খুঁজুন
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রতিদিন ৯ ঘণ্টারও বেশি ঘুমান? হতে পারে ৫ সমস্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন ৯ ঘণ্টারও বেশি ঘুমান? হতে পারে ৫ সমস্যা

পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। চিকিৎসকরাও নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি ঘুম তত বেশি বিশ্রাম। বাস্তবে কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং অলস জীবনযাত্রা একসঙ্গে মিললে তা শরীরে নানামুখী জটিলতা তৈরি করতে পারে। এমনকি হৃদরোগ, স্থূলতা, মানসিক অবসাদ থেকে শুরু করে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে নিয়মিত ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম যেমন জরুরি, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যারা অতিরিক্ত ঘুমোন বা দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে শরীরচর্চার অভাব যোগ হলে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এসব রোগে প্রতি বছর ৪ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা সংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

বেশি ঘুমালে যেসব সমস্যা হতে পারে

১. বিষণ্ন তা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে

২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত ঘুম মানুষের মধ্যে বিষণ্নতার প্রবণতা বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি দেখা যায়।

২. মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে

অতিরিক্ত ঘুম মানুষের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ও কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে কাজের আগ্রহ কমে যায়, মনোযোগে ঘাটতি তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে অবসাদগ্রস্ততা বাড়তে পারে।

৩. বাড়তে পারে ওজন

বেশি ঘুমের কারণে শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের ওজন বৃদ্ধির হার অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়ে।

৪. হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে

নিয়মিত ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় তিন হাজার মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের করোনারি আর্টারি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ।

৫. কমে যেতে পারে আয়ু

একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত ঘুম মানুষের আয়ুর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ঘুমান তাদের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলাম কী বলে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কোর্ট ম্যারেজ করলে বিয়ে হবে কি? ইসলাম কী বলে

বর্তমানে আমাদের দেশে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে বা পরিবারের অমতে ছেলেমেয়েরা এই পথ বেছে নেয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে এই ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানা জরুরি, যা না জানলে জীবনভর পাপের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।

স্বাক্ষরই কি বিয়ে?

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা একটি ওকালতনামা প্রস্তুত করে নিয়ে যায় এবং সেখানে উকিল শুধু স্বাক্ষর করে দেন। তারা মনে করে এতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর অমোঘ বিধান হলো, বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইজাব ও কবুল’ (প্রস্তাব ও গ্রহণ) মুখে উচ্চারণ করা শর্ত, কেবল কাগজে লেখা বা স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়। যদি স্বামী-স্ত্রীর মুখে কথা বলার সামর্থ্য থাকে, তবে মুখে উচ্চারণ ব্যতীত কেবল স্বাক্ষর করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না।

তিনি বলেন, এখানে ইসলামি আইনের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। তালাকের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি মুখে উচ্চারণ না-ও করে, কেবল তালাকনামায় স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেয়, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ের জন্য অবশ্যই মুখে ইজাব-কবুল উচ্চারণ করতে হবে, অন্যথায় তা বৈধ হবে না।

কখন কোর্ট ম্যারেজ বৈধ হতে পারে?

ইসলামি এই স্কলারের মতে, কোর্ট ম্যারেজ বলতেই যে তা অবৈধ, বিষয়টি এমন নয়। যদি অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে উকিল বা কাজি সাহেব ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে পড়িয়ে দেন এবং ছেলে ও মেয়ে উভয়ে মুখে তা কবুল করে নেয়, তবেই সেই বিয়ে বিশুদ্ধ হবে। তবে কেবল হলফনামায় স্বাক্ষর করে ঘরে ফিরে আসাকে ইসলাম বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

পারিবারিক ও সামাজিক বিয়ের গুরুত্ব

ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হিসেবে গণ্য করে এবং একে যতটা সম্ভব উৎসবমুখর ও সামাজিক করার উৎসাহ দেয়। এজন্যই ইসলামে আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত করা এবং ‘ওলিমা’ বা বিয়ের ভোজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের প্রতি নসিহত

তারুণ্যের জোয়ারে ভেসে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিভাবকের সন্তুষ্টি ও উপস্থিতিতে এবং ইসলামি শরিয়াহর সীমারেখা মেনে ঘটা করে বিয়ে করাই ইসলামের সৌন্দর্য এবং এটিই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পছন্দ। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে শরিয়াহ ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া প্রত্যেক মুসলিম তরুণ-তরুণীর কর্তব্য।

সূত্র : কালবেলা

লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীরে যে ১৩টি সংকেত দেয়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীরে যে ১৩টি সংকেত দেয়?

আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া, হজমে সাহায্য করা এবং শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করাসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করে। একটি সুস্থ লিভার সাধারণত কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ করে যায়। তবে লিভার যখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের রোগ বা ক্ষতি যখন বাড়তে থাকে, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে যা আমাদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিচে লিভার নষ্ট হওয়ার বা রোগাক্রান্ত হওয়ার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আলোচনা করা হলো:

লিভার সমস্যার ১৩টি প্রধান লক্ষণ

১. জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

২. পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব: পেটে অস্বস্তি, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

৩. সহজেই কালশিটে পড়া: সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।

৪. ত্বকে চুলকানি: কোনো কারণ ছাড়াই ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি অনুভব করা।

৫. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া: শরীরের নিচের অংশ বিশেষ করে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে।

৬. অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া।

৭. ক্ষুধামন্দা: খাবারে অনীহা বা ক্ষুধা কমে যাওয়া।

৮. বমি বমি ভাব এবং বমি: প্রায়ই বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া।

৯. দুর্বলতা ও ক্লান্তি: সবসময় দুর্বল অনুভব করা বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।

১০. ফ্যাকাশে মল: মলের রঙ সাদা বা চকের মতো ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

১১. নিম্ন রক্তচাপ: রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া।

১২. বিভ্রান্তি ও ভারসাম্যহীনতা: মানসিকভাবে বিভ্রান্ত বোধ করা বা চলাফেরায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

১৩. কাঁপুনি: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে কাঁপুনি বা ট্রেমর (Tremors) দেখা দেওয়া।

কেন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

লিভারের সমস্যার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন: ভাইরাল হেপাটাইটিস (এ, বি বা সি ভাইরাস), সিরোসিস (লিভারের টিস্যু ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া) এবং বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ হয়ে ওঠা *ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অতিরিক্ত মদ্যপান অথবা স্থূলতার কারণে লিভারে চর্বি জমে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া লিভার ক্যান্সার এবং লিভার ফেইলিউরের মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা

লিভারের অবস্থা বোঝার জন্য সাধারণত চিকিৎসকরা *রক্ত পরীক্ষা* করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা বায়োপসির মাধ্যমেও লিভারের ক্ষতি বা ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়।

লিভার সুস্থ রাখার উপায়

লিভার ভালো রাখতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

অতিরিক্ত মদ্যপান ত্যাগ করা।

ধূমপান এবং অবৈধ ড্রাগ সেবন থেকে বিরত থাকা।

নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদের সুঁই বা রেজর শেয়ার না করা (হেপাটাইটিস প্রতিরোধের জন্য)।

ওষুধ ও ভিটামিন সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।

শরীরে ওপরের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র: পিআইএইচ হেলথ

ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিকে ধারণ করে “রউফনগর থানা” ও “রউফনগর উপজেলা” বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে কামারখালী বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বাগাট, কামারখালী, ডুমাইন, আড়পাড়া ও ওমেক্স ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রউফনগর থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মোল্লা। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল মুরাদ, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের সাবেক সদস্য দাউদ হোসেন, প্রফেসর এহেতশাম, সদস্য সচিব প্রফেসর কাজী কামাল, অ্যাডভোকেট খসরুল আলম, বিএনপি নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুখসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ মধুখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নানা সেবা থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষকে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সেবা নিতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ—দুইই অপচয় হচ্ছে। তারা জানান, এ অঞ্চলে সরকারি কলেজ, শতবর্ষী ডাকবাংলো, বৃহৎ রেল জংশন, নদীবন্দর, মিল-কারখানা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত দিক থেকেও এলাকাটি একটি স্বতন্ত্র থানা ও উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে “রউফনগর” নামকরণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে রউফনগর থানা ও উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।