি পণ্যের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যে কার্টনের কেজি ১৬ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটি মাত্র ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আয় কমে গেলেও সংসারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলফাডাঙ্গা সদর বাজার, গোপালপুর, জাটিগ্রাম ও হেলেঞ্চা হাট ঘুরে দেখা যায়, গত ছয় মাসের তুলনায় অধিকাংশ শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি কম থাকায় অন্য জেলা থেকে আসা পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ সবজি বাইরের জেলা থেকে আসে। পরিবহন ব্যয়, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকট এবং মৌসুমি প্রভাবের কারণে দাম বেড়েছে।

বর্তমানে আলফাডাঙ্গা বাজারে আলু ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা, আদা ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৭০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও চালকুমড়া আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং স্থানীয় পুঁইশাক, কলমিশাক ও লালশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেন মিয়া বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। মাছ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র জানান, বর্ষা মৌসুম হলেও নদীতে মাছ কম ধরা পড়ছে। দেশীয় মাছের দাম এখন ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চাষের রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের মতো মাছও এখন ৩০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক মাছ ব্যবসায়ী পবন দাশ বলেন, স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ আনতে হয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

আলফাডাঙ্গা সদর বাজার সবজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জুদ্দু মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়ে। তবে এবার সরবরাহ কম থাকায় দাম আরও বেশি। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বর্তমানে সংসারের বাজেট সামলাতে অনেক পরিবারকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কম কিনে কিংবা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।