প্রতিদিন ইসবগুল খাচ্ছেন? আগে জেনে নিন ৫টি ভুল বিশ্বাস
উপমহাদেশের ঘরোয়া চিকিৎসায় বহু বছর ধরেই পরিচিত একটি নাম ইসবগুল। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে হজমের নানা সমস্যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটি ব্যবহার করে আসছে। প্রাকৃতিক আঁশসমৃদ্ধ এই উপাদান সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং তুলনামূলকভাবে মৃদু কার্যকারিতার জন্য এখনো অনেকের রান্নাঘরের তাকেই জায়গা করে আছে।
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ইসবগুলকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা ভুল ধারণাও। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ফিটনেস কোচ রালস্টন ডি’সুজা। তিনি ইসবগুল নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি সাধারণ মিথ ভেঙে দিয়েছেন একে একে।
১. ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়
অনেকেই মনে করেন, ইসবগুল কোনো প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম পণ্য। বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। ইসবগুল, যার ইংরেজি নাম সিলিয়াম হাস্ক, মূলত Plantago ovata উদ্ভিদের বীজের বাইরের খোসা। অর্থাৎ এটি একধরনের দ্রবণীয় আঁশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
ফিটনেস কোচ রালস্টনের ভাষায়, এতে কোনো কৃত্রিম বা সিনথেটিক উপাদান নেই, এটি সরাসরি উদ্ভিদজাত উৎস থেকে পাওয়া যায়। আর এই সরলতাই একে হজমের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলেছে।
২. ইসবগুল খেলে অভ্যাস হয়ে যায়
আরেকটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, একবার ইসবগুল শুরু করলে তা ছাড়া মলত্যাগ সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণা সঠিক নয়।
ইসবগুল কোনো স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ নয়, অর্থাৎ এটি অন্ত্রকে জোর করে সক্রিয় করে না। বরং পানি শোষণ করে জেলির মতো অবস্থা তৈরি করে, মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ সহজ করে।
রালস্টন ডি’সুজা বলেন, এটি অন্ত্রের সঙ্গে কাজ করে, অন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়। তাই এটি অভ্যাস তৈরির মতো কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. ইসবগুল খেলেই গ্যাস হয়
হঠাৎ করে বেশি আঁশ খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হওয়া স্বাভাবিক। এটি শুধু ইসবগুল নয়, ওটস, চিয়া সিড, ফল বা শাকসবজি—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাই এখানে মূল বিষয়। রালস্টনের ভাষায়, গ্যাস হওয়া মানে আপনার অন্ত্র নতুন আঁশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। ধীরে ধীরে বাড়ালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই মানিয়ে নেয়।
৪. প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকর
অনেকে মনে করেন, নিয়মিত ইসবগুল খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। বাস্তবে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে প্রতিদিন ইসবগুল গ্রহণ করা নিরাপদ।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন, কিন্তু বেশিভাগ মানুষই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ইসবগুল সহজেই সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে শর্ত একটা, যথেষ্ট পানি সহ গ্রহণ করতে হবে।
৫. ইসবগুলের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে
সঠিকভাবে গ্রহণ করলে ইসবগুল সাধারণত নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কখনোই শুকনো অবস্থায় খাওয়া যাবে না। শুকনো ইসবগুল গলায় আটকে যেতে পারে বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। সবসময় এক গ্লাস পূর্ণ পানির সঙ্গে এটি গ্রহণ করতে হবে, যাতে এটি নিরাপদভাবে ফুলে উঠে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুরুতে প্রতিদিন ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করুন, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ান। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ইসবগুলের বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
শেষকথা
হজম ভালো রাখা মানেই সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি মজবুত করা। ইসবগুল সেই প্রক্রিয়ায় একটি সহজ ও প্রাকৃতিক সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো স্বাস্থ্য উপাদানের মতো এটিও সঠিক নিয়মে, পরিমিত মাত্রায় এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন
Array