খুঁজুন
, ,

সঙ্গী আপনাকে আর্থিকভাবে ঠকাচ্ছেন কি না, খেয়াল করুন ৫ লক্ষণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
সঙ্গী আপনাকে আর্থিকভাবে ঠকাচ্ছেন কি না, খেয়াল করুন ৫ লক্ষণ

দাম্পত্য জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক সুখী গৃহকোণ বিষিয়ে দিচ্ছে একটি নীরব সমস্যা; যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘আর্থিক বিশ্বাসঘাতকতা’।

আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন আর বাজেটিং নিয়ে মাসের পর মাস পরিকল্পনা চললেও, বিয়ের পর সংসার খরচ কীভাবে চলবে তা নিয়ে দম্পতিরা খুব কমই খোলামেলা আলোচনা করেন। সবাই ধরে নেন যে বিয়ের পর সবকিছু ‘এমনিতেই’ ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু এই আলোচনার অভাবই মূলত ভবিষ্যতের বড় কোনো ঝামেলার সূত্রপাত করে।

আর্থিক প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতকতা মানেই যে কেবল বড় কোনো জালিয়াতি বা ব্যাংক ব্যালেন্স খালি করে দেওয়া, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় এটি শুরু হয় খুব ছোট ছোট গোপনীয়তা বা অস্বচ্ছতা থেকে। যেমন: সঙ্গীর কাছে নিজের ব্যয়ের কথা গোপন করা, আয়ের তথ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা দাম্পত্যকে অংশীদারিত্বের বদলে কেবল নিজের আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। যখন সম্পর্কের মাঝে অর্থের এই অস্বচ্ছতা চলে আসে, তখন তা কেবল পকেটে টান ফেলে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসের ভিতকেও নাড়িয়ে দেয়।

আপনার জীবনসঙ্গী কি সচেতনভাবে বা নিজের অজান্তেই আপনাকে আর্থিকভাবে ঠকাচ্ছেন? নিচের ৫টি লক্ষণের মাধ্যমে আপনি বিষয়টি সহজে বুঝে নিতে পারেন—

১. তোমার আয় সংসারের জন্য, আমারটা কেবল জমানোর জন্য

অনেক পরিবারেই দেখা যায় স্বামীর বেতন থেকে সব খরচ; যেমন ইএমআই, ঘর ভাড়া, স্কুলের ফি, বাজার, এমনকি ছোটখাটো অনলাইন অর্ডারের বিলও মেটানো হয়। অন্যদিকে স্ত্রীর আয় সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কেবল নিজের নামে সঞ্চয় করা হচ্ছে। সঞ্চয় করা অবশ্যই ভালো অভ্যাস, কিন্তু যখন ভারসাম্য থাকে না এবং একজন সব খরচ করে নিঃস্ব হয়ে যান আর অন্যজন গোপনে নিজের সম্পদ (যেমন এফডি, সোনা বা জমি) বাড়াতে থাকেন, তখন সেখানে অস্বচ্ছতা কাজ করে। বিয়ের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক অংশীদারিত্বের, যেখানে অন্তত খরচের ব্যাপারে সঠিক তথ্য আদান-প্রদান থাকবে।

২. নিজের পরিবারের জন্য মুক্তহস্ত কিন্তু আপনার পরিবারে অনীহা

এটি অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি করে। স্ত্রী যদি নিজের পরিবারের বা ভাই-বোনের প্রয়োজনে বড় অংকের টাকা খরচ করতে দ্বিধা না করেন, কিন্তু স্বামীর বাবা-মায়ের প্রয়োজনে খরচ করতে গেলেই তাকে ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয়’ বা ‘ভুল পরিকল্পনা’ বলে অভিহিত করেন, তবে তা একটি অশঙ্কাজনক লক্ষণ। এই ধরণের বৈষম্য দাম্পত্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের জন্ম দেয়।

৩. কেনাকাটা, সঞ্চয় বা ঋণের গোপনীয়তা

বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন শপিংয়ের যুগে টাকা খরচ করা বা গোপন করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। যদি দেখেন ঘরে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পার্সেল আসছে কিন্তু আপনি জানেন না এর টাকা কোথা থেকে আসছে, অথবা তিনি আপনার অজান্তে ক্রেডিট কার্ড বা লোন নিচ্ছেন; তবে বুঝতে হবে সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কেনাকাটা করা দোষের কিছু নয়, কিন্তু বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত বা খরচ যদি জানাজানি হওয়ার ভয়ে গোপন করা হয়, তবে তা কেবল টাকার সমস্যা নয়, বরং বিশ্বাসের ঘাটতি।

৪. আবেগী ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক চাপ সৃষ্টি

অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে কোনো যৌক্তিক প্রশ্ন তুললে যদি আপনাকে ‘কিপটে’, ‘অসাপোর্টিভ’ বা ‘সংকীর্ণমনা’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়, তবে এটি আর্থিক নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল হতে পারে। অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা রক্ষার চাপে পড়ে স্বামীরা লোন নিতে বা সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্যগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুস্থ দম্পতিরা অর্থের বিষয়ে একটি দলের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।

৫. দাম্পত্যকে কেবল ‘আর্থিক নিরাপত্তা’ হিসেবে দেখা

আপনার সম্পর্কটি কি সত্যিই একটি অংশীদারিত্ব নাকি কেবল একজনের জন্য আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম? স্ত্রী যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও যৌথ দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং কেবল আপনার আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চান, তবে তা দাম্পত্যের মূল আদর্শের পরিপন্থী। আধুনিক দাম্পত্যে দায়িত্ব কেবল একজনের কাঁধে থাকা সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে, ঠিক সেই সময় নির্বিচারে মাছ ধরায় জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নালা ও নদীর বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”

একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় এ ধরনের অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”