খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

প্রতিদিন ইসবগুল খাচ্ছেন? আগে জেনে নিন ৫টি ভুল বিশ্বাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
প্রতিদিন ইসবগুল খাচ্ছেন? আগে জেনে নিন ৫টি ভুল বিশ্বাস

উপমহাদেশের ঘরোয়া চিকিৎসায় বহু বছর ধরেই পরিচিত একটি নাম ইসবগুল। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে হজমের নানা সমস্যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটি ব্যবহার করে আসছে। প্রাকৃতিক আঁশসমৃদ্ধ এই উপাদান সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং তুলনামূলকভাবে মৃদু কার্যকারিতার জন্য এখনো অনেকের রান্নাঘরের তাকেই জায়গা করে আছে।

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ইসবগুলকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা ভুল ধারণাও। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ফিটনেস কোচ রালস্টন ডি’সুজা। তিনি ইসবগুল নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি সাধারণ মিথ ভেঙে দিয়েছেন একে একে।

১. ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়

অনেকেই মনে করেন, ইসবগুল কোনো প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম পণ্য। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। ইসবগুল, যার ইংরেজি নাম সিলিয়াম হাস্ক, মূলত Plantago ovata উদ্ভিদের বীজের বাইরের খোসা। অর্থাৎ এটি একধরনের দ্রবণীয় আঁশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

ফিটনেস কোচ রালস্টনের ভাষায়, এতে কোনো কৃত্রিম বা সিনথেটিক উপাদান নেই, এটি সরাসরি উদ্ভিদজাত উৎস থেকে পাওয়া যায়। আর এই সরলতাই একে হজমের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলেছে।

২. ইসবগুল খেলে অভ্যাস হয়ে যায়

আরেকটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, একবার ইসবগুল শুরু করলে তা ছাড়া মলত্যাগ সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণা সঠিক নয়।

ইসবগুল কোনো স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ নয়, অর্থাৎ এটি অন্ত্রকে জোর করে সক্রিয় করে না। বরং পানি শোষণ করে জেলির মতো অবস্থা তৈরি করে, মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ সহজ করে।

রালস্টন ডি’সুজা বলেন, এটি অন্ত্রের সঙ্গে কাজ করে, অন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়। তাই এটি অভ্যাস তৈরির মতো কোনো প্রভাব ফেলে না।

৩. ইসবগুল খেলেই গ্যাস হয়

হঠাৎ করে বেশি আঁশ খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হওয়া স্বাভাবিক। এটি শুধু ইসবগুল নয়, ওটস, চিয়া সিড, ফল বা শাকসবজি—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাই এখানে মূল বিষয়। রালস্টনের ভাষায়, গ্যাস হওয়া মানে আপনার অন্ত্র নতুন আঁশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। ধীরে ধীরে বাড়ালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই মানিয়ে নেয়।

৪. প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকর

অনেকে মনে করেন, নিয়মিত ইসবগুল খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। বাস্তবে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে প্রতিদিন ইসবগুল গ্রহণ করা নিরাপদ।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন, কিন্তু বেশিভাগ মানুষই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ইসবগুল সহজেই সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে শর্ত একটা, যথেষ্ট পানি সহ গ্রহণ করতে হবে।

৫. ইসবগুলের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে

সঠিকভাবে গ্রহণ করলে ইসবগুল সাধারণত নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কখনোই শুকনো অবস্থায় খাওয়া যাবে না। শুকনো ইসবগুল গলায় আটকে যেতে পারে বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। সবসময় এক গ্লাস পূর্ণ পানির সঙ্গে এটি গ্রহণ করতে হবে, যাতে এটি নিরাপদভাবে ফুলে উঠে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুরুতে প্রতিদিন ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করুন, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ান। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ইসবগুলের বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

শেষকথা

হজম ভালো রাখা মানেই সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি মজবুত করা। ইসবগুল সেই প্রক্রিয়ায় একটি সহজ ও প্রাকৃতিক সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো স্বাস্থ্য উপাদানের মতো এটিও সঠিক নিয়মে, পরিমিত মাত্রায় এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র : এনডিটিভি

যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

পৃথিবীর ইতিহাসে যত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানে কেউই আসলে পরাজিত কিংবা বিজয়ী হয়নি! বরং প্রতিটি যুদ্ধেই মানবতা চরমভাবে পরাজিত হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় আমরা বহু যোদ্ধার বীরত্বগাথা ভূমিকা দেখতে পাই। যুগ যুগ ধরে সাহিত্য, লোকগীতি, মঞ্চনাটক ও কবিতায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবদানকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের এ গৌরবান্বিত ধারণাটি যুদ্ধের এক ভয়াল ও অন্ধকার সত্যকে আড়াল করেছে।

এ সত্যটি হলো, যুদ্ধ সর্বদাই মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। বীরত্বের স্তুতিনামা বরাবরই নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী, বিবর্ণ জনপদ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

যুদ্ধের পক্ষে যে কোনো যুক্তির ঊর্ধ্বে এটি ধ্বংস, যন্ত্রণা ও বর্বরতার প্রতীক।একেকটি যুদ্ধ মানবজাতিকে কোটি কোটি মানুষের লাশ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। এসব যুদ্ধে যোদ্ধাদের যত বড় বীরত্বের গল্পই থাকুক না কেন, যুদ্ধগুলো মানবজাতিকে ইতিবাচক কিছু দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের ধারণা প্রায়ই সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসাবে তুলে ধরে। কিন্তু সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ও দুর্বিষহ ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করে।

যখন বীরত্বের খোলসে সহিংস আচরণ, বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার তারিফ করা হয়, তখন তা পরবর্তী প্রজন্মকে অমানবিক বীরত্বের জন্য উৎসাহিত করে। যখন হত্যাকা- সাহসিকতার সমার্থক হয়ে ওঠে, তখন এটি মানবজীবনের পবিত্রতাকে কলুষিত করে। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করে সৈনিক কৃর্তক হত্যাকা-ের তারিফ করার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল স্বরূপ পৃথিবীতে সংঘটিত হচ্ছে এত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রাণহানি।

যদিও বাহ্যিকভাবে আমরা দেখি, যুদ্ধে একদল বিজয়ী ও অন্যপক্ষ পরাজিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, এ বিজয় কিসের বিনিময়ে? উত্তর হচ্ছে-অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, বহু মানুষের অসহায় পঙ্গুত্ব, অর্থনীতির পতন, জাতীয় জীবনে অস্থিরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের জন্য নিরুপায় সাধারণ মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার বিনিময়ে। যা যুদ্ধের যে কোনো ইতিবাচক অর্জনের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

এমনকি বিজয়ী যোদ্ধারাও বাকি জীবনটা যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বহন করে চলেন। প্রতিটি যুদ্ধেই কে হারবে আর কে জিতবে, তা অনির্ধারিত হলেও এটা নির্ধারিত যে, যুদ্ধে মানবতা পরাজিত হবে। অর্থাৎ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিজয়ীরাও যুদ্ধে পরাজয়ই বরণ করে।মোট কথা, বিজয়ী ও পরাজিত শক্তি উভয়ের জন্যই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হলো পরাজয়, ক্ষতি ও নৈতিকতার অবক্ষয়।

যুদ্ধের পর বীরত্বকে উদযাপন করা কখনো কখনো প্রতিশোধ পরায়ণতা ও ঘৃণার চক্রকে উসকে দিয়ে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন অক্ষশক্তি পরাজিত হয়, তখন তাদের ওপর কিছু লজ্জাজনক শর্ত আরোপ করা হয়। অন্যদিকে মিত্রশক্তি তখন যুদ্ধ জয়ের উল্লাসে ব্যস্ত। তাদের এ বিজয়োল্লাসই অক্ষশক্তিকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তোলে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীকে প্রায় ৭ কোটি মানুষের মরদেহ উপহার দেয়।

