খুঁজুন
, ,

যে ৫ কারণে আপনি এখনো সিঙ্গেল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
যে ৫ কারণে আপনি এখনো সিঙ্গেল?

বর্তমান সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিলেশনশিপের নানা গল্প চোখে পড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপের যুগে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠা যায়। তবে এই আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মাঝেও অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা বিয়ের দিকে এগোতে পারেন না।

এমন পরিস্থিতিতে কেন কেউ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে, তার পেছনে রয়েছে কিছু সাধারণ কারণ। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের আলোকে জেনে নিই পাঁচটি মূল কারণ।

১. উচ্চ মানদণ্ডে আটকে থাকা

নিজের সঙ্গীকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কখনো মানুষ নিজের অনুশীলিত মানদণ্ডের ফাঁদে আটকে পড়ে। উচ্চতা, চোখের রঙ, পেশা বা অন্য কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ায় অনেকেই সম্ভাব্য সঙ্গীকে বাদ দেন। কিন্তু প্রকৃত সম্পর্ক কখনোই কেবল শর্ত পূরণের মধ্যে নিহিত নয়; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষ আপনাকে কেমন অনুভব করায়, তার ওপর সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়।

২. নিজেকে প্রকাশ করতে না পারা

অনেকেই ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলেন বা সামাজিক মাধ্যমে নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলে সম্পর্ক এগোবে না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, শখ ও ভালোলাগা শেয়ার করা—এগুলো সম্পর্কের পথে প্রথম ধাপ। শুধু অনলাইনে সক্রিয় থাকা যথেষ্ট নয়।

৩. আগের সম্পর্কের ক্ষত থেকে বের হতে না পারা

অনেক সময় মানুষ নতুন সম্পর্কে যেতে চাইলেও অতীতের সম্পর্কের স্মৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি শেষ সম্পর্কটি ঠিকভাবে না শেষ হয়, তাহলে নতুন সম্পর্কের পথ কঠিন হয়। অতীতকে ঠিকভাবে সমাপ্ত করতে না পারলে নতুন সম্পর্কের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা যায় না। সত্যিকার অর্থে নতুন সম্পর্কের জন্য নিজেকে মুক্ত করা অপরিহার্য।

৪. দুর্বলতা প্রকাশে ভয় পাওয়া

সম্পর্ক মানে শুধু সুখ ভাগাভাগি নয়; নিজের দুর্বলতা ও অসহায়তা শেয়ার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখে, তবে কেউ তাকে সত্যিকার অর্থে চেনে না। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করাকে দুর্বলতা মনে করা ঠিক নয়; বরং এটি একটি বিশেষ ক্ষমতা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা ও খোলামেলা মনোভাব সম্পর্ককে গভীর করে।

৫. পরিপূর্ণতার জন্য অপেক্ষা করা

পরিপূর্ণতা একটি ভ্রান্ত ধারণা। পৃথিবীতে কোনো কিছুই নিখুঁত নয়, এবং সম্পর্কও ব্যতিক্রম নয়। নিখুঁত সঙ্গী বা ‘সঠিক মুহূর্ত’ খুঁজে বের করার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করলে সম্পর্কের সুযোগ হাতছাড়া হয়। ভালো সম্পর্কগুলো কোনো পরিকল্পিত কৌশল বা সময়ের জন্য অপেক্ষার মাধ্যমে হয় না; এগুলো স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত, সম্পর্কের পথে এগোনোর জন্য প্রয়োজন নিজের মানসিক প্রস্তুতি, সততা এবং সাহস। আপনার সঙ্গী হয়তো ঠিক এখানে, শুধু আপনাকেই এগিয়ে যেতে হবে। সম্পর্ক মানে অপেক্ষা নয়—এটি শুরু করার সাহস নেওয়াই মূল চাবিকাঠি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামের বদলি, নতুন এসপি শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামের বদলি, নতুন এসপি শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া একই প্রজ্ঞাপনে সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। পুলিশে পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ অর্জন করেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে ২৯ নভেম্বর তিনি ফরিদপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় সাত মাস দায়িত্ব পালন শেষে এবার তাকে সিআইডিতে বদলি করা হলো।

ফরিদপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের ধুলদী এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে চার কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত শহরের ফরিদপুর-রাজবাড়ী মহাসড়কের ধুলদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ রেইডিং টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তল্লাশি চালিয়ে চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই সাগর আহমেদ (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতার সাগর আহমেদ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোকলেছুর রহমান এবং মায়ের নাম লুৎফুন্নেছা।

অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে চার কেজি গাঁজা, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। জব্দকৃত আলামত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”

দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি মূল্যবান হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে ও ঘষামাজা করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে দুদকের করা মামলায় আদালতে হাজির হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (দলিল নং-৪০৬৭, তারিখ ১৫ মে ২০১৭) জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজন পরস্পরের যোগসাজশে দলিলের মূল কপির ষষ্ঠ পৃষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে এবং ঘষামাজা করে দলিলের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তন করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দলিলে থাকা স্ট্যাম্প নং-০৩১৭১৯৭-এর শেষ লাইনের পর “যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন” অংশটি অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। পরে পরিবর্তিত দলিলটি বালামভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক স্বাক্ষরও সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে দলিলের প্রকৃত গ্রহীতা ও অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে প্রায় ৯ শতাংশ জমির দখল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের মামলা নং-০২ (দুদক জি.আর-৬/২৬) হিসেবে রুজু করা হয়।

মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়া, তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান, নকলকারক মনোয়ার হোসেন, পাঠক মো. জাহিদ শেখ এবং দলিলের দাতা মো. জিন্নাহ শেখ।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে যদি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মামলাটি ফরিদপুরে সরকারি নথি জালিয়াতি ও ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।