খুঁজুন
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

কোন সময় বজ্রপাত বেশি হয়, নিরাপদ থাকতে যা করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
কোন সময় বজ্রপাত বেশি হয়, নিরাপদ থাকতে যা করবেন?

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতু বদলায়, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় আকাশের রূপ। বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদাহের পরেই আসে কালবৈশাখীর গর্জন। তবে এই ঝড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী আতঙ্ক ‘বজ্রপাত’।

প্রতি বছর এই বজ্রপাতে দেশে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জীবনযাত্রাবিষয়ক আজকের ফিচারে আমরা জানব ঠিক কখন বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং জীবন বাঁচাতে আমাদের করণীয় কী।

বজ্রপাতের মোক্ষম সময় কখন?

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। তবে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব ও প্রাণহানি দেখা যায় বৈশাখ মাসে, অর্থাৎ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। বছরের বাকি ৫১ শতাংশ বজ্রপাত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে, তবে সেগুলোকে কালবৈশাখী না বলে সাধারণ বজ্রঝড় হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বজ্রপাতের সময়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। যেমন: দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়, কিন্তু পূর্বাঞ্চলে তা হয় সন্ধ্যার পরে। আকাশে কালো মেঘ বা ‘বজ্রমেঘ’ দেখে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা আগেই ঝড়ের আভাস পাওয়া সম্ভব।

কেন বাড়ছে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতিই বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কৃষক, জেলে বা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা ঝড়ের সময় বাইরে থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং অসচেতনতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিরাপদ থাকতে করণীয়

বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

১. বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ হলো ঘরের ভেতর থাকা। ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে যত দ্রুত সম্ভব কোনো দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদ বা উঁচু স্থানে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়।

২. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে অবস্থান করলে জানালার কাছাকাছি ও বারান্দায় থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভিতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।

৩. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না, সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

৪. বজ্রপাতের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং এগুলো বন্ধ রাখুন।

৫. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার বা ধাতব খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।

৬. বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করবেন না। জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তবে অবশ্যই রাবারের জুতা পরিধান করতে হবে।

৭. যদি আপনি বজ্রঝড়ের সময় খোলা মাঠে থাকেন এবং কাছাকাছি কোনো আশ্রয় না থাকে, তবে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়ুন। তবে মাটির উপর শুয়ে পড়া যাবে না।

৭. বজ্রপাতের সময় নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া উচিত নয়। যদি নৌকায় থাকাকালীন ঝড় শুরু হয়, তবে দ্রুত নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

৮. বজ্রঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।

৯. কোন বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

১০. বজ্রপাতে কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মত করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। বজ্র আহত ব্যক্তির শাস-প্রশ্বাস ও হ্রদ স্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

১১. খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে সরে যান।

প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তিকে থামানোর সাধ্য আমাদের নেই, কিন্তু সচেতনতা আর সঠিক পদক্ষেপই পারে অকাল মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে। মনে রাখবেন, বজ্রপাতের সময় সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার

বনানীর বীর উত্তম জিয়াউর রহমান সড়কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে বহনকারী গাড়িতে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাসচালক ওমর ফারুককে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বনানী থানার বীর উত্তম জিয়াউর রহমান সড়কের আউটগোয়িং এলাকায় চেয়ারম্যানবাড়ি ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি বাসের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটির সংঘর্ষ হয়।

এতে তার গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসচালককে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর গানম্যান বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্ট পরিবহনের ওই বাস চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

ফরিদপুরে স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের কাঁচা কলা, শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের কাঁচা কলা, শিক্ষিকা বরখাস্ত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচি ঘিরে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগে উঠেছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোলাপী বেগম নামের ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন।

তিনি বলেন, বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক গত ২৫ এপ্রিল স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ করেন এবং পরদিন তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এছাড়া এই বিষয়টি আমাদের কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে ২৮ এপ্রিল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বলেন, স্কুল ফিটিং এর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন মানহীন খাবার সরবরাহ বিষয়টি আমরা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি, তার বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

নগরকান্দায় ট্রলির নিচে পিষ্টে প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রীর, চালক পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ট্রলির নিচে পিষ্টে প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রীর, চালক পলাতক

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় মাটিবাহী ট্রলির চাপায় পিষ্ট হয়ে মরিয়ম (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নগরকান্দা বাজার সংলগ্ন মুন্সী শফিউদ্দিন ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নগরকান্দা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্রী মরিয়ম রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি মাটিবাহী ট্রলির নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়।

পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মরিয়ম নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজলি গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজ্জাকের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে নগরকান্দা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত এবং স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক যানটি ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে উত্তেজিত জনতা ট্রলিটি আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রলিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”