গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?
সিনেমা, টিভি শো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, ‘ড্রাইভ ইট লাইক আ রেন্টাল।’ অর্থাৎ রেন্টাল বা ভাড়া গাড়ি এমনভাবে চালানো, যেন সেটি নিজের নয়। কারণ, অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাড়িটি নিজের টাকায় কেনা নয়, তাই এটিকে একটু বেপরোয়াভাবে চালালেও সমস্যা নেই।
কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল। রেন্টাল গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং এর ফলে অতিরিক্ত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মতো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল গাড়ি চালানোর সময় সেটিকে নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি না তোলা এবং অবশ্যই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা; এসব নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
তবে রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়মও রয়েছে। গাড়ি নেওয়ার আগে এসব নিয়ম জানা থাকলে সময়, অর্থ ও ঝামেলা—সবই বাঁচানো সম্ভব। কারণ অধিকাংশ রেন্টাল কোম্পানিরই একটি ‘ডু নট রেন্ট’ তালিকা থাকে, যেখানে সমস্যাজনক গ্রাহকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একবার সেই তালিকায় চলে গেলে ভবিষ্যতে আবার রেন্টাল গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো প্রায় একই। তাই রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিচে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।
১. গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করবেন না
রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে পোষা প্রাণীর লোম, খাবারের প্যাকেট বা তরল কিছু পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়। না হলে কোম্পানি অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বড় অঙ্কের ফি নিতে পারে।
ধূমপানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। বেশিভাগ রেন্টাল কোম্পানিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান করলে প্রায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ক্লিনিং ফি নেওয়া হয়। অর্থাৎ একবার সিগারেট ধরালেই আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে।
এমনকি গাড়ি নেওয়ার সময় যদি আগেই সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্রুত কোম্পানিকে জানানো উচিত। না হলে আগের ব্যবহারকারীর কারণে আপনাকেই জরিমানা দিতে হতে পারে।
একই নিয়ম ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানিই ধূমপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্যাপিংকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে গিয়ে ধূমপান করা উত্তম।
২. গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে জ্বালানি ভরতে ভুলবেন না
রেন্টাল গাড়ি নেওয়ার সময় সাধারণত ট্যাংকে যতটুকু জ্বালানি থাকে, ফেরত দেওয়ার সময়ও ঠিক ততটুকুই থাকতে হয়। ধরা যাক, আপনি গাড়িটি অর্ধেক ট্যাংক জ্বালানি নিয়ে পেয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়ার সময়ও সেটি অর্ধেক ট্যাংক থাকা উচিত।
যদি তা না করেন, তাহলে রেন্টাল কোম্পানি নিজে জ্বালানি ভরে তার মূল্য আপনার কাছ থেকে আদায় করবে। তবে তারা সাধারণ পাম্পের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি চার্জ করে।
কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করার ঘটনাও রয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম প্রায় ৩.৩০ ডলার, সেখানে অতিরিক্ত বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে। তাই গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে নিজেই জ্বালানি ভরে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
৩. টোল রোডের বিকল্প পথ না খোঁজা
টোল রোডে চলাচল সাধারণ চালকদের জন্য খুবই সহজ—গাড়ি চালিয়ে যান, টোল দিন, কাজ শেষ। বিভিন্ন দেশের আধুনিক অনেক টোল প্লাজায় আবার থামতেও হয় না; ট্রান্সপন্ডার বা সেন্সরের মাধ্যমে টোল কেটে নেওয়া হয়।
কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত হতে পারে। রেন্টাল কোম্পানিগুলো সাধারণত দুইভাবে টোল ব্যবস্থাপনা করে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফি কেটে টোল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অথবা পরে বিল পাঠিয়ে টোলের সঙ্গে প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত করা। এই চার্জগুলো দ্রুতই বড় অঙ্কে পৌঁছে যেতে পারে।
তাই নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সম্ভব হলে টোল রোড এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা নিয়মিত টোল রোড ব্যবহার করেন, তারা নিজের ট্রান্সপন্ডার সঙ্গে এনে রেন্টাল গাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন।
৪. অন্য কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া
অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পালা করে গাড়ি চালানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল হতে পারে।
যদি আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বীমা সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু বীমা নীতিতে গাড়ি কভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট চালককে কভার করা হয়। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির বীমা ব্যবহার করেন, তাহলে অনেক সময় ‘পারমিসিভ ইউজ’ সুবিধা থাকে, অর্থাৎ অন্য কেউ গাড়ি চালালেও কভারেজ থাকে।
কিন্তু রেন্টাল কোম্পানির বীমা নিলে সাধারণত চালকের নাম চুক্তিতে যুক্ত থাকতে হয়। তাই একাধিক ব্যক্তি গাড়ি চালালে তাদের নাম আগেই চুক্তিতে যুক্ত করা জরুরি।
৫. দুর্ঘটনায় গাড়ির ক্ষতি করা (বীমা থাকলেও)
দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। এতে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীও আহত হতে পারেন।
রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ রেন্টাল কোম্পানিগুলো গাড়ি মেরামতের পুরো খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জও নিতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত বীমা রেন্টাল গাড়িকে কভার না করে এবং কোম্পানির বীমাও না নেন, তাহলে পুরো ক্ষতিপূরণই আপনাকে দিতে হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় বীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই নিরাপদে গাড়ি চালানো। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, গতিসীমা মেনে চলা, টার্ন সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম নেওয়া; এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সূত্র : স্ল্যাশগিয়ার

আপনার মতামত লিখুন
Array