খুঁজুন
, ,

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়

তীব্র দাবদাহ চলছে দেশজুড়ে। গরমে কেউই স্বস্তিতে নেই।

শুধু গরম লাগা বা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ার কষ্ট নয়, এই তীব্র গরমে হতে পারে হিট স্ট্রোক বা এরকম নানা শারীরিক জটিলতা। তবে একটু চেষ্টা করলেই এই প্রচণ্ড গরমেও এসব জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

‘হিট স্ট্রোক’ কথাটির মাধ্যমেই বোঝা যায় যে, তাপ থেকে স্ট্রোক হতে পারে। গরমে যেকোনো সময় যে কেউই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

হিট স্ট্রোককে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মারাত্মক শারীরিক অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। হিট স্ট্রোকের রোগীর দ্রুত চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, কিডনি ও শরীরের নানা অঙ্গে তার প্রভাব পড়তে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গে অসাড়তা, কোমা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?

* শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়া, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটও হয়ে যেতে পারে। এ সময় তেমন ঘাম হয় না।

* শরীরের ভারসাম্যে সমস্যা হতে পারে, কথা জড়িয়ে যেতে পারে, ব্যবহারে অসংলগ্নতা টের পাওয়া যায়।

* মাথা ঘোরা ও বমি হতে পারে।

* ত্বকের রং হঠাৎই লাল হয়ে যেতে পারে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে ত্বকের রংও লাল হয়ে যায়।

* শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হয়ে যায়, হৃদস্পন্দনও বেড়ে যেতে পারে।

* মাথায় প্রবল ব্যথা অনুভব হতে পারে।

* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

* খিঁচুনি ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত যা করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারো মধ্যে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত তাকে ছায়ার মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। গায়ের অতিরিক্ত কাপড় খুলে ফেলে রোগীকে শীতল করার ব্যবস্থা করতে হবে। মোজা-জুতা খুলে ফেলতে হবে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠাণ্ডা বা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। বিশেষ করে রোগীর বগল, কুঁচকি, ঘাড়সহ নানা স্থান ভেজা তোয়ালে দিয়ে বারবার মুছে দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে দিয়ে পা একটু উঁচু বা মাথা একটু নিচের দিকে রাখাটা ভালো।

রোগীর জ্ঞান থাকলে পানি, ডাবের পানি, ফলের শরবত অথবা খাবার স্যালাইন পান করতে দিতে হবে। যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া লাগবে। এ অবস্থায় ঘরে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই।

প্রতিরোধে করণীয়

* সূর্যের রোদের সবচেয়ে প্রখরতার সময়টুকু এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজনে সে সময় ছাতা নিয়ে বের হোন। কিংবা বড় কোনো হ্যাট ও সানগ্লাস রাখুন বাইরে বের হওয়ার সময়।

* শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখুন। গরমে ও রোদে প্রচুর পরিমাণ পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন খান।

* দুপুরের প্রচণ্ড রোদে ভারী কাজ বা শারীরিক ব্যায়াম করবেন না।

* গরমে বাইরে বেরোলে সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরুন।

* গরমের সময় চা, কফি, সিগারেট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দেয়।

* শরীর ঠান্ডা রাখে এমন খাবার খান

 

সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

ক্লাস চলার সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

​উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমি নিয়ে মেহেরদিয়া গ্রামের মো. কালাম মুন্সীর সঙ্গে নুর ইসলাম মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সী তাঁর ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে নুর ইসলামের সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন।

​এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা।

​এ ঘটনায় কালাম মুন্সী ও শাহজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক (চাকরিচ্যুত) দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

​পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করার ছলে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিমন ও সাকার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ছিনতাই করা ইজিবাইকগুলো মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

​পরে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করে ডিবি। খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বর্তমানে রঘুনন্দনপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

​অভিযানে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় রূপগঞ্জে ডাকাতি হওয়া মোটরসাইকেলটি। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।