এভাবেই প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকে বিধায় পুরো মানবজাতিই ভোগান্তির শিকার হয়। অথচ, যুদ্ধের রসদ ক্রয় না করে এ অর্থ যদি একটি দেশ তার দারিদ্র‍্য দূরীকরণ, শিক্ষার প্রসারসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যয় করতে পারে, তাহলে তা দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণে সহায়তা করবে।
এ পর্যায়ে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে…তবে কি বীরত্ব প্রদর্শন অপরাধ? মোটেও না; তবে সত্য, ন্যায়, মজলুমকে রক্ষা, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বীরত্ব লালন করা প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানই মহান বীরত্বের প্রতীক। অপরদিকে, পৈশাচিক বীরত্ব প্রদর্শন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ। আমরা বরং প্রকৃত বীরত্বের ধারণাকে বিশ্লেষণ ও উৎসাহিত করতে পারি। প্রকৃত বীরত্ব যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং এটি শান্তি, বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের পথে বিদ্যমান। যারা সমস্যার সমাধান রক্তপাতহীনভাবে করতে পারে, বিভক্ত জাতিকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন, তারাই প্রকৃত বীর।

যুদ্ধ ও মানবতার বিপর্যয় একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ কেবল ভৌগোলিক সংঘাত নয় বরং এটি লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু,বাস্তুচ্যুতি, চরম দারিদ্র‍্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণ যা সভ্যতাকে পিছিয়ে দেয়। পূর্ব কাল থেকে শুরু করে বর্তমানের যুদ্ধ গুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ মানেই মানবতা ও উন্নয়নমূলক অবকাঠামোর চরম ধ্বংসলীলা।

যুদ্ধে সামরিক মৃত্যুর চেয়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। সরাসরি মৃত্যু ছাড়াও দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়যা বিশ্বজুড়ে বিশাল শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করে। যুদ্ধ একটি দেশের রাস্তা, সেতু, বিদ‍্যালয় এবং হাসপাতাল ধ্বংস করে দেয় যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থবির করে ফেলে এবং কর্মসংস্থান নষ্ট করে। যুদ্ধের ফলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয় প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষিত হওয়ার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তীব্র উদ্বেগ দীর্ঘ মেয়াদে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত তৈরি করে। যুদ্ধের সময় স্কুলপড়–য়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামগ্রিক সভ্যতার জন্য চরম লজ্জা এবং মানবতার পরাজয়।

পরিশেষে এতটুকু বলাই যায়…কোনো যুদ্ধেই আসলে কেউ জয়ী হয় না প্রতিবারই মানবতার পরাজয় ঘটে। অপেক্ষা…সময়ের, যখন মানবজাতি ভয়ংকর যুদ্ধবিধ্বস্ত অতীত থেকে মুক্তি পাবে। কোনো শক্তিই মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা ভৌগোলিক সীমারেখা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বিবেক জাগ্রত হোক, জয় হোক মানবতার

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

সালথায় স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় সেই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
সালথায় স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় সেই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে বাঁশের খুটির সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় মো. সাহিদ শেখ (৪৫) নামে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে সাহিদকে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী সাহিদ শেখ মাঝারদিয়া গ্রামের মো. আকুব্বর শেখের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং নিজেও মাদকাসক্ত। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়ে কারাভোগ করেছেন। বর্তমানেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহিদের ছেলে আশিক শেখ চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ায় সে বাবাকে এ পথ থেকে সরে আসতে চাপ দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাহিদ তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ছেলে আশিকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতা পুড়িয়ে দেন তিনি। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার পর আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এদিকে বাবার বিচার দাবি করে আশিক সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে সাহিদকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সবশেষ সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ এএম
মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা পড়া কি জায়েজ?

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকুস।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে, মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা জায়েজ কি না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘খোদ গায়েবানা জানাজা বৈধ আছে কি না।’

বাংলাদেশের ইসলামি গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক আল কাউসার’এবং সৌদি আরবভিত্তিক ফাতাওয়া ওয়েব সাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াব’র আলোকে কালবেলার পাঠকদের জন্য বিষয়টির বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো।

আল কাউসারে বলা হয়েছে, জানাজা নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ আদায়ের বিধান নেই।

নবীজি (সা.)- এর জীবদ্দশায় অসংখ্য সাহাবি মদিনার বাইরে দূর-দূরান্তে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তাদের গায়েবানা জানাজা পড়ার কোনো ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নেই। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামের জানাজা নামাজ পড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি বলে দিয়েছিলেন যে, ‘তোমাদের কেউ মারা গেলে আমাকে জানাবে। কেননা আমার জানাজা নামাজ মৃতের জন্য রহমত। (সহিহ ইবনে হিব্বান :৩০৮৩)

তদ্রূপ খোলাফায়ে রাশেদিন থেকেও গায়েবানা জানাজা নামাজ পড়ার প্রমাণ নেই। অথচ তাদের খেলাফতকালে বিভিন্ন মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাজা নামাজ যদি সুন্নাহসম্মত হত, তাহলে সাহাবিগণ অবশ্যই উক্ত সুন্নাহর অনুসরণ করতেন। কখনো পরিত্যাগ করতেন না।

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহ.) যাদুল মাআদ গ্র্রন্থে লেখেন, অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা নামাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ ছিল না। কেননা অসংখ্য মুসলমান দূর-দূরান্তে ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের গায়েবানা জানাজা পড়েননি। (যাদুল মাআদ : ১/১৪৮)

সুতরাং বর্তমানে যেসব অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাজা পড়া হয়, তা সুন্নাহসম্মত নয় এবং সালাফের আমলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এ প্রথা অবশ্যই বর্জনীয়।

কেউ কেউ গায়েবানা জানাজা প্রমাণ করার জন্য রাসুলে কারিম (সা.) কর্তৃক নাজাশী (রা.) -এর জানাজা পড়াকে দলিল হিসেবে পেশ করতে চান। কিন্তু পুরো বিষয়টা সামনে রাখলে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নাজাশীর জানাজা পড়ার ঘটনাটি বর্তমানে প্রচলিত গায়েবানা জানাজার জন্য দলিল হতে পারে না। কারণ সেটি ছিল বিশেষ একটি ঘটনা, যা ব্যাপকভাবে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়াকে প্রমাণ করে না। এছাড়া মুসনাদে আহমদ ও সহিহ ইবনে হিব্বানে নাজাশীর জানাজা সম্পর্কিত একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, নাজাশীর লাশ কুদরতিভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনেই উপস্থিত ছিল।

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং তোমরা তার জানাজা আদায় করো।’ ইমরান (রা.) বলেন, অতপর রাসুলে কারিম (সা .) দাঁড়ালেন। আর আমরা তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতপর তিনি তার জানাজা পড়ালেন। আমাদের মনে হচ্ছিল যে, নাজাশীর লাশ তাঁর সামনেই রাখা ছিল। (মুসনাদে আহমদ : ২০০০৫, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩০৯৮)

আর অনেক মুহাদ্দিস নাজাশীর জানাজা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ঘটনাটি বিশেষ এক প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা হলো, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে তার জানাজা পড়ার মতো কোনো (মুসলিম) ব্যক্তি ছিল না। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাধারণ নিয়মের বাইরে তার জানাজা পড়িয়েছেন।

আল্লামা যায়লায়ী (রাহ.), আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম ও আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রাহ.) এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (নাসবুর রায়া : ২/২৮৩, যাদুল মাআদ : ১/৫০২, ফয়যুল বারী : ২/৪৭০)

এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ওয়েবসাইট ‘ইসলাম সওয়াল-জওয়াবে’ বলা হয়েছে, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.) থেকে গায়েবানা জানাজা জায়েয হওয়ার একটি মত পাওয়া যায়। এই দুই ইমাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তি ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাজা জায়েজ। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকা মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাজা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু : ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু : ৫/২৫৩)

একই রকম সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সৌদি আরবের ফাতাওয়া বোর্ড আল-লাজনাতুদ দায়িমা। তারা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মৃত ব্যক্তির গায়েবানা জানাজা সর্বাবস্থায় জায়েজ। মৃত ব্যক্তির জানাজা আগে হোক বা না হোক। (সূত্র : আল ইসলাম সুওয়াল-জওয়াব, প্রশ্ন : ৩৫৮৫৩)

তবে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে। ওই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজা না হয়ে থাকে, তাহলে গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে। আর যদি একবার জানাজা পড়া হয়ে যায়, তাহলে আর গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ হবে না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এই মতের ওপর ফাতাওয়া দিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবের প্রখ্যাত মুফতি সালেহ আল উসায়মিনও এই মতের ওপরই ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।

সূত্র : মাসিক আল কাউসার পত্রিকা