খুঁজুন
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩২

যে ভুলে অল্প বয়সে মাথায় বাড়ছে পাকা চুলের সংখ্যা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৮ এএম
যে ভুলে অল্প বয়সে মাথায় বাড়ছে পাকা চুলের সংখ্যা?

বয়স হলে সাদা হবে চুল। বার্ধক্যের মতো এটাও অনিবার্য। ইদানীং আবার অল্প বয়সে চুলে পাক ধরতে শুরু করেছে অনেকেরই।

পাকা চুল এখন আর বয়স বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়। অল্প বয়সেই চুলের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারতে পারে সাদা চুল। এক বার চুলে পাক ধরতে শুরু করলে তা স্বাভাবিক ভাবে কখনও কালো হয় না।

তা ছাড়া এক বার চুল পাকতে শুরু করলে খুব দ্রুত মাথার বাকি অংশও সাদা হতে থাকে। জিনগত কারণে বা শারীরিক সমস্যার কারণে অল্প বয়সে চুল পাকতেই পারে। এ ছাড়াও রোজের জীবনে কোন কোন ভুল পাকা চুলের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে? এই ভুলগুলি করছেন না তো?

১) নিয়মিত ধূমপান করার অভ্যাস থাকলেও সতর্ক হোন। এই অভ্যাসের কারণেও চুল পেকে যেতে পারে।

২) রাত জেগে ওয়েব সিরিজ় দেখার ফলে ঘুমের গোলমাল হচ্ছে? সকালে অফিসের তাড়ায় তাড়াতাড়ি উঠে পড়ছেন। ফলে ঘুম সম্পূর্ণ হচ্ছে কই? এই অভ্যাসের কারণেও কিন্তু চুলে পাক ধরতে পারে।

৩) শরীরে খনিজ ও ভিটামিনের অভাবে চুল পাকতে পারে। আয়োডিন, আয়রন, কপারের মতো খনিজ, ভিটামিন বি, ওমেগা ৩-এর মতো পুষ্টিগুণের অভাব হলে চুলে পাক ধরতে পারে। তাই রোজের ডায়েটে কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়োর বীজ রাখতে পারেন। এর পাশাপাশি বেশি করে মরসুমি ফল ও শাকসব্জি আর দুধ, দই খেতে হবে।

৪) সারা দিন অত্যধিক চাপের মধ্যে কাজ করেন? খুব বেশি মানসিক চাপ থাকলে শরীরে নোরপাইনফ্রাইন বলে এক ধরনের রসায়নিক তৈরি হয়। যার ফলে ফলিক্‌লগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাড়াতাড়ি চুল পেকে যায়। তাই মানসিক চাপ কমাতে নিয়ম করে যোগাভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি, কাজের ফাঁকে সময় বার করে মন ভাল রাখার জন্য বেড়াতে যাওয়া, গানবাজনা করা, গান শোনার মতো কাজগুলি করতে পারেন।

৫) চুলে লাল, নীল, সবুজ রং করতে ভালবাসেন? বেশির ভাগ চুলের রঙেই হাইড্রোজ়েন পারঅক্সাইড থাকে। এই রাসায়নিকটি কিন্তু চুলের পাক ধরার অন্যতম কারণ হতে পারে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ফরিদপুরে হৃদরোগীদের হাহাকার: অচল ৮ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব, নেই সচলের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ফরিদপুরে হৃদরোগীদের হাহাকার: অচল ৮ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব, নেই সচলের উদ্যোগ

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত কয়েক কোটি টাকার হৃদরোগ বিভাগের অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে স্বল্প খরচে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। ২০১৬ সালে স্থাপন করা এই ক্যাথল্যাবটি আজও অজ্ঞাত কারণে চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ক্যাথল্যাবটি চালু থাকলে এখানে এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি (রিং পরানো)সহ হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কম খরচে দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

রাজধানীমুখী রোগীর ঢল, বাড়ছে ঝুঁকি:

বর্তমানে ফরিদপুরে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি পর্যায়ে কোনো কার্যকর ক্যাথল্যাব নেই। ফলে জরুরি অবস্থায় রোগীদের ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এনজিওগ্রাম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগে প্রতিদিন প্রায়  অনুমানিক ৫৬২ থেকে ৭৭৭ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান ও মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে হৃদরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্যাথল্যাব চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বেসরকারি নির্ভরতায় অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষ:

ফরিদপুরে বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব সেবা থাকলেও সেখানে চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক বেশি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পক্ষে সেই সেবা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু হলে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হতো এবং অনেক জীবন রক্ষা পেত।

রোগীদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা:

হৃদরোগে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫৬) ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ার পর ডাক্তার এনজিওগ্রাম করতে বলেছেন। এখানে ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় যেতে হয়েছে। যাতায়াত, পরীক্ষা আর চিকিৎসা মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর।”

আরেক রোগী সাজেদা বেগম (৪২) ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “হঠাৎ বুকে ব্যথা উঠলে আমার বড় বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু এখানে উন্নত কোনো ব্যবস্থা নেই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়েছে। যদি এখানে ক্যাথল্যাব চালু থাকত, তাহলে হয়তো এত ঝামেলা পোহাতে হতো না।”

সালথা উপজেলার বাসিন্দা মো. হান্নু মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রাতে হার্টের সমস্যা হলে ঢাকায় নিতে নিতে অনেক সময় চলে যায়। এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ফরিদপুরে ক্যাথল্যাব থাকলে অনেক রোগী বেঁচে যেত।”

নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার বাবা গত বছর হার্ট অ্যাটাক করেছিল। তখন তাকে ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে হৃদরোগের চিকিৎসা না পেয়ে ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতালে আবার নিয়ে যাই, তার কয়েকদিন পরেই মারা যায় আমার বাবা। আমার বাবা যদি তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসা পেত। তাহলে আমার বাবাকে বাঁচানো যেত।

সচেতন মহলের উদ্বেগ:

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এত বড় একটি সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা দুঃখজনক। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে। তারা দ্রুত ক্যাথল্যাবটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এহসানুল হক নামে একজন শিক্ষক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি শুধু একটি মেশিন নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি অচল থাকা মানে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা।”

কী কারণে বন্ধ ক্যাথল্যাব?

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যাথল্যাব চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল যেমন ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান থাকলেও মূল সমস্যা হচ্ছে যন্ত্রপাতি সচল না থাকা।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনটি অনেকটাই অকেঁজো হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যা জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আজমল হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান রয়েছে। কিন্তু ক্যাথল্যাবের মেশিনটি দীর্ঘদিন চালু না থাকায় অনেকটা অকেঁজো হয়ে গেছে। মেশিনটি ঠিক করা গেলে আমরা খুব দ্রুতই সেবা চালু করতে পারব।”

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. হুমায়ূন কবির ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ক্যাথল্যাবটি দীর্ঘদিন অচল রয়েছে। আমরা এটি সচল করার জন্য নিমিউকে (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইক্যুপমেন্ট মেইনটেইনেন্স ওয়ার্কশপ) চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে, মেশিনটি ভালো নেই এবং তারা কাজ করতে পারবে না। তারা পরামর্শ দিয়েছে, যেখান থেকে মেশিনটি কেনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ফিলিপস কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত তারা কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি।”

ফিলিপস কোম্পানির পাল্টা দাবি:

এ বিষয়ে ফিলিপস কোম্পানির তৎকালীন প্রতিনিধি মো. রফিক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে আমরা মেশিন সারাতে চাহিদা পত্র দিয়েছিলাম,পরবর্তীতে আমাদের সাথে আর যোগাযোগ কেউ করে নি”

দ্রুত সমাধানের দাবি:

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতি আরও বাড়বে। কারণ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে মেশিন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তখন নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেটি স্থাপন করতে হবে।

তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ক্যাথল্যাবটি সচল করা জরুরি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাব চালু হলে শুধু ফরিদপুর নয়, আশেপাশের জেলাগুলোর মানুষও উপকৃত হবে। এতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং অনেক হৃদরোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

তাই স্থানীয়দের একটাই দাবি—অচল পড়ে থাকা কোটি টাকার এই ক্যাথল্যাব দ্রুত চালু করে জনগণের সেবায় কাজে লাগানো হোক।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কার্যালয়ে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ঢোকার চেষ্টা, নেপথ্যে কী পরিকল্পনা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২১ এএম
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কার্যালয়ে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ঢোকার চেষ্টা, নেপথ্যে কী পরিকল্পনা?

নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশও করেছেন– এরকম খবর উঠে আসছে সংবাদ মাধ্যমে।

দলের নির্দেশে, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন, নাকি এর পেছনে বিএনপি বা জামায়াত বা অন্য কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে– এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সে কারণে তারা এই নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচনের পরপরই নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বেশ কিছু জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছে বা প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আবার কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পরপর পাল্টা দখল ও হামলারও ঘটনা ঘটেছে।

এ ধরনের তৎপরতার পেছনে কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে।

আত্মগোপনে থাকা দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলছেন, দলের কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যেতে বাধা নেই বলেই মনে করেন তারা।

“এখানে নির্দেশনা বা সমঝোতার কিছু নেই। কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। ইউনূসের অবৈধ সরকারের বিদায়ের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার জন্য উন্মুক্ত হবে এটা আশা করে তৃণমূলের কর্মী- সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছে বা যেতে চাইছে,” বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিলো সরকার।

দলীয় নির্দেশনা, নাকি কর্মীদের নিজেদের উদ্যোগ?

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপনের শেষ দিকে উল্লেখ করা হয়েছিল, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো”।

তবে ইউনূস সরকারের সময়েও দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করেছেন।

এছাড়া দলটির অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের পক্ষে ও সরকারের বিপক্ষে মতামত বা প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে তাদের ‘নো বোট, নো ভোট’ প্রচারণাও অনেকের চোখে পড়েছে।

২০২৪ সালের অগাস্টের পর নিজ জেলায় অবস্থান করতে পারেননি রিহান সরদার নামে ছাত্রলীগের একজন কর্মী।

এরপর ঢাকায় অবস্থান নিয়ে ঝটিকা মিছিলসহ নিজেদের উদ্যোগেই নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন বলে জানান তিনি।

বিবিসি বাংলাকে রিহান সরদার জানান, তারা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনারই একটি বার্তা পেয়েছেন, যেখানে তিনি সারাদেশে যার যেখানে সম্ভব দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

“মূলত এরপর থেকেই সব জায়গায় এ চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক, যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই যাচ্ছে,” বলছিলেন মি. সরদার।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তৃণমূল নেতাদের সাথে যেসব আলোচনা করেন সেখানেই তিনি কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে এ পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়ে সেখানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটি কর্মীদের কিছুটা সাহস যুগিয়েছে বলে মনে করেন রিহান সরদার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তারা কর্মীদের দলীয়ভাবে উৎসাহিত করছেন, কারণ দলীয় কার্যালয়ে যেতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

“আওয়ামী লীগ দেশের বড় রাজনৈতিক দল, দলটির কর্মীরা কার্যালয়ে যাবে এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার,” বলছিলেন তিনি।

এছাড়াও দলটির কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে যে ধারণা পাওয়া গেছে তা হলো- নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভোটের সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন।

সে সময়ই অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের ওই নেতারা নির্বাচনের পর তাদের কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে কিংবা বাধা দেওয়া হবে না- এমন আশ্বাস পেয়েছেন।

তবে কোনো কোনো জায়গায় আশ্বাস দেওয়া বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নিজ দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ এখন আবার তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে কার্যালয় খোলার পরেও কয়েকটি জায়গায় আবার হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলছেন, তারা আশা করছেন এসব বিপত্তি কেটে যাবে এবং সরকার শিগগিরই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

পঞ্চগড় থেকে শুরু

নির্বাচনের পর দিনই আলোচনায় আসে পঞ্চগড়ের আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও। বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় একজন নেতার উপস্থিতিতে তালা খোলার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, এই কার্যালয়টি যে আওয়ামী লীগের তা তিনি জানতেন না।

এরপর গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা কার্যালয় এবং খুলনায় কার্যালয় খুলে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, জামালপুর রাজবাড়ীসহ আরও কয়েকটি এলাকায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্ধ থাকা কিছু কার্যালয় খোলার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন নেতা-কর্মীরা- এমন খবরও এসেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।

আবার কোনো কোনো জায়গায় কার্যালয় খোলার পর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এসে পাল্টা হামলা করেছে বা কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে- এমন ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলার পর সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় একদল নেতাকর্মী। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে গাড়ির টায়ারে আগুন জ্বালানো হয়।

কেন্দ্রীয় ও সভানেত্রীর কার্যালয়

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরই ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়। অনেক জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

ধানমন্ডিতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ধানমন্ডি ৩২’ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠা বাসভবনও ভাঙা হয়েছে এ সময়ের মধ্যে।

বাহাউদ্দিন নাছিমের মতে, সারাদেশেই তাদের দলীয় কার্যালয়গুলোতে হামলার পর দখল করা হয়েছিল এবং তিনি মনে করেন যারা দখল করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তারাও সরে যাওয়ায় এখন কার্যালয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দশ তলা ভবনটিতে ব্যাপক হামলার পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর। এরপর একদল ব্যক্তি ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইন্সটিটিউট’ লেখা একটি ব্যানার সেই ভবনে ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

এছাড়া তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর থেকে এই তিন ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

এবার নির্বাচনের একদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে কয়েকজন নেতাকর্মী।

এরপর ২০শে ফেব্রুয়ারি সংবাদ মাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দলটির কয়েকজন নারী কর্মী ধানমন্ডিতে দলটির সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো যে ভবনটি, তার সামনে গিয়ে জাতীয় পতাকা টানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, নির্বাচনের পর যেসব জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার তথ্য এসেছে সেখানে অনেক জায়গাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

“আমার মনে হয় নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং এখন তাদের কাছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্ব পাবে। আওয়ামী লীগকে ছাড়া বিগত সরকার নির্বাচন করে গেছে। দলটির কর্মী-সমর্থকরা দেশে আছে এবং অনেকে কারাগারে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির কার্যালয় খোলা বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পেলে তা ইতিবাচকই হবে,” বলছিলেন তিনি।

আরেকজন বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আবার শুরুর একটি প্রক্রিয়ার হয়তো সূচনা হয়েছে কার্যালয় খোলার তৎপরতার মাধ্যমে।

“গত সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি। কিন্তু তার মানে এই না যে দলটি সবসময় নিষিদ্ধ থাকবে।

আবার আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকারকে গ্রহণ করেনি, কিন্তু নির্বাচিত সরকারকে তারা প্রত্যাখ্যানও করেনি। তাছাড়া বিভিন্ন দলকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার উদাহরণ বিএনপির আগেও আছে,” বলেছেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

হঠাৎ বমি, রোজা কি ভেঙে গেল? ইসলাম কী বলে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৪ এএম
হঠাৎ বমি, রোজা কি ভেঙে গেল? ইসলাম কী বলে

মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকেন পবিত্র রমজান মাসে। আত্মশুদ্ধির সাধনায় নিবেদিত থেকে আল্লাহর রহমত এবং সান্নিধ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ পেতে মাসজুড়ে উপবাস করাই রমজানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

রোজা রাখার বেশ কিছু নিয়ম আছে। সঠিকভাবে রোজা পালন করতে ছোট ছোট বিষয় জানা জরুরি। এর মধ্যে অনেকেই জানতে চান, রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান ও বেহুশ হয়ে পড়লে কি রোজা ভেঙে যাবে কি না।

ইফতার ও সেহরির টাইম জানতে ক্লিক করুন..

এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, বমির পরিমাণ বেশি হোক বা কম, সেটা খাদ্য বমি হোক বা রক্ত বমি, মনে রাখতে হবে, রোজা হলো পানাহার না করার নাম। বমি হলে তো পানাহার করা হয় না; বরং তার বিপরীত হয়। তাই রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙবে না।

তবে বমি হওয়ার পর রোজা পালনে সক্ষম হলে তা পূর্ণ করবে; অক্ষম হলে রোজা ছেড়েও দিতে পারবে। এ রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা প্রয়োজন হবে না। বমি মুখে আসার পর তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এমতাস্থায় কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আদায় করতে হবে।

হাদিসে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন রোজার কাজা করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৭২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/১৮০; আল বাহরুর রায়েক : ২/২৪৭)

অনুরূপভাবে কোনো কারণে অজ্ঞান হলে (যাতে সাধারণত রোজার বিপরীত কিছু ঘটে না) রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনে পানাহার বা ওষুধ সেবনে রোজা ভাঙলে পরে কাজা আদায় করে নিতে হবে